পুতিনের বিরুদ্ধে লড়বেন প্লেবয়ের প্রচ্ছদ কন্যা!

কেউ কেউ তাঁকে বলেন ‘লৌহমানব’। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এককেন্দ্রিক বিশ্বকে বেশ বড় একটা ধাক্কাই দিয়েছেন তিনি। প্রায় ১৮ বছর ধরে কখনো প্রধানমন্ত্রী কখনোবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাশিয়া শাসন করছেন। তিনি ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে আবারও প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন—এটাও নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছেন কেউ কেউ। এই পুতিনের বিরুদ্ধে কি না প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিলেন প্রায় ‘আনকোরা’ এক নারী! নাম তাঁর কেসেনিয়া সোবচাক।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেন কেসেনিয়া। রুশ টেলিভিশন রেইন টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পক্ষে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন কেসেনিয়া, ‘গত ১৭ বছরে গড়ে ওঠা রাশিয়ার নতুন প্রজন্ম অন্য এক রাশিয়া দেখতে চায়; যে রাশিয়া হবে সভ্য ও পুরোপুরি ইউরোপীয় এক দেশ।’

কোনো কোনো বিশ্লেষক অবশ্য কেসেনিয়ার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। আসলেই কী তিনি পুতিনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রার্থী হচ্ছেন? নাকি পুতিনের প্রকৃত বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করতে ক্রেমলিনের হয়ে প্রার্থী হচ্ছেন?

কে এই কেসেনিয়া

‘শৌখিন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে পরিচিত কেসেনিয়াকে অনেকেই রাশিয়ার ‘প্যারিস হিলটন’ বলে চেনেন। ৩৫ বছর বয়সী কেসেনিয়া একাধারে অভিনেত্রী, টিভি উপস্থাপক ও মডেল। রুশ প্লেবয় সাময়িকীর প্রচ্ছদকন্যা হয়েছেন। করেছেন সাংবাদিকতাও। ব্লগার হিসেবে জনপ্রিয় কেসেনিয়ার টুইটারে ফলোয়ার সংখ্যা চার লাখ ৩০ হাজার। এসবের তুলনায় বরং রাজনীতিতে অনেকটা ‘আনকোরা’ তিনি।

বিবিসি বলছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা করা কেসেনিয়া অবশ্য রাজনৈতিক পরিবারেরই সন্তান। তাঁর বাবা আনাতোলি সোবচাক ছিলেন সেন্ট পিটার্সবার্গের মেয়র। আগে রাজনীতিতে তেমন আগ্রহী বলে মনে হয়নি কেসেনিয়াকে। বরং রুপালি পর্দার জীবন তাঁকে টেনেছিল বেশি। ২০১২ সালে পুতিনবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের সময় তাতে যোগ দিয়ে ‘রাজনীতির’ কেসেনিয়া হিসেবে পরিচিতি পান। সঙ্গে রেইন টিভিতে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করাটাও তাঁর পরিচিতিতে কাজে লেগেছে। তিনটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন কেসেনিয়া।

কেন সন্দেহ?

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহবাদীরা বলছেন, কেসেনিয়ার পরিবারের সঙ্গে পুতিনের পরিচয় বেশ পুরোনো। কেসেনিয়ার প্রয়াত বাবা সেন্ট পিটার্সবার্গের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় (১৯৯১-১৯৯৬) তাঁর ডেপুটি ছিলেন পুতিন। কেসেনিয়ার বাবাকে পুতিনের ‘রাজনৈতিক গুরু’ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ‘গুরুর’ সঙ্গে পরামর্শও করতে দেখা গেছে পুতিনকে। বর্তমান রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেরও ‘রাজনৈতিক গুরু’ তিনি।


রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রায় ১৮ বছর ধরে কখনো প্রধানমন্ত্রী কখনো প্রেসিডেন্ট তিনি। ছবি: এএফপি

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত রুশ পত্রিকা ভেদোমস্তির গত সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর কেসেনিয়াকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রার্থী হওয়ার আহবান জানাতে পারে। কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, কেসেনিয়া মূলত ক্রেমলিনের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হবেন। তবে তাঁর মূল উদ্দেশ্য পুতিনের প্রকৃত রাজনৈতিকবিরোধীদের দুর্বল করে ফেলা। যা পুতিনের সহজ জয় নিশ্চিত করবে। পুতিনের মূল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যালেক্সেই নাভালনিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা হবে—এটা প্রায় নিশ্চিত। পুতিন তথা রাশিয়ার দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সবচেয়ে সরব নাভালনিকে বিভিন্ন মামলায় দফায় দফায় কারাগারে থাকতে হচ্ছে। সর্বশেষ দফায় গত রোববার কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

২০১২ সালের নির্বাচনে ক্রেমলিন এ ধরনের একজন প্রার্থী দিয়েছিল বলে প্রচার রয়েছে। মিখাইল প্রখরভ ছিলেন সেই প্রার্থী। নির্বাচনে ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। বলা হচ্ছে, এবারও সেই পথে হাঁটছে পুতিনের ক্রেমলিন।


পুতিনের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যালেক্সি নাভালিন। ছবি: এএফপি

ক্রেমলিন কী বলে

প্রেসিডেন্ট পুতিন আগামী নির্বাচনের জন্য এখনো অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। কেসেনিয়ার প্রার্থিতা ঘোষণার পরদিন গত বৃহস্পতিবার পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন আপাতত তাঁর বর্তমান মেয়াদের দিকেই বেশি মনোযোগী। তিনি নিজে এখনো আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতার আগ্রহ দেখাননি। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, প্রার্থিতা ঘোষণার জন্য এখনো অনেক সময় হাতে আছে।’

এর আগে কেসেনিয়ার প্রার্থিতা প্রসঙ্গে পেসকোভ বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সব ধরনের যোগ্যতা কেসেনিয়ার আছে।’

এদিকে গত বৃহস্পতিবারই এক অনুষ্ঠানে প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পুতিন। ভবিষ্যতে কোনো নারীকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা যাবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে সবকিছুই সম্ভব।’ এরপর নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুরু হলে হাস্যোজ্জ্বল পুতিন উঠে চলে যেতে যেতে বলেন, ‘ঠিক আছে, আজ এখানেই শেষ।’

কী বলেন কেসেনিয়া?

পুতিনকে জিততে সহায়তা করতে প্রার্থী হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেসেনিয়া। তিনি ব্লগে লিখেছেন, ‘এই ধারণা পুরোপুরি মিথ্যা। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো যোগাযোগ নেই। তাদের আশীর্বাদও প্রয়োজন নেই আমার। আমার বিষয়ে আমিই সিদ্ধান্ত নেব।’ নাভালনিকে ‘বন্ধু ও মিত্র’ বলেই বিবেচনা করেন কেসেনিয়া। কেসেনিয়া এটাও বলেন, নাভালনি নির্বাচনে প্রার্থী হলে তাঁর সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন।

পাকিস্তান চালাচ্ছে কে?

October 24, 2017

শিশুর মেদভুঁড়ি, কী করবেন!

October 24, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *