পড়াশোনাতেও পটু বিশ্বসেরা যেসব ক্রিকেটার

সন্তান জন্মের পর থেকেই বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছেলে বা মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার নয়তো ইঞ্জিনিয়ার হবেন। ওই সন্তান বড় হয়ে ক্রিকেটার হবেন এমন স্বপ্ন দেখেন এমন বাবা-মায়ের সংখ্যা নিতান্তই হাতে গোনা। জেনেশুনে কোন বাবা-মাই এমন রিস্ক নিতে চান না। তারা ছেলের নামের পাশে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার দেখতে চান।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুচির পরিবর্তন আসছে। ছেলে-মেয়েদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন ভবিষ্যতের চিন্তাধারা। ছেলে ক্রিকেটার হলেও আপত্তি নেই। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে। তাই বলে পড়াশোনা বাদ দিয়ে নয়্ দুটোই চাই বাবা-মায়ের।

সব কিছুতো আর একসঙ্গে চলতে পারে না, এমন মন্তব্য হয়তো অনেকেই করবেন। অনেকেই হয়তো ভ্রু উপরের দিকে তুলে বিস্ময় প্রকাশ করবেন।

এই ভ্রু কুচকানো লোকগুলোর অবগতির জন্য জানাচ্ছি, হ্যাঁ ভাই দুটোই চলতে পারে সমানতালে। বিশ্বাস হচ্ছে না?
অাজ আপনাদের উদারহরণসহ বুঝিয়ে দিচ্ছি। বিশ্বসেরা তারকা ক্রিকেটারদের গল্প শোনাব আজ, যারা খেলাধুলার পাশাপাশি কৃতিত্ব ছড়িয়েছেন পড়াশোনাতেও।

বলতে গেলে তারা বাস্তব জীবনের অলরাউন্ডার। আর এই অলরাউন্ডারদের তালিকায় আছেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজ, অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স, ইংল্যান্ডের স্যাম বিলিংসসহ ডজনখানেক তারকা ক্রিকেটার।

মুশফিকুর রহিম :

গল্পের শুরুটা করতে চাই বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমকে দিয়েই। এই তারকা ক্রিকেটার খেলার মাঠে চার-ছয় মেরে অভ্যস্ত। পড়াশোনাতেও ছক্কা হাঁকাতে কম পারদর্শী নন তিনি। খেলাধুলার সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনাটাও তিনি চালিয়ে গেছেন সমানতালে।

এই তরুণ ক্রিকেটার স্কুল জীবনেই ঢাকার মিরপুরের স্থানীয় এক ক্লাব পেরিয়ে সুযোগ পেয়ে যান দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে খেলার। ধীরে ধীরে ক্রিকেটটাই হয়ে ওঠে মুশফিকের ধ্যান-জ্ঞান। একসময় ‘ছাত্র’ পরিচয়টা হারিয়ে বড় হয়ে ওঠে ক্রিকেটার পরিচয়টা।

এভাবেই চলছি। হঠাৎ ছন্দপতন। খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়ে বাধ্য হন ক্রিকেট থেকে সরে আসতে। তবে স্বপ্ন থেকে কখনও সরে আসেননি তিনি। বড় ক্রিকেটারের পাশাপাশি তিনি একজন ফার্স্টক্লাস গ্র্যাজুয়েট।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে পিএইচডি বা এমবিএ করারও ইচ্ছা আছে মুশফিকুর রহিমের। উইকেটের সামনে-পেছনে যেমন ‘ফার্স্ট ক্লাস’ তিনি, তেমনি খেলতে খেলতেই একে একে ছক্কা হাঁকিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক সব পরীক্ষাতে।

হ্যামিলটন মাসাকাদজা :

এই ক্রিকেটারের গল্পটা একটু অন্যরকম। অভিষেক ম্যাচেই চমক লাগানো এই ক্রিকেটারের যেন খেলার চেয়ে পড়াশোনাটাই বেশি। মানে আগে পড়াশোনা পরে খেলা, এমন টাইপ।

হারারের টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয় বোলারদের নাজেহাল করে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন অভিষিক্ত ওই জিম্বাবুইয়ান তরুণ। তার বয়স তখন ১৭ বছর ৩৫৪ দিন। অভিষেক টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সের সেঞ্চুরিয়ানের রেকর্ডবুকে লেখা হলো নতুন একটি নাম—হ্যামিলটন মাসাকাদজা।

তবে অভিষেকে এমন চমকের পর ক্রিকেট ব্যাট-প্যাড শোকেসে তুলে রেখে বই হাতে ছুটলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। উচ্চশিক্ষার জন্য গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব ফ্রি স্টেটে। তবে হতাশ হননি তিনি। লেখাপড়া শেষ করার পর আবার দলে ডাক পেয়েছিলেন মাসাকাদজা।

মুশফিক আর মাসাকাদজার উদাহরণের মত খেলার পাশাপাশি লেখাপড়া করছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তাসকিন আহমেদসহ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনেকেই। কেউ পড়ছেন বিবিএ, কেউ বা এমবিএ। পড়াশোনাটা কিন্তু ঠিকই চালিয়ে গেছেন তারা।

চলুন জেনে নেয়া যাক এমন কয়েকজন অলরাউন্ডারের পড়াশোনার খবর-

রবিচন্দ্রন অশ্বিন : তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে তার।

আজিঙ্কা রাহানে : ব্যবসায় শিক্ষায় ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে তার।

প্যাট কামিন্স : অস্ট্রেলিয়ার এই বোলারের ব্যবসায় শিক্ষায় ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে।

ওয়াহাব রিয়াজ : পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি, এমএসসি শেষ করেছেন এই পাকিস্তানি তারকা।

মিচেল ম্যাকলেনাগন : নিউজিল্যান্ডের এই তারকা মার্কেটিং ও অ্যাকাউন্টিংয়ে পড়েছেন অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটিতে।

মিচেল স্যান্টনার : নিউজিল্যান্ডের এই তরুণ ক্রিকেটার যন্ত্রকৌশল নিয়ে পড়েছেন ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ওয়েইন পারনেল : নেলসন ম্যান্ডেলা মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই বাঁহাতি পেসার।

স্যাম বিলিংস : লোঘবোরো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ সায়েন্স’ এ পড়ছেন এই ইংলিশ তারকা ক্রিকেটার।

সরফরাজ আহমেদ : দাউদ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে প্রকৌশলে ডিগ্রি নিয়েছেন পাকিস্তানের এই অধিনায়ক।

‘বিশ্বের সুপারপাওয়ার হবে চীন’- প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং

October 23, 2017

মাদরাসা শিক্ষক বলেই কি এতটা অবহেলিত?

October 23, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *