বিশ্বের শীর্ষ ৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা এখনও পশ্চিমা বিশ্বের মুখোমুখি। বিশ্বের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোর স্থান এখনও এশিয়া দখল করতে পারছে না। আর মুসলিম দেশগুলোর অবস্থা আরো শোচনীয়। এখানে তুলে ধরা হলো বিশ্বের সেরা ৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের তথ্য।

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি :

সরকারি গবেষণাধর্মী এই বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠিত হয় ১২০৯ সালে। সম্প্রতি গার্ডিয়ান পত্রিকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকার প্রথম স্থানটি দখল করে ক্যামব্রিজ। এ ছাড়া ২০১০-১১ সালে কিউ এম ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির তালিকায়ও শীর্ষে ছিল এটি।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৯৬। স্নাতকপড়–য়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ হাজার ১৮ এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছয় হাজার ৩৭৮। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ক্যামব্রিজের ৩১৮টি কলেজ আছে।

২০০৫ সালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি বছর ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পিএইচডি করেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮৫ থেকে ৮৮ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে সাবেক স্নাতক ডিগ্রিধারী মোট ৬০ জন নোবেল পেয়েছেন। বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ দিক দিয়ে এগিয়ে আছে ক্যামব্রিজ।

ক্যামব্রিজের ইতিহাসে অসংখ্য প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরণীয়। বিশ্বে গণিত ও বিজ্ঞানে অসাধারণ অবদান রেখেছেন ক্যামব্রিজের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দার্শনিক স্যার আইজ্যাক নিউটন, স্যার ফ্রান্সিস বেকন, প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের প্রবক্তা চার্লস ডারউইন, জেমস ওয়াটসন, চার্লস ব্যাবেজ, স্টিফেন হকিংসসহ আরো বিখ্যাত বিজ্ঞানী।

শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, পুরো ইউরোপে ক্যামব্রিজ সবচেয়ে বেশি অনুদান পায়। ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অনুদানের পরিমাণ ছিল ৪৩০ কোটি ইউরো। সরাসরি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পায় ১৬০ কোটি এবং কলেজগুলো পায় ২.৭০ কোটি। প্রত্যেকটি কলেজের নিজস্ব সংগঠন ছাড়া স্বতন্ত্র দাতব্য সংগঠন আছে।

ওয়ার্ল্ড ব্রান্ড ল্যাবের জরিপে বিশ্বের ৫০টি প্রভাবশালী ব্রান্ডের মধ্যে ক্যামব্রিজ একটি। আর ২০১১ সালে দ্য টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড রেপুটেশন র‌্যাংকিংয়ে ক্যামব্রিজের অবস্থান তৃতীয়। প্রথম অবস্থানে আছে হার্ভার্ড এবং দ্বিতীয় অবস্থানে এমআইটি।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি :

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৩৬ সালে। শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বে সুদৃঢ় অবস্থান করাই এর মূল লক্ষ্য। যারা ২১ শতকে নতুন কিছু আবিষ্কার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে চান, সেসব ছাত্রছাত্রীকে আর্থিক সহায়তা দেয় হার্ভার্ড। এই ইউনিভার্সিটির ৬০ শতাংশ স্নাতকপড়–য়া ছাত্রছাত্রীকে প্রতি বছর ১৬ কোটি মার্কিন ডলার বৃত্তি দেয়া হয়। প্রতি বছর ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী হার্ভার্ড থেকে ডিগ্রি অর্জন করে। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে হার্ভার্ডের তিন লাখ ৬০ হাজার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী। বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচুর্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ এ পর্যায়ে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে প্রথম দাতা জন হার্ভার্ডের নাম অনুসারে। ম্যাসাচুসেটসে ২১০ একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত। আটজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। এবং নোবেল পেয়েছেন ৭৫ জন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুদানের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২০০ কোটি ডলার।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) :
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত এমআইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬১ সালে। এমআইটির অধীনে আছে পাঁচটি স্কুল ও একটি কলেজ। ৩২টি বিভাগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গঠিত। প্রতিষ্ঠানটিতে বিজ্ঞানসম্মত, প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও গবেষণার ওপর জোর দেয়া হয়। ১৬৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত।
২০১১-২০১২ সালের তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে চার হাজার ৩৮৪ জন স্নাতকপড়–য়া ও ছয় হাজার ৫১০ জন স্নাতক ডিগ্রিধারী। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এক হাজার ৭৪২টি আসনের জন্য ১৭ হাজার ৯০৯টি আবেদন জমা হয়েছে। জমা হওয়া আবেদনের ৯.৭ শতাংশ ভর্তির সুযোগ পাবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যাপকের সংখ্যা এক হাজার যাদের মধ্যে ৭৭ জন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত; ৫২ জন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স প্রাপ্ত এবং ম্যাক আর্থার ফেলোস প্রাপ্ত ৩৮ জন বর্তমান ও অতীতে প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত ছিলেন। এমআইটি গবেষণার জন্য ৭১ কোটি ৮২ লাখ ডলার ব্যয় করে এবং ২০০৯ সালে অনুদান পেয়েছিল ৮০০ কোটি ডলার।

প্রতিষ্ঠানটি উন্নত প্রযুক্তির কম্পিউটার ও র‌্যাডার তৈরির পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ও স্নায়ুযুদ্ধের সময় প্রতিরক্ষা গবেষণায় যুক্ত ছিল।

ইয়েল ইউনিভার্সিটি :

এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭০১ সালে কানেকটিকাটের নিউ হেভেনে। ইয়েলের এক হাজার ১০০ অধ্যাপকের অধীনে আছে পাঁচ হাজার ৩০০ স্নাতক পড়–য়া ও ছয় হাজার স্নাতক শিক্ষার্থী। ইউনিভার্সিটি প্রতি বছর এক হাজার ৯৪০ কোটি ডলার অনুদান পায়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক এবং কর্মচারীদের মধ্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ৪৯ জন। ইয়েলের প্রাক্তন ছাত্রদের তালিকায় আছে পাঁচজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ১৯ জন বিচারপতি এবং অনেক বিদেশী রাষ্ট্রপতি।

বিদেশে পড়তে যাবেন? যা জানা আবশ্যক

October 23, 2017

‘বিশ্বের সুপারপাওয়ার হবে চীন’- প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং

October 23, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *