কোচিং সেন্টার : ধ্বসের মুখে শিক্ষা ব্যবস্থা

স্কুল ও কলেজ শুধু ভর্তির জন্য। পড়াশোনার জন্য নাকি এখন এগুলো নয়। বোর্ডে পরীক্ষা দিতে হবে তাই কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হয় শিক্ষার্থী হিসেবে তালিকভুক্তির জন্য। পড়ালেখা ওগুলোতে হয় না বললেই চলে। তবে কোচিংসেন্টারে শিক্ষার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। কারণ পড়াশোনা কোচিংসেন্টার ছাড়া আজকাল ভাবাই যায় না। তাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকরাও ছোটেন কোচিংসেন্টারগুলোতে। শিক্ষকদের সৃষ্ট এই প্রাইভেটহোমগুলোতে তাই সকাল, বিকেল, এমনকি রাত অবধি ভিড় লেগেই থাকে। ভালো স্কুল-কলেজের নামী শিক্ষকরা এসব হোমসেন্টারে কোচিং করান। গত বুধবার ঢাকার সবচেয়ে পুরনো দৈনিকটির লিড আইটেম ছিল কোচিং নিয়ে।

শিক্ষকরাও জানেন, তাদের ছাত্র-ছাত্রীরা কোনও না কোনও কোচিংয়ে পড়বেই। কাজেই তারাও গাছাড়া ভাব নিয়ে স্কুল-কলেজের সময়টুকু অতিবাহিত করেন। কেউ কেউতো কেবল হাজিরা খাতা নিয়ে ক্লাসে ঢুকে রোলকল করেই শেষ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত চিত্র নাকি এমনই প্রায় সব স্কুল-কলেজের। শুধু মহানগরী ঢাকার চিত্র এটা না, সারাদেশের স্কুল-কলেজগুলো নাকি এভাবেই চলে আজকাল। শুধু কি স্কুল-কলেজ? ভালো মানের মাদরাসাতেও একই সিস্টেম চালু হয়ে গেছে। কোচিংয়ে না পড়লে কোনও কোনও মাদরাসার শিক্ষকরা ভালো লিখলেও খাতায় নম্বর কমিয়ে দেন। ফেল করিয়ে দেবার দৃষ্টান্তও নাকি আছে। একটি মাদরাসার বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং না করবার কারণে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার খাতা বাতিল করে দেবার অভিযোগ উঠেছে। বাহ্! স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের চেয়ে তারা পিছিয়ে থাকবেন কেন?

কোচিং নিয়ে এতো লেখালেখি, সমালোচনা কোনওকিছুই যেন শিক্ষার চেয়ে বাণিজ্যপ্রিয় শিক্ষকদের গায়ে লাগে না। শিক্ষামন্ত্রীর বারবার হুমকি-ধমকিতেও তাদের টনক নড়ছে না। তবে দুদক বা র‌্যাব যদি কোচিংসেন্টার ও বাণিজ্যপ্রিয় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে তা হলে বোঝা যেতে পারে কোচিংমুখো শিক্ষকদের মুরোদ কতদূর। পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি ঘটছে তাতে লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে হয়তো সম্মানিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও দুদক এবং র‌্যাবকে অভিযান পরিচালনা করতে হতে পারে। এছাড়া কোচিংয়ের দাপট রোখা দুরূহ হয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, ভালো শিক্ষার জন্য এখন কোচিংই মুখ্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সহায়ক মাত্র। তাই কোচিং ছাড়া ভালো শিক্ষা এখন নাকি আশা করাই যায় না। কোচিংসেন্টার থেকে হোমওয়ার্ক দেয়া হয়। নিয়মিত পরীক্ষাও নেয়া হয়ে থাকে। কাজেই স্কুল-কলেজ গিয়ে লাভ কী? কোচিং করলেই হয়। নিতান্ত বোর্ডপরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা স্কুল-কলেজে হাজিরা দিতে হয়। অন্যথায় ওসবের দরকারই ছিল না।

বেপরোয়া প্রাইভেট কোচিংবাণিজ্য এখন এমনই অনিবার্য হয়ে পড়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অনেকে এদিকে ঝুঁকছেন। তারাও ক্লাস ফেলে কোচিং বা প্রাইভেটটিউটরের কাছে ছোটেন। অথচ কয়েক দশক আগে এমন ছিল না। বলতে দ্বিধা নেই, কোচিংশিক্ষা এখন পুরো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে অর্থহীন করে ফেলেছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে। তাই যেকোনও মূল্যে কোচিং বন্ধ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখো করে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে অনিবার্য ধ্বংস থেকে বাঁচাতেই হবে।

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য পাঠ্যক্রম প্রণয়নের উদ্যোগ

October 23, 2017

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিবেন ট্রাম্প কন্যা

October 23, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *