‘ইসলাম গ্রহণ করার সুস্পষ্ট জবাব দিতে অনেক লড়াই করতে হয়েছে’ -সিজার ডোমিংয়েজ

সিজার ডোমিংয়েজ প্রায় এক দশক আগে মিশর সফর করেন। সেখানকার স্থানীয় একটি মসজিদ পরিদর্শন করার মুহূর্তটি স্মরণ করে তিনি এখনো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মসজিদটিতে মুসলিমদের হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করার মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি এতে এমন এক শান্তি খুঁজে পান; যা আগে কখনো তার মাঝে অনুভূত হয়নি।

ডোমিংয়েজ বলেন, ‘এক বছর পরে আমি এর মানে খুঁজে পাই এবং তারপর আমি ইসলাম গ্রহণ করি।’ইসলামে ধর্মান্তরের দুই বছর পর ডোমিংয়েজ বলেছিলেন যে, ‘কেন ইসলাম গ্রহণ করেছি- পরিবারের কাছে এর সুস্পষ্ট জবাব দিতে আমাকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে’।অবশেষে তিনি এমন এক স্থানের সন্ধান পান যেখানে তাকে এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়নি। তিনি বলেন, আপনি যে ব্যক্তিকে পছন্দ করেন তা বর্ণনা করতে পারেন, কিন্তু কেন আপনি তাদের ভালোবাসেন তা বর্ণনা করা কঠিন।লস এঞ্জেলসে বসবাসরত এই মেক্সিকান-আমেরিকানের বয়স এখন ৫৪ বছর। তিনি অলাভজনক সংগঠন ‘লা অ্যাসোসিয়েশন লাটিনো মুসলমান ইন আমেরিকা’ এর ইমাম। লস এঞ্জেলেস শহরে অবস্থিত ‘ওমর ইবনে আল-খাত্তাব’ মসজিদে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় সাপ্তাহিক কোরআন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে শিক্ষা দেন।ইউনিভার্সিটি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার কাছেই অবস্থিত মসজিদটি আমেরিকার অল্প কয়েকটি ল্যাটিনো মসজিদগুলোর একটি।

ডোমিংয়েজ এবং তার অনুসারীরা ছোট একটি অংশ কিন্তু ল্যাটিনো মুসলমানদের একটি ক্রমবর্ধমান গ্রুপ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র অভিবাসন বিরোধী নীতির মুখোমুখি হয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে এক অনন্য সম্পর্ক তৈরি করেছে।পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, আমেরিকার ৫৭ মিলিয়ন জনগণের মধ্য ল্যাটিনরা দেশটির সর্ববৃহৎ সংখ্যালঘু। তাই সম্ভবত এটি আশ্চর্যজনক নয় যে, আমেরিকার ৩.৩ মিলিয়ন মুসলমানদের মধ্য ল্যাটিনো মুসলমানরাও দেশটির দ্রুততম ক্রমবর্ধমান সেগমেন্ট।

স্প্যানিশ সেন্ট্রো ইসলামিকো মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ফ্লেচার বলেন, ‘ল্যাটিন আমেরিকান দেশগুলোতে জন্ম নেয়া অনেক ল্যাটিনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন হয়েছেন এবং এখানে যারা বেড়ে উঠেছেন, তারা তাদের পাপ স্বীকার করার ধারণা পছন্দ করে না, যেটি ক্যাথলিক ধর্মের একটি অংশ।’ ফ্লেচার বলেন, ‘চার্চের ডোনেশন চাওয়ার বিষয়টি তারা পছন্দ করেনা এবং তারা মনে করেন যে, অর্থ ও ধর্ম একই হতে পারে না। তারা চার্চের ভিতরে যান এবং বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং সেখানে তারা ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার পূর্ণতা খুঁজে পায় না। তারা ইসলামের দিকে তাকিয়ে উপলব্ধি করে যে, এটি গির্জা বা মসজিদের উপর নির্ভরশীল নয় এবং এখানে তারা প্রত্যাহ ধর্মানুশীলন করতে পারে এবং এভাবেই ল্যাটিন মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ফ্লেচার কলম্বিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। শিশু বয়সে তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে টেক্সাসে স্থানান্তরিত হন এবং ২০০১ সালে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি হিউস্টনে ‘সেন্ট্রো ইসলামিকো’ প্রতিষ্ঠা করেন। ৫,০০০ হাজার বর্গ ফুট জায়গার ওপর এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে রয়েছে একটি বিশাল নামাজের স্থান, একটি ইসলামি জাদুঘর, একটি আলোচনা কক্ষ এবং একটি উপহার সামগ্রীর দোকান। স্পেনের ‘মেজকুইতা দে কর্ডোবার’ মতো করে নির্মিত ভবনটির ডিজাইন করেন ফ্ল্যাচারের স্ত্রী।তার ধর্মান্তরের কয়েক মাস পর ফ্লেচার তার বাবাকে স্থানীয় একটি মসজিদে নিয়ে যান। এর কয়েক মাস পর তার বাবাও ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। কিন্তু তখন স্প্যানিশ ভাষায় তার এবং অন্যান্য ল্যাটিনোদের জন্য ইসলাম সম্পর্কে খুব সামান্যই তথ্য ছিল।তাই ফ্লেচার, তার স্ত্রী এবং তার বাবা ইসলামের বিভিন্ন বিষয় স্প্যানিশ ভাষায় অডিও এবং ভিডিও রেকর্ডিং করতে শুরু করেন। তাদের প্রথম সিডির নাম দেয়া হয় ‘লা রিলিজিয়ন দে লা ভারড্যাড’ বা ‘সত্যের ধর্ম’। তারপর থেকে তারা ৫০০টিরও বেশি অডিও এবং প্রায় ২৫০টি ভিডিও প্রকাশ করেন। যা জনগণের জ্ঞাতার্থে টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে।তিনি বলেন, ‘৯/১১ এর প্রায় দুই আগে আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হই। হিউস্টনের সামান্য কয়েকজন ল্যাটিন মুসলমানদের মধ্যে আমি ছিলাম একজন। এখন আপনি যদি পরিবারের সংখ্যা গণনা করেন, তবে এটি ১ হাজারেরও বেশি হতে পারে; যা একটি বড় ধরনের বৃদ্ধি। আমাদের ইসলামি সেন্টার চালু করার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং এর আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৭ জন।’ফ্লেচার আরো বলেন, ‘মানুষকে ইসলামে ধর্মান্তরের জন্য আমরা একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেই না। কারণ আমাদের ধর্মান্তরের সময়ও তা করা হয়নি। আমরা মূলত মানুষকে শেখাতে চেষ্টা করছি। শিখতে অনেকেই খুব আগ্রহী, বিশেষ করে যখন তারা শিখেছে যে, ইসলামের বন্ধন তাদের শিকড়ের মধ্যেই রয়েছে।’ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা আনা (আইসিএসএ) ইসলামি কেন্দ্রের একজন স্বেচ্ছাসেবক লুসি সিলভা। তিনি মেক্সিকোর চিহুহুয়াতে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনিও ছোটকালেই বাবা-মায়ের সঙ্গে ‘সান্তা আনা’তে অভিবাসী হন। ১৯ বছর আগে লেবানন বংশোদ্ভূত এক যুবককে বিয়ের পর ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।বর্তমানে তিনি আইসিএসএ’র বিভিন্ন প্রোগ্রামের একজন স্বেচ্ছাসেবক। প্রধানত রমজানের সময় ইফতার আয়োজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। মুসলিম-ল্যাটিনো ঐক্য উন্নয়নে জাতীয় কর্মসূটির আওতায় এই ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে।সিলভা বলেন, ‘ল্যাটিনরা দেখতে পারে যা মুসলমানরা করে এবং মুসলমানরা দেখতে পারে যা আমরা করি। আমাদের মধ্য যে ব্যবধান রয়েছে তা খাদ্য এবং ভাষার মাধ্যমে তা দূর করার চেষ্টা করছি।’

এই নরকীয় নগরেও আকাশে উঠে ধূসর চাঁদ: কবি সামসুর রহমান

October 23, 2017

আবার জেগে উঠবে মুসলিম- লাবীব আব্দুল্লাহ

October 23, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *