Biography

Author Picture

ড. আব্দুল্লাহ আযযাম

জন্ম : ১৯৪১ সালে ফিলিস্তিনে।
শিক্ষা-দীক্ষা : গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন। তুলকারামের খুদূরিয়া কলেজ থেকে ডিপ্লোমা এবং দেমেশ্ক বিশ্ববিদ্যায়ের শরীয়হ বিভাগ থেকে লেসান্স ডিগ্রি অর্জন। আলআযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ্ বিভাগ থেকে মাষ্টার্স ডিগ্রি অর্জন। ১৯৭৩ সালে আলআযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উসূলে ফিকাহ্র উপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন। সিরিয়ার বিখ্যাত আলেম মোল্লা রমাযান ও বিখ্যাত মুজাহিদ শহীদ র্মওয়ান হাদীদের সাহচর্য লাভ এবং তাদের তাক্ওয়া ও তাগুত বিরোধী জিহাদ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া।
শিক্ষকতা : ১৯৭০ - ১৯৮০ পর্যন্ত জর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে শরীয়াহ্ বিভাগে অধ্যাপনা। ১৯৮১ সালে পবিত্র মক্কার বাদশাহ্ আবদুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর অধ্যাপনা এবং সেখান থেকে পাকিস্তানের ইসলামাদ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অথিতি প্রফেসর হিসেবে যোগদান। ১৯৮৩ সালে বাদশাহ আবদুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নিতে চাইলে শিক্ষকতার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রত্যক্ষ ভাবে আফগান মুজাহিদদের পাশে দাঁড়ানো।
ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ততা : স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেনীতে পদার্পনের সময় থেকে ইখওয়ানুল মুসলিমীনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া। মেধা ও সততায় আকৃষ্ট হয়ে জর্দান ও ফিলিস্তিন অঞ্চলের ইখওয়ানুল মুসলিমীনের মুরাকিবে আম (প্রধান যিম্মাদার) শায়খ আবু মাজেদের ওই সময় থেকে তার (শহীদ আযযাম) গ্রামে একাধিকবার গমন করা।
জিহাদে অংশগ্রহণ : ১৯৬৭ সালে ইয়াহুদীদের হাতে পশ্চিম তীর ও গাজার পতনকাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের জিহাদে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দান। ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৯ সালে শাহাদতের পূর্ব পর্যন্ত আফগান জিহাদে অংশগ্রহণ, দিকনির্দেশনা প্রদান, মুজাহিদদের সার্বিক সহযোগিতা দানের জন্য পেশোয়ারে মাকতাবু খিদমাতিল মুজাহিদীন (মুজাহিদদের সেবা কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা এবং আফগান জিহাদের পক্ষে বিশ্ব মুসলমানের বিশেষত আরবদের অংশগ্রহণ, সমর্থন ও আর্থিক সহযোগিতা লাভের জন্য বিরামহীন চেষ্টা চালিয়ে আফগান ইসলামী জিহাদকে আঞ্চলিক জিহাদ থেকে আন্তর্জাতিক ইসলামী জিহাদে রুপান্তরিত করা।
মুজাহিদ তৈরী : ১৯৬৮ সালে উত্তর জর্দানে ফিলিস্তিনের জিহাদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, শিক্ষকতাকালে উম্মাহ্র মর্যাদা ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ জিহাদের প্রতি ছাত্রদেরকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং আফগান জিহাদে অংশগ্রহণের পর থেকে শাহাদতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত লিখনী ও চিত্তাকর্ষক বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলমানকে বিশেষত আরবদেরকে আফগান জিহাদে অংশগ্রহণ করানোর জন্য তৎপরতা চালানো, তাদের অন্তরকে ইসলাম ও জিহাদের সেবার জন্য উম্মুক্ত করা ও তাদের মাঝে জিহাদ ও প্রতিরোধের অগ্নিশিখা ছড়িয়ে দেয়া। তার প্রচেষ্টায় বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্ব শহীদ তামীম আলআদনানী (ফিলিস্তিন), ড. আইমান আলজাওয়াহেরী (মিশর), শায়খ উসামা বিন লাদিন (সৌদিআরব), শহীদ আবু হাফস আতেফ আলমিশরী, শায়খ আবু মুহাম্মদ আলমাকদেসী (জর্দান) শায়খ আবু কাতাদা আলফিলিস্তিনী, শায়খ আবদুল মুন্ইম মোস্তফা হালীমা (সিরিয়া), শায়খ ড. আবদুল কাদির বিন আবদুল আযীয (মিশর), শহীদ ইউসুফ আলঈরী (সৌদিআরব), শহীদ আবদুল আযীয আলমুক্রিন (সৌদিআরব) সহ অসংখ্য আরব আলেম, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও সাধারণ মুসলমানের আফগান জিহাদে বিভিন্ন ভাবে অংশগ্রহণ।
রচনাবলী : লিখিত ও ভাষণের সংকলনসহ মোট বই পঞ্চাশটি। তম্মধ্যে একটি ১৯ খন্ড, একটি ৫ খন্ড, দু’টি ৪ খন্ড, তিনটি ৩ খন্ড ও একটি ২ খন্ড। বইগুলো সব আরবদের উদ্দ্যোগে ‘শহীদ আযযাম ইনফরমেশন সেন্টার’ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে এবং বর্তমানে িি.ি:ধযিবফ.ংি সহ বিভিন্ন ওয়েব সাইটে বিদ্যমান।
শাহাদত : আফগান জিহাদ নিয়ে ইসলামের ভিতর-বাইরের শত্র“দের বিশেষত আমেরিকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের পর তাকেও পৃথিবী থেকে বিদায় করার সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা-বৃটেনের নেতৃত্বাধীন ইসলাম বিরোধী আন্তর্জাতিক শক্তি। ফলশ্র“তিতে ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে তিনি কলিজার টুকরা দু’ সন্তানসহ পেশোয়ারের মাটিতে শাহাদত বরণ করেন। পেশোয়ারের বাবী এলাকার শুহাদা কবরস্থানে তাকে শায়িত করা হয়।
কারামত : শাহাদতের সময় বিশ কে.জি. ওজনের মাইন বিস্ফোরণে শহীদ আযযামকে বহনকারী গাড়ীটি কয়েক টুকরা হয়ে আকাশে উড়ে গেলেও শহীদ আয্যামের পবিত্র দেহ বিস্ফোরণস্থলের কাছে সামান্য জখম অবস্থায় পাওয়া যায় । শহীদ আযযামের জিহাদের সাথী ও জীবনী লিপিবদ্ধকারী ড. আবু মুজাহিদ বলেন, ‘কবরে শায়িত করার পূর্ব পর্যন্ত তার রক্ত থেকে মেশ্কের চেয়ে আরো উন্নত সুগন্ধি বের হয়, যার তুলনা পৃথিবীর কোন সুগন্ধির সাথে চলে না। আমিসহ উপস্থিত সকল লোক এ সুগন্ধি অনুভব করেছে। অন্য দিকে তার দু’ সন্তান শহীদ মুহাম্মদ ও শহীদ ইব্রাহীমের রক্ত থেকে যে সুগন্ধি বের হয়, তা ছিল হেনার সুগন্ধির মত। সুগন্ধির এ পার্থক্যটাও শহীদ আয্যামের কারামত বৈ কিছু নয়।’
মুল্যায়ন : শহীদ আয্যামের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত হওয়া বই ও লেখার সংখ্যা কয়েক শতাধিক। তার জীবন বিশ্লেষকরা তাকে আফগান জিহাদের প্রাণ পুরুষ, জিহাদের মুজাদ্দিদ, যুগের শ্রেষ্ঠ যাহিদ, হিজরী পনের শতকের ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ ও এ যুগের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, ‘১৯২৪ সালে উম্মাহ্র মানসিক বিপর্যয় ও শত্র“দের দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রে ইসলামী খেলাফতের প্রাসাদ পূর্ণরূপে ধ্বংস হওয়ার পর তাকে পুননির্মাণ আন্দোলনের ক্ষেত্রে আল্লাহ সুব্হানাহু ওয়াতাআলা যে মহান ব্যক্তি দ্বারা সবচেয়ে বেশী কাজ নিয়েছেন, তিনি হচ্ছেন শহীদ আযযাম। ১৯৯৬ এর সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানে তালিবান মুজাহিদদের হাতে যে অভূতপূর্ব ইসলামী বিপ্লব সাধিত হয়, তার জন্য আফগানিস্তানের জমিনকে উপযোগী করতে যিনি সবচেয়ে বেশী মূল্যবান রক্ত (আরব বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের রক্ত) সংগ্রহ করেছেন তিনি হচ্ছেন শহীদ আযযাম এবং ওই বিপ্লবের জন্য বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে লোকটি শাহাদত বরণ করেছেন, তিনিও হচ্ছেন শহীদ আবদুল্লাহ আযযাম।

No products were found matching your selection.