আবার জেগে উঠবে মুসলিম- লাবীব আব্দুল্লাহ

আজ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ইসলাম বিরোধীরা প্রতিনিয়ত চক্রান্ত করেই যাচ্ছে। ইসলামকে নিঃশেষ করার জন্য চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র, অপকৌশল অবলম্বন করছে। তবে যে যাই করুক, অচিরেই মুসলমানরা ঈনানী শক্তিতে বলিয়ান হয়ে উঠবে। আবার জেগে উঠবে মুসলিম বিশ্ব। ইতিহাস সাক্ষী, চূড়ান্ত বিজয় ইসলামেরই।

আমরা যদি গত শতকে দেখি, মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর উপর রাশিয়ানদের আক্রমণ হয়েছে। মুসলমানদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের জায়গাগুলো তারা ধ্বংস করেছে। মসজিদকে তারা নাইট ক্লাব বানিয়েছে। মাদরাসাকে নাট্যশালা বানিয়েছে। ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দীর্ঘদিন রাশিয়া মুসলমানদেরকে শোষণ করেছে। নির্যাতন করেছে কমিউনিজমের নামে। কিন্তু সেই কমিউনিজমও শেষ পর্যন্ত নব্বই দশকে পতন হয়েছে।

সেই মুসলমানরা আবার মধ্য এশিয়ায় তাদের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। সেই বোখারা, সমরকন্দ, তিরমিযে হাদীসের কিতাবের লেখক, ফিকহের কিতাবের লেখক জন্ম হয়েছে। মুসলমানদের অসংখ্য নিদর্শন সেখানে বিদ্যমান রয়েছে। সত্তর বছর নির্যাতন করেও মুসলমানদেরকে দমিয়ে রাখতে পারিনি।

আমরা যদি তুরস্কের দিকে তাকাই, গত শতকে কামাল আতার্তুক সেখানে ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদের চেষ্টা করেছিল। ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতি নিষেধ করেছিল। আরবী ভাষা নিষেধ করেছিল। হিজাব নিষেধ করেছিল। কিন্তু আজকের সেই তুরস্কেই ইসলামের জাগরন দেখা যাচ্ছে।

গত শতকে নব্বই দশকে সাম্রাজ্যবাদি আমেরিকা তাদের লোভ লালসা বাস্তবায়নের জন্য মিথ্যা অজুহাতে ইরাকের ওপর আক্রমণ করেছে। আফগানিস্তানে আক্রমণ করেছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করেছে। আগ্রাসন চালিয়েছে। কোথাও তারা সফলতার মুখ দেখেনি।

মুসলমানরা দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়েছে তাদের অধিকার আদায় করার জন্য। যদিও মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে, জঙ্গি বলা হচ্ছে। কিন্তু সময়ই বলে দিবে কারা ছিল মুল হোতা?

আফগান তাদের অধিকার আদায় করার জন্য লড়াই করেছে। এই সভ্য আধুনিকতার যুগে সাম্রাজ্যবাদের কোন স্বপ্নই পুরন হবে না। ১৯৪৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ইস্রাইল প্রতিষ্ঠা করেছে ব্রিটিশ, আমেরিকা। পরাশক্তিরা নিজেদের দেশে তাদেরকে জায়গা দেয়নি। কিন্তু মুসলমাদনদের ভিটা মাটি উচ্ছেদ করে মুসলিম ভূমিতে ইস্রাইল প্রতিষ্ঠা করেছে। ইস্রাইল তার সামরিক শক্তির বলে তার গোয়েন্দা বাহিনী ও অন্যান্য নানা কৌশলে সারা পৃথীবিতে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করছে। এর পরিণাম তাদেরকে ভোগ করতে হবে।

অতীতের ক্রসেডাররা ও ইসলাম বিদ্ধেষীরা বর্তমানে চিন্তার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বায়নের নামে গোটা পৃথীবিতে ত্রাস সৃষ্টি করছে। মুসলমানদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে বলছে সন্ত্রাসবাদ।

ইরাক তো আমেরিকার ওপর আক্রমণ করেনি তাহলে ইরাক কেন সন্ত্রাসী হবে। আফগান তো কোন দেশের ওপর আক্রমণ করেনি তারা কেন সন্ত্রাসী হবে? লিবিয়া তো কোন দেশের ওপর আক্রমন করেনি তারা কেন সন্ত্রাসী হবে?

আজকের পৃথিবীর মানুষ মিডিয়ার কল্যানে, অনলাইনের মাধ্যমে, ওয়েব মিডিয়ার মাধ্যমে সত্য মিথ্যা যাচাই করতে পারছে। মুসলিম বিশ্বের একতা-ঐক্যকে নষ্টের জন্য নানা মতবাদ উস্কে দিচ্ছে। ‘ভাগ করো’ ‘শাসন করো’ নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

এই একুশ শতকে নব্বই ক্রুসেডাররা ইসলামকে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মুসলমানদের এই সাময়িক বিপর্যয়ে ইসলামের কিছুই হবে না। ইসলাম এমন এক শক্তি যে তার নিজস্ব গুণের কারনেই মানুষের অন্তরে জায়গা করে নেয়। মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করে কেউ যদি মনে করে ইসলাম শেষ হয়ে যাবে। এটা কিছুতেই সম্ভব না। ইসলাম পৃথিবীতে শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য আসেনি। ইসলামই একমাত্র মনোনীত ধর্ম। নাইন-ইলেভেনের পর যে নাটক সাজানো হয়েছিল তারা মনে করেছিল, ইসলাম শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু না।

ইউরোপ, আমেরিকায় দেখা গেছে যারা চিন্তাশীল মানুষ তারা ইসলামকে জানার চেষ্টা করে। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আসছে। কোরআন পড়া শুরু করেছে। ইসলামের এ জাগরনকে রুখতে নানা ফন্দি করা হচ্ছে। কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে।

আমরা সর্বশেষ দেখতে পাচ্ছি, দক্ষিণ এশিয়ায় নিরহ রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে বিশ্ব বিবেকের সামনে সিমাহীন নির্যাতন করা হচ্ছে। ঘর বাড়ি জালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি ভিটা ছাড়া করা হচ্ছে। নারীদেরকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নির্যাতনের নজির নেই। বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা বর্বর নির্যাতন চালিয়ে দশ লক্ষেরও অধিক মুসলমানকে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করেছে। আমরা মনে করি এই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান বাহির দেশের নেতারা করে দিবে। এটা কখনও হবে না।

জাতি সংঘের ৭২তম অধিবেশন হল। এ ব্যাপারে তারা কোন সমাধান দিতে পারেনি। দিনের পর দিন আরাকানে মুসলমানদেরকে মারা হচ্ছে, আমেরিকা কী করছে? তারা আফগানে, ইরাকে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু সুচির ব্যাপারে তো কিছুই বলছে না। বিশ্ব বিবেক আজ নিরব কেন?

বিশ্ব বিবেকের কাছে প্রশ্ন, পূর্বতিমুর যদি স্বাধীন হতে পারে, দক্ষিণ সুদান যদি স্বাধীন হতে পারে, তাহলে আরাকান কেন স্বাধীন হবে না? সেখানে দীর্ঘদিন মুসলমানদের সভ্যতা ছিল। মুসলমানদের নিজস্ব মুদ্রা ছিল। জন্ম সুত্রে তারা সে দেশের নাগরিক। তাদের মৌলিক অধিকার থেকে, মানবধিকার থেকে, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হল কেন? শুধু ত্রাণ-তহবিলের মাঝেই কি সমাধান?

আমাদের মাঝে কুরআন আছে, নবীর সুন্নাহ আছে। তা থেকে আমাদের সঠিক পথ বের করতে হবে। মুসলমানদের ঈমানী শক্তি, জ্ঞানগত শক্তি, সামরিক শক্তিসহ সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কৌশলি হতে হবে। নিজস্ব শক্তি অর্জন করতে হবে। কারো কাছে ধর্ন দেয়া যাবে না। মুসলিম বিশ্বকে আজ সমস্যাগুলো ভাল করে বোঝতে হবে। খেলাফতে রাশেদা যেভাবে চারদিকে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়েছিল। সেভাবে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিতে হবে।

শান্তির অর্থ এই নয় যে, মুসলমানরা শুধু মার খাবে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের মতো নির্যাতিত হবে! নারীরা ধর্ষিতা হবে! কখন কখনো শান্তি রক্ষার্থেই মুসলমানদেরকে যুদ্ধ করতে হবে। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। সামরিক শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। মুসলমানরা আজ এক্ষেত্রে খুব পিছিয়ে। যেমন পিছিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে।

যদি আবার কোরআন ও সুন্নাহর পদ্ধতিতে রাসূলের সীরাতকে সামনে রেখে মুসলমানরা কর্মকৌশল নির্ধারণ করে তাহলে এই শতক আবার মুসলমানদের হবে। খেলাফতের পতাকা আবার ওড়বে প্রতিটি দেশের আকাশে বাতাসে।

‘ইসলাম গ্রহণ করার সুস্পষ্ট জবাব দিতে অনেক লড়াই করতে হয়েছে’ -সিজার ডোমিংয়েজ

October 23, 2017

বাংলা সাহিত্যের যে ৫০ টি বই আপনাকে পড়তেই হবে

October 23, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *