‘টুইটার ছাড়া আমি প্রেসিডেন্ট হতে পারতাম না’- ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার ব্যবহার নিয়ে অনেক বিতর্ক। অনেকে তাকে এত বেশি টুইট না করারও পরামর্শ দিয়েছেন। টুইটে বানান ভুল সহ উদ্ভট কিছু শব্দের ব্যবহার নিয়ে তো শোরগোল হয়েছে। কিন্তু তাতে তিনি ক্ষান্ত হবেন না। তিনি টুইটার ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন টুইটার ছাড়া তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারতেন না।

তিনি সামাজিক এ মিডিয়াকে বিশাল এক প্লাটফর্ম (ট্রিমেন্ডাস প্লাটফর্ম) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার ভাষায়, তাকে নিয়ে মিডিয়া পক্ষপাতমুলক রিপোর্ট করে। ন্যায়ের পথে নেই মিডিয়া। তাই এমন মিডিয়াকে পাশ কাটিয়ে তিনি টুইটারের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন বা মত বিনিময় করেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিত টুইটার ব্যবহার করেন।

তিনি নিয়মিত বিরোধী রাজনীতিকদেরকে আক্রমণ করেন টুইটার ব্যবহার করে। সংবাদ মাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেন। তাকে যারা সমালোচনা করেন তাদেরকে এক হাত দেখিয়ে দেন টুইটার ব্যবহার করে। এসব মানুষকে তিনি দিনের একেবারে শুরুতে অথবা রাতের শেষভাগে এমন পোস্ট দিয়ে ঘায়েল করেন। এত বেশি টুইটার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য তার নিজ দল রিপাবলিকানের অনেক নেতা আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এর জবাবে বলেছেন, কিছু বন্ধু তাকে সামাজিক এই মিডিয়া ব্যবহার করার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এতে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে। কিন্তু তাদের সঙ্গে একমত নন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি সামাজিক মিডিয়া না থাকতো তাহলে আমি এই অবস্থানে আসতে পারতাম কিনা তা নিয়ে আমার সংশয় আছে। ফক্স বিজনেট নেটওয়ার্ককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। তার ওই সাক্ষাতকারটি এখনও প্রচার হয় নি। শিগগিরই তা প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ট্রাম্প বলেছেন, টুইটিং হলো একটি টাইপরাইটারের মতো, যখনই আমি এতে কিছু লিখি সঙ্গে সঙ্গে আপনি তা দেখতে পান। যখন কেউ আমাকে নিয়ে কিছু বলেন সঙ্গে সঙ্গে আমি তার প্রতিক্রিয়া দিতে পারি। এ বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি। তা নাহলে আমার কথা কখনো কারো কাছে পৌঁছাতে পারতাম না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ডেমোক্রেট দলের হিলারি ক্লিনটন।

তিনি ট্রাম্পের অতিরিক্ত টুইটার আসক্তিকে ভয়াবহ হিসেবে নিন্দা করেছেন। এরপরই ট্রাম্প এমন মন্তব্য করলেন। দ্য গ্রাহাম নর্টন শো’তে হিলারি বলেছেন, সবচেয়ে বিপদজনক বিষয় হলো, ট্রাম্প কূটনীতিকে নিয়ে গেছেন টুইটারে। তিনি এর মাধ্যমে (উত্তর কোরিয়ার নেতা) কিম জং উনকে অবমাননা করছেন টুইটারে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া নিয়ে যেসব টুইট করেছেন তাকে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে আরেকটি পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগস্টে তিনি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আগুনে জবাব দেয়ার হুমকি দেন। গত মাসে উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীকে সতর্কতা দেন। ট্রাম্পের টুইটে শুধু এসবই নয়, ব্যক্তিগত আক্রমণও থাকে। মার্চে তিনি টুইটে দাবি করেন, নিউ ইয়র্কে তার ট্রাম্প টাওয়ারের ফোনে গোপনে আড়িপাতার নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেন নি। বারাক ওবামা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পরে বলেছে, তারা এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায় নি। গত মাসে তিনি এনএফএল প্লেয়ারদের সমালোচনা করেন।

এ মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন রিপাবলিকান দলের সিনেটর বব করকার। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প যে উস্কানিমুলক কথাবার্তা বলছেন তাতে যুক্তরাষ্ট্রকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এর আগে টুইটার ব্যবহার করে সিনেটর করকারকে সাইজ করেছেন ট্রাম্প।

শার্লোটভিলেতে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের সহিংসতার জবাবে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন তার সমালোচনা করেছিলেন বব করকার। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প টুইটে লিখেছিলেন, টিনেসিতে পুনর্নির্বাচনে তাকে অনুমোদন দিতে সিনেটর বব করকার আমার কাছে অনুনয় (বেগড) জানিয়েছিলেন। আমি তাকে ‘না’ বলেছি। তাই তিনি নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। তিনি বলেছেন, আমার অনুমোদন ছাড়া তিনি নির্বাচনে জিততে পারবেন না। এর আবার জবাব দিয়েছেন বব করকার। তিনি বলেছেন, এটা লজ্জার কথা যে, হোয়াইট হাউজ বয়স্কদের ডে কেয়ার সেন্টারে পরিণত হয়েছে। কেউ একজন অবশ্যই এই সকালে এর স্টাফদের ভুলভাবে ব্যবহার করছে। ওদিকে হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ জন কেলি গত সপ্তাহে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইট নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থতার জন্য তাকে সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নি। তবে প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে পারি। জুলাইয়ে টুইটার ব্লক করে দেয়ার অভিযোগে সাত জন ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফেডারেল কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, এই মামলা খারিজ হওয়া উচিত।

মরিচের ঝালের সাথে পেঁয়াজের ও ঝাঁজ বেড়েছে

October 23, 2017

ফেসবুকে শুভ সকাল বলায় গ্রেপ্তার

October 23, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *