রাজশাহীতে বইমেলা শুরু

চেতনার জাগরণে বই’ স্লোগানে রাজশাহীতে আট দিনব্যাপি বইমেলা শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসন রাজশাহী কলেজ মাঠে এ মেলার আয়োজন করেছে।

সোমবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির সহযোগিতায় এ মেলা চলবে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমান, জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির পরিচালক মিজানুর রহমান ও জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের পরিচালক নজরুল ইসলাম।

ইত্তেফাক/আরকেজি

অন্য প্রসঙ্গ

বই পরিচিতি

বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ আজ পর্যন্ত লেখা হয়নি। বর্তমান গ্রন্থটি সেদিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। বাংলার চারশো বছরের প্রাথমিক শিক্ষা বইটিতে দুই বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে নানা বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। মুসলিম শাসনে বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা বলতে মক্তব শিক্ষাকে ধরা হয়, যা ধর্মের অনুসঙ্গ ছিলো।

বাংলার টোলগুলিও প্রধানত ছিলো ধর্ম সম্পর্কিত উচ্চশিক্ষা। মক্তবের শিক্ষার মাধ্যম ছিলো আরবি আর টোলের শিক্ষামাধ্যম ছিলো সংস্কৃত। বাংলা ভাষায় শিক্ষাদানের প্রথাবদ্ধ প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ষোল শতক থেকে ‘পাঠশালা’র কথা জানা যায়। উনিশ শতকের শেষ পাদ পর্যন্ত বাংলার প্রাথমিক শিক্ষালাভের প্রধান প্রতিষ্ঠান ছিলো এই পাঠশালা। বাংলার কৃষক ও কারিগরদের প্রয়োজনেই এই শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্ভব। আঠারশো পঁয়ত্রিশ সালে ইংরেজ সাংবাদিক উইলিয়াম অ্যাডাম তাঁর এক প্রতিবেদনে বাংলা-বিহারে এরকম একলাখ পাঠশালার সন্ধান দেন।

বাংলার প্রতি তিনটি গ্রামের দুটিতে এরকম একটি পাঠশালা ছিলো, যেখানে বাংলা ভাষা লিখতে পড়তে এবং অঙ্ক করতে শেখানো হতো। আঠারশো পঁয়ষট্টি সালে ইংরেজরা বাংলার শাসনক্ষমতা গ্রহণ করলেও বাংলার শিক্ষাবিস্তারে তখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। মুনাফার স্বার্থে বহুদিন পর্যন্ত ইংরেজ শাসকরা শিক্ষাবিস্তার থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলো। ইংরেজরা বাংলার শাসন ক্ষমতা লাভ করার পর আাঠারো শতকে খিস্টান মিশনারিরা ভিন্ন ধরনের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করলেও তা ছিলো সীমিত আকারে। ইংরেজ সরকার মিশনারিদের চাপে পড়ে এবং খ্রিস্টধর্ম প্রসারের লক্ষ্যে প্রথম উচ্চশিক্ষার দিকের নজর দেয়।

চালর্স উডের নির্দেশে ইংরেজ শাসকরা প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করে আঠারশো পঞ্চান্ন সালে। নামমাত্র প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হলেও সাধারণের মধ্যে শিক্ষাবিস্তারে ইংরেজ শাসক ও বাংলার শিক্ষিত বাবুদের সামান্যতম আগ্রহ ছিলো না। বাংলার পাঠশালা সম্পর্কে হারিয়ে যাওয়া অনেক মূল্যবান তথ্য বর্তমান গ্রন্থে পাওয়া যাবে। বাংলার পাঠশালা শিক্ষাÑযা এখন আর খুব একটা আলোচিত হয় না, তা ছিলো খুবই বাস্তবসম্মত এবং ধর্মনিরপেক্ষ। নিম্নবর্ণের লোকেরাই পাঠশালা শিক্ষার সাথে অধিক যুক্ত ছিলো। পরবর্তীকালে ইংরেজ প্রবর্তিত প্রাথমিক বিদ্যালয় নিম্নবর্গের মানুষদের সাক্ষরতা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে এবং প্রাথমিক শিক্ষা আর ধর্ম নিরপেক্ষ থাকে না। বর্তমান গ্রন্থে বাংলার সমাজ বিকাশের নানা গতি-প্রবাহের সাথে প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্বগুলির সম্পর্ক ধরা পড়বে।

লেখক পরিচিতি
রাহমান চৌধুরীর জন্ম বাংলাদেশের রাজশাহী শহরে। তিনি একজন ইতিহাস গবেষক, শিল্প-সংস্কৃতির সমালোচক এবং সর্বোপরি একজন নাট্যকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে উনিশশো একাশি সালে ইতিহাসে স্নাতক সম্মান এবং উনিশশো বিরাশি সালে স্নাতকোত্তর সনদ লাভ করেন। দু’ হাজার তিন সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগ থেকে ‘রাজনৈতিক নাট্যচিন্তা ও স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাটকে রাজনীতি’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ রচনার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর নাটক-চলচ্চিত্র ও শিক্ষা বিষয়ক বহু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নাটক ও প্রবন্ধ রচনায় প্রধানত যে কাজটি করে থাকেন তাহলো সমাজ বিশ্লেষণ। বর্তমানে তিনি শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত পরামর্শক হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

বারো মাস আর সাত দিনের নাম কী করে এলো?

October 24, 2017

রবিবার রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবেন খালেদা জিয়া

October 24, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *