দোজখে বুশের জন্য বিশেষ জায়গা অপেক্ষা করছে

আমেরিকার শিকাগো অঙ্গরাজ্যের খ্যাতিমান সাংবাদিক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্টিফেন লেন্ডম্যান বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের জন্য দোজখের বিশেষ জায়গা অপেক্ষা করছে। বুশকে যুদ্ধাপরাধী এবং অন্ধ গোঁড়া বলেও অভিহিত করেন মার্কিন এই লেখক।

গতকাল (শুক্রবার) ইরানের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন লেন্ডম্যান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে আমেরিকার সমাজে গোঁড়ামি জেঁকে বসছে বলে বুশ বক্তব্য দেয়ার একদিন পর লেন্ডম্যানের এ মন্তব্য এল।

নিউ ইয়র্কের জর্জ ডাব্লিউ বুশ ইনস্টিটিউটে দেয়া বক্তৃতায় বুশ গোঁড়ামি, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং মার্কিন রাজনীতিতে মিথ্যা চর্চার নিন্দা করেন। এসবই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে যায়। আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গদের প্রাধান্যের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বুশ।

বুশের এসব কথার জবাবে লেন্ডম্যান বলেন, “বুশ হচ্ছেন সাজা না পাওয়া যুদ্ধাপরাধী, ঈশ্বর জানেন, তার এখন কারাগারে থাকার কথা; সেই ব্যক্তি নিজের নাম উল্লেখ না করে ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন অথচ নিজে একজন গোঁড়া, বর্ণবাদী এবং আরো অনেক কিছু। দুই দফার শাসনামলের বুশ নিজের ঘৃণ্য রেকর্ডগুলো উপেক্ষা করছেন।”

লেন্ডম্যান বলেন, “দুটো নির্বাচনেই বুশ হেরেছেন কিন্তু কারচুপির মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। তিনি এর পূর্ণ সুবিধা নিয়েছেন। তিনিই আফগানিস্তান ও ইরাকে নগ্ন আগ্রাসন চালিয়েছেন এবং আমেরিকায় মুসলমানদেরকে নিপীড়নের মুখে ফেলেছেন।” লেন্ডম্যান আরো বলেন, “যদি কোনো ধর্মীয় গোঁড়া ও বর্ণবাদী ব্যক্তি নিয়ে কথা বলতে হয় তাহলে বুশও তার সহযোগী ডিক চেনির চেয়ে আর কেউ বেশি গোঁড়া ও বর্ণবাদী আছে কিনা তা আমার জানা নেই। ট্রাম্পের সমালোচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে তবে ট্রাম্প বুশের চেয়ে গোঁড়া ও বর্ণবাদী নন।”

লেন্ডম্যান বলেন, “বুশের হাত রক্তে রঞ্জিত যা কখনো মুছে যাবে না। তার জন্য দোজখে বিশেষ জায়গা অপেক্ষা করছে। আমি সেই দিনের অপেক্ষা করছি। তিনি নাইন ইলেভেনের ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিন লাদেন এ বিষয়ে কিছুই করেন নি; আরবদের দায়ী করা হয় কিন্তু তারাও দায়ী নন। সবকিছু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। কিন্তু তিনি এদের কারো বিচার করেন নি বরং তিনি লেগেছেন অন্যদের পেছনে। এবং নাইন ইলেভেনের মতো ঘটনাকে পুঁজি করে অন্য দেশের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।এইসব রেকর্ড হচ্ছে জর্জ ডাব্লিউ বুশের; এগুলো সম্পর্কে অন্য কাউকে অভিযুক্ত করা যাবে না; অন্য কেউ এর সঙ্গে জড়িত নন। তার জন্য এমন ঘৃণ্য রেকর্ড রয়েছে যা কখনো মুছে যাবে না।”-পার্স টুডে

ফররুখ আহমেদ কেনো বড় কবি?

October 21, 2017

যুক্তরাষ্ট্র কোনো সভ্য রাষ্ট্র নয়: এরদোগান

October 21, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *