ঈমান সবার আগে

লেখক: জোজন আরিফ

বইঃ ঈমান সবার আগে
লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক (দাঃ বাঃ)
প্রকাশকঃ মাকতাবাতুল আশরাফ

আসমান ও জমিনের মধ্যে মহান আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। ইসলামের চিরশীতল ছায়ায় প্রবেশ করতে হলে সর্বপ্রথম যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়, সেই দরজার নাম হচ্ছে ঈমান। ঈমানের অবস্থান সবার আগে, মুমিনদের কাছে ঈমানই সবকিছু থেকে বড়। মুসলমানের কাছে প্রাণের চেয়েও প্রিয়, অমূল্য এক সম্পদ হলো ঈমান। তবে ঈমান শুধু মুখে কালেমা পড়ার নাম নয়, বরং ইসলামকে তার সকল অপরিহার্য অনুষঙ্গসহ মনে-প্রাণে কবুল করার নাম ঈমান। ঈমান ও ইসলামের পূর্ণ পরিচয় কী এবং তার অপরিহার্য দাবি ও অনুষঙ্গগুলো কী, ঈমানের গুরুত্ব ও মুমিনের জীবনে তার প্রাধান্য, কী কী কারণে মনের অজান্তেই আমরা ঈমান প্রতিনিয়ত ঈমানহারা হয়ে যাচ্ছি, মুনাফিক, কাফির-মুশরিক ও মুরতাদ ব্যাপারে ইসলামের বিধিবিধান, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের ভয়ানক পরিণতি এসব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনাই বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ে যখন ঈমানের মত মহামূল্যবান সম্পদের আলোচনার বিষয়টি অবহেলিত হচ্ছে, দ্বীন ও ঈমান সম্পর্কে অজ্ঞ লোকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, ফলে সমাজের অনেকেই সংশয় ও দোদুল্যমানতার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, তখন এমন একটি গ্রন্থের চাহিদা বরাবরই অনুভূত হচ্ছিল। এই চাহিদা পূরণে উদ্যোগী হয়েই আমাদের দেশের আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক (দাঃ বাঃ) মাসিক আল কাউসার পত্রিকার পর পর তিন সংখ্যায় বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করেন। যার প্রবন্ধের সংকলিত পরিমার্জিত রূপ হলো বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি। বইটির একটি বিশেষ দিক হলো – বইটির বিষয়বস্তুর আলোকে প্রত্যেক মুসলমানই নিজের ঈমানকে যাচাই করতে পারবেন, পাশাপাশি নিজের আকীদা-বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনার ভুল-ভ্রান্তিকেও পরিশুদ্ধ করে নিতে পারবেন। এছাড়াও অনেক কঠিন ও সংশয়যুক্ত বিষয়ের সহজ-সাবলীল সমাধান ও ব্যাখ্যার কারণে বইটি ব্যাপকভাবে আলেম সমাজ ও পাঠক মহলে সমাদৃত হয়েছে।

سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا
‘আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম’ (সূরা নূর ২৪/৫১)

মুসলমানের ঈমান হবে সাহাবিদের মত। ঈমানের অন্যতম দাবি হল, শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে সকল বিষয়কে সন্দেহাতীতভাবে মেনে নেয়া ও বিশ্বাস করা।

আল্লাহর মুমিনবান্দারা সকল কষ্ট হাসিমুখে সহ্য করতে পারলেও কখনো ঈমান ত্যাগ করতে পারে না। মুমিনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হল ঈমান। ঈমানের বিপরীত কুফর। ঈমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ঈমান আলো, কুফর অন্ধকার। ঈমান জীবন, কুফর মৃত্যু। ঈমান পূর্ণ কল্যাণ, কুফর পূর্ণ অকল্যাণ। ঈমান সরল পথ, আর কুফর ভ্রষ্টতার রাস্তা।

মূল বইয়ের শুরুতে লেখক ঈমান ও কুফরের সংঘাত এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন। এরপর ঈমান রক্ষার্থে মুসলমানদের কী কী করণীয় সে বিষয়ে দৃষ্টিপাত করেছেন। অতঃপর ঈমান ও ইসলামের পূর্ণ পরিচয় কী এবং তার অপরিহার্য দাবি ও অনুষঙ্গগুলো কী – এ সম্পর্কে সর্বমোট ২২টি প্রবন্ধে আলোকপাত করেছেন। পাঠকের সুবিধার্থে এবার প্রবন্ধসমূহের ধারাবাহিক পর্যালোচনা তুলে করছিঃ

১ম প্রবন্ধঃ ঈমান ওহীর মাধ্যমে জানা সকল সত্যকে সত্য বলে বিশ্বাস করার নাম
==================================================
প্রথম প্রবন্ধে ঈমান সম্পর্কে সঠিক আকীদা স্বীকার ও বিশ্বাস করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। সন্দেহাতীতভাবে ঈমানই যে একমাত্র সত্য ধর্ম সে বিষয়টিও অত্যন্ত সহজভাবে লেখক এখানে তুলে ধরেছেন।

২য় প্রবন্ধঃ ঈমান অবিচল বিশ্বাসের নাম
=============================
ঈমান হচ্ছে দৃঢ় ও মজবুত বিশ্বাস। আজ সমাজের অনেকেই সংশয় ও দোদুল্যমানতার যে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, ইসলামে যে তার কোন জায়গা নেই এই বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে এখানে বর্ণনায় এসেছে।

৩য় প্রবন্ধঃ কোনো বিষয়কে শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে মেনে নেয়ার নাম ঈমান
==================================================
আল্লাহর নাযিলকৃত কোন বিধানের প্রতি আস্থার অভাবে ঈমান আনতে বিলম্ব করা ও কালক্ষেপণ করা কুফরের অন্তর্ভুক্ত। অথচ আজকের সমাজে এর ব্যাপকতা মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোন বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, মতবাদ বা পৃথিবীর ক্ষমতাশীলদের কথার মানদণ্ডে আজকে যারা নিজেদের ঈমানকে বিচার করেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে দুনিয়ার কোন থিওরি বা মতবাদের উপর যাদের বেশি আস্থা-বিশ্বাস তারা প্রতিনিয়ত কিভাবে নিজের অজান্তেই ঈমানকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন – এসব বিষয়ের গঠনমূলক ও যুক্তিপূর্ণ আলোচনাই ৩য় প্রবন্ধের পরতে পরতে ফুটে উঠেছে।

৪র্থ প্রবন্ধঃ ঈমান সত্যের সাক্ষ্যদান এবং আরকানে ইসলাম পালনের নাম
==================================================
অন্তরের বিশ্বাসের সাথে মুখেও সত্যের সাক্ষ্য দেওয়া মুমিনের পরিচয়। মুমিন কখনো সত্য গোপন করে না, কখনো সত্যকে জেনে তা অস্বীকার করে না। অসত্য ও মিথ্যার সাক্ষ্য দেওয়া তো কাফের-মুশরিকদের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু অবাক হলেও সত্য বর্তমান সময়ের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অসত্য ও মিথ্যার সাক্ষ্য দেওয়া সত্ত্বেও মুখে ঈমানের দাবি করে। অথচ তাদের অন্তরে ঈমানের লেশমাত্র নেই। তাদের ঈমানের দাবি যে নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না, আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক কুরআন-হাদীসের আলোকে সেই বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন।

৫ম প্রবন্ধঃ ঈমান অর্থ সমর্পণ
======================
৫ম প্রবন্ধে ঈমানের শব্দের একটি অপরূপ ব্যাখ্যা বর্ণনায় এসেছে। একজন মুমিন তার সব কাজের মাধ্যমেই যে নিজেকে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে, আল্লাহর কোন বিধানে কোন আপত্তি করে না, সর্বদা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আনুগত্যের মাধ্যমেই যে তার প্রশান্তি লাভ হয় – এসবগুলো বিষয়ের সমষ্টির নামই যে প্রকৃত ঈমান অত্যন্ত শৈল্পিক দক্ষতায় লেখক বিষয়টি এখানে আলোকপাত করেছেন।

৬ষ্ঠ প্রবন্ধঃ ঈমান শরীয়ত ও উসওয়ায়ে হাসানাকে গ্রহণ করার নাম
=================================================
৬ষ্ঠ প্রবন্ধের শুরুতে লেখক ঈমানের পরিপূর্ণ সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইসলামে ‘আকীদা’ ও ‘শরীয়ত’ এর একটির অপরটির সাথে যে ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ইসলামে আকীদা-বিশ্বাস ও শরীয়ত তথা দ্বীনের বিধিবিধান ও জীবনের নববী আদর্শের সমষ্টিগত নামই যে ঈমান, কুরআন যাকে মুমিনের জন্য উসওয়ায়ে হাসানা বলে সাব্যস্ত করেছে সে বিষয়টি এই প্রবন্ধের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

৭ম প্রবন্ধঃ ঈমান শুধু গ্রহণ নয়, বর্জনও, সত্যকে গ্রহণ আর বাতিলকে বর্জন
==================================================
ঈমান তখনই সাব্যস্ত হয়, যখন একজন মুমিন ঈমানের বিপরীত সবকিছু বাতিল ও মিথ্যা মনে করে এবং তা থেকে সব রকম সম্পর্ক ছিন্ন করে। ঈমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল তাওহীদ। তাওহীদ অর্থ একমাত্র আল্লাহ তা’আলাকে সত্য মাবুদ বলে বিশ্বাস করা, একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করা, শুধু আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া। আর তাওহীদের বিপরীত হল শিরক। কিন্তু ইসলামের এর বিপরীত দিকগুলোর বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। তাই একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তাওহীদ আর শিরকের সংমিশ্রণে যখন আজ গোটা মুসলিম উম্মাহ আক্রান্ত তখন তাওহীদ ও শিরক এর মাঝে পার্থক্যকারী কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক এরকম একটি প্রবন্ধের আলোচনা ছিল সময়ের দাবি।

৮ম প্রবন্ধঃ আস্থা, ভালোবাসা ও ভক্তি-শ্রদ্ধা ছাড়া ঈমান হয় না
==================================================
৮ম প্রবন্ধের প্রথমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল, তাঁর নাযিলকৃত আসমানি কিতাব, তাঁর বিধান ও শরীয়ত এবং তাঁর দ্বীনের সকল নিদর্শনের সাথে একজন মুমিনের কিরূপ সম্পর্ক হওয়া উচিত সে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। এরপর মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মুমিনদের ভালোবাসা, আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীন ইসলামের বিধি-বিধানের প্রতি মুমিনের শ্রদ্ধা ও আনুগত্য কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

৯ম প্রবন্ধঃ বিদ্রূপ ও অবজ্ঞা অস্বীকারের চেয়েও ভয়াবহ কুফর
=============================================
৯ম প্রবন্ধের শুরুতে কাফির-মুশরিকদের উগ্র ও কট্টর শ্রেণীর বিদ্রূপ ও অশ্লীল বাক্য ব্যবহারের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রতি শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ, ইসলামের কোন নিদর্শন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কিংবা কোন বিধানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনকারীরা কিভাবে ইসলামের গণ্ডী থেকে বেরিয়ে যায় প্রভৃতি বিষয় বর্ণনায় এসেছে। অতঃপর এই প্রকার কাফির – মুনাফিক, মুলহিদ ও যিনদীকদের ব্যাপারে ইসলামি শরীয়তের বিধান, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের নির্মম পরিণতি, মুনাফিক ও মুরতাদদের ক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় এসেছে।

১০ম প্রবন্ধঃ মুনাফিকদের কাছে আল্লাহর দ্বীন, আল্লাহর ইবাদত ও আল্লাহর আহকাম অতি অপছন্দনীয়
==================================================
আল্লাহর ইবাদত ও ইসলামের বিধি-বিধানের ব্যাপারে মুনাফিকদের কুফরী ও কপটতা, সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর পথে ব্যয় ও মুনাফিকদের লোক দেখানো নামায – এসব বিষয়ে এই প্রবন্ধে আলোকপাত করা হয়েছে।

১১তম প্রবন্ধঃ আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব এবং তাঁর প্রদত্ত শরীয়ত অপছন্দ করা কুফরী। যে এই কুফরীতে লিপ্ত ব্যাক্তিদের কিছুমাত্র সমর্থন করবে সে মুরতাদ
==================================================
১১তম প্রবন্ধে কাফিরদের দুর্ভোগ ও কর্ম ব্যর্থ হওয়ার সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণের করুণ দশা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অসম্মানের কারণে সকল আমল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সতর্কবাণী, মুমিনদের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সর্বাবস্থায় আনুগত্যের উপদেশ ইত্যাদি বিষয় এখানে বর্ণিত হয়েছে।

১২তম প্রবন্ধঃ ঈমান একটি একক, এতে বিভাজনের অবকাশ নেই
===============================================
ঈমান সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ নীতি রয়েছে যেগুলো স্পষ্ট এবং বিজ্ঞ আলেম সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, অথচ এক শ্রেণীর মানুষকে এগুলোর প্রতি বিরুদ্ধতা ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সমাজের অধিকাংশ মানুষই আজ নিজের মন মত করে ইসলাম পালনের ব্যাধিতে আক্রান্ত। অনেকেই ইসলাম বলতে শুধু শান্তির বিধান গ্রহণ করেন আর জিহাদের বিধানকে সন্ত্রাস বা উগ্রবাদিতা সাব্যস্ত করেন, অনেকে লেনদেন ও হালাল-হারামের বিধান মানতে অসম্মত থাকেন, অথচ নামায রোযাকে ইসলাম মনে করেন।

অথচ আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন,
‘তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।’ (সূরা আল বাক্বারাহ ২/৮৫)

সমাজের যেসব লোক এই কুফরি ব্যাধিতে আক্রান্ত আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক তাদের সংশোধনের ঈমানী ব্যবস্থাপত্রের বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

১৩ম প্রবন্ধঃ ঈমানী আকাইদ ও আহকাম স্পষ্টভাবে ঘোষিত ও গোটা উম্মাহর দ্বারা প্রজন্ম পরম্পরায় প্রবাহিত, এতে বিকৃতি ও অপব্যাখ্যা অস্বীকারেরই এক প্রকার
==================================================
ইসলাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের যে বীজ আজ পাশ্চাত্যের প্রাচ্যবিদরা মুসলমানদের মস্তিষ্কে বপন করে দিয়েছে, তার মধ্যে ঈমান, আকীদা ও কুরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা সবচেয়ে ভয়াবহ। ইসলামের অকাট্য বিষয়াবলীর অপব্যাখ্যা আর অস্বীকারের মাধ্যমে নাস্তিকতা, মুনাফেকি ও ঈমান নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা সমাজের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিকৃতি ও অপব্যাখ্যা যে ঈমান ত্যাগেরই নামান্তর আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক সে আলোচনাই করেছেন।

১৪তম প্রবন্ধঃ দিল ও জবানের একাত্মতা ঈমান। এতে নেফাকের কোনো স্থান নেই
==================================================অন্তরের ও মুখে ঈমানের সাক্ষ্য দেওয়া, মনে-প্রাণে ইসলামের সবকিছু মেনে নেওয়া ও মুনাফেকির সকল আলামত ত্যাগই যে প্রকৃত ঈমানের পরিচয়, সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য – এসব বিষয় এখানে বর্ণনায় এসেছে।

১৫তম প্রবন্ধঃ ঈমান একটি স্থায়ী অধিকার, ‘ইরতিদাদ’ সাধারণ কুফরের চেয়েও ভয়াবহ কুফর
==================================================
১৫তম প্রবন্ধের শুরুতে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার সম্পর্কের অঙ্গীকার হিসেবে ঈমানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা, মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে খোশখবদু, ফেরেশতাদের শুভেচ্ছা ও দুনিয়া ও আখিরাতে চিন্তামুক্ত জীবনের প্রতিশ্রুতি বর্ণিত হয়েছে। এরপর নাস্তিক-মুরতাদদের কুফরির ভয়াবহতা, মুরতাদ সম্পর্কে কুরআন কারীমের আসমানি হুঁশিয়ারি, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের শাস্তির বিধান, তাদের উপর ফেরেশতাদের লানত – কুরআন-হাদীসের আলোকে এসব বিষয়ের বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।

১৬তম প্রবন্ধঃ ঈমানের সবচেয়ে বড় রোকন তাওহীদ, শিরক মিশ্রিত ঈমান আল্লাহর কাছে ঈমানই নয়
==================================================
আলোচ্য প্রবন্ধে প্রথমে ঈমানের সর্বপ্রথম রোকন আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাওহীদের তিনটি শ্রেণিবিভাগঃ তাওহীদ আর-রুবূবিয়্যাহ, তাওহীদ আল-আসমা ওয়াস-সিফাত এবং তাওহীদ আল-ইবাদাহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করা হয়েছে। এরপর একে একে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ শিরক কি, ঈমানের সাথে শিরকের মিশ্রণের সর্বগ্রাসী শাস্তি, জাহান্নামের আযাবের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সতর্কবাণী প্রভৃতি বিষয় বর্ণনায় এসেছে।

১৭তম প্রবন্ধঃ ঈমানের দাবি, মুয়ালাত ও বারাআত ঈমানের ভিত্তিতেই হবে
==================================================
১৭তম প্রবন্ধে লেখক ইসলামি শরীয়তে মুয়ালাত ও বারাআত অর্থাৎ বন্ধুত্ব পোষণ ও বর্জন মানদণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামে বন্ধুত্ব পোষণ, বর্জন ও শত্রুতার মানদণ্ড এই প্রবন্ধের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু।

১৮তম প্রবন্ধঃ সহযোগিতা করা না-করার মানদন্ড
========================================
ইসলামে সহযোগিতার ভিত্তি হলো নেক আমল ও তাকওয়া। আলোচ্য প্রবন্ধে ইসলামি আদর্শে সহযোগিতা করা বা না করার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এরপর নেক কাজে একে অপরকে সাহায্য করা ও খারাপ কাজে বাধা প্রদানের বিষয়টি লেখক এখানে নিপুণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন।

১৯তম প্রবন্ধঃ ঈমান অতি সংবেদনশীল, মুমিন ও গায়েরে মুমিনের মিশ্রণ তার কাছে সহনীয় নয়
==================================================
ঈমানের অন্যতম তাৎপর্যই হচ্ছে, মুসলিমের আলাদা পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং অন্যদের থেকে স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত হয়ে নবী করীম (ﷺ) সুন্নতের অনুসারী হওয়া। ইসলামের সৌন্দর্য তথা ইসলামের নিজস্ব স্বতন্ত্র চিন্তাধারা, ইবাদত-বন্দেগী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিধিবিধান, পোশাক-পরিচ্ছদ, পর্ব-উৎসব, সংস্কৃতি ও জীবনাচার অর্থাৎ জীবনের সকল ক্ষেত্রে স্বকীয়তা বজায় রেখে জীবনযাপনের যে ঈমানী দায়িত্ব আল্লাহর মুমিন বান্দাদের উপর অর্পিত হয়েছে এখানে সে সম্বন্ধে লেখক দৃষ্টিপাত করেছেন।

২০তম প্রবন্ধঃ ঈমান পরীক্ষার উপায়
============================
২০তম প্রবন্ধে লেখক ঈমান পরীক্ষার ৮টি সহজ উপায় বাতলে দিয়েছেন। ঈমানের পরীক্ষার উপায়গুলোর মধ্যে কুফরি আকীদার সংশোধন, মুনাফেকি আচরণ পরিহার করা, ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ও দুনিয়াবিমুখতা, ইসলামের পছন্দ-অপছন্দকেই নিজের পছন্দ-অপছন্দ বানিয়ে নেয়া, আল্লাহর সকল বিধানের উপর সন্তুষ্ট থাকা, হেদায়েতের পথে আমাদের আমৃত্যু যাত্রা – এসব বিষয়ে লেখক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আমরা যেন নিয়মিত নিজের ঈমান যাচাই করতে পারি, আকীদা-বিশ্বাস পরিশুদ্ধ করতে পারি এবং ঈমানের অবস্থা উন্নত করতে পারি সে আলোচনাই এই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য।

ঈমানের পরিশুদ্ধির জন্য লেখক যেসব বিষয়ে দৃষ্টিপাত করেছেন, পাঠকের সুবিধার্থে সেগুলো তুলে ধরছিঃ

ক. আমার মাঝে কোন কুফরী আকীদা নেই তো?
খ. আমার মধ্যে নিফাক নেই তো?
গ. শাআইরে ইসলামের বিষয়ে আমার অবস্থান কী?
ঘ. আমার অন্তরে অন্যদের শাআইরের প্রতি ভালোবাসা নেই তো?
ঙ. পছন্দ-অপছন্দের ক্ষেত্রে আমার নীতি উল্টা না তো?
চ. নিজের ইচ্ছা বা পছন্দের কারণে ঈমান ছাড়ছি না তো?
ছ. আল্লাহকে হাকিম ও বিধানদাতা মেনে নিতে আমার মনে কোন দ্বিধা নেই তো? (নাউজুবিল্লাহ)
জ. আমি সাবীলুল মুমিনীন থেকে বিচ্যুত হচ্ছি না তো?

২১তম প্রবন্ধঃ দল ও দলনেতা আখেরাতে কাজে আসবে না
==========================================
২১তম প্রবন্ধের প্রথমে কুরআন-সুন্নাহ’য় বর্ণিত হেদায়েতের পথ সীরাতে মুস্তাকিম এর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এরপর রসূল (ﷺ)-এর সৎপথ অবলম্বনের পুরস্কার ও শয়তানের পথে চলার নির্মম পরিণতি লেখক কুরআনের ভাষায় এখানে বর্ণনা করেছেন।

২২তম প্রবন্ধঃ তওবার দরজা খোলা আছে
=============================
২২তম (শেষ) প্রবন্ধে লেখক ‘তাওবায়ে নাসূহ’ অর্থাৎ খালিস তওবার মাধ্যমে আমাদের আত্মশুদ্ধি ও কর্ম সংশোধন এবং সাধ্যমত অতীত জীবনের ক্ষতিপূরণের দরদমাখা আহবান জানিয়েছেন। পরিশেষে আল্লাহর উপর ঈমান আনার ও তাঁর শোকর আদায়ের মাধ্যমে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি সমাপ্ত হয়েছে।

বইটির কিছু বৈশিষ্ট্যঃ
================
প্রত্যেকটি প্রবন্ধ ও শিরোনামের আলোচনায় অসংখ্য কুরআনের আয়াতের সমাবেশ বইটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি হাদীস ভিত্তিক ও প্রয়োজনে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর আলোচনা বইটিকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করেছে। কুরআনের আয়াত ও হাদীস এর উদ্ধৃতিসমূহের রেফারেন্সও সংযুক্ত করা হয়েছে। আর লেখকের সহজ-সাবলীল রচনাভঙ্গি তো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

বর্তমান সময়ে ঈমানবিধ্বংসী এমন এক ভয়াবহ পরিবেশে আজ আমরা বসবাস করছি – যখন মানুষ সকালে মুমিন থাকে, অথচ বিকালে কাফের হয়ে যায়। আবার বিকালে মুমিন থাকে, সকালে কাফের হয়ে যায়। এমন এক সময়ের ব্যাপারেই নবী করীম (ﷺ) তাঁর উম্মতকে সতর্ক করে গিয়েছেন।

রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘অন্ধকার রাত্রির ন্যায় ফেতনা আসার আগেই যা আমল করার করে ফেল! মানুষ তখন সকালে মুমিন থাকবে, বিকালে কাফের হয়ে যাবে। বিকালে মুমিন থাকবে, সকালে কাফের হয়ে যাবে। দুনিয়ার তুচ্ছ লাভের আশায় নিজের ঈমানকে সে বিক্রি করে দেবে।’ (সহীহ বুখারী)

বর্তমান সময়ের মুসলমানদের দিকে লক্ষ্য করলে এমনই করুণ অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। আজ মুসলমানদের ঈমান এত বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে যে খুব সহজেই মূর্খতাবশত ঈমান নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হচ্ছে, মানুষ আজ এমন কথা বলছে, যে ঈমান হারা হয়ে কাফের হয়ে যাচ্ছে। অথচ, মানুষের জন্য ঈমানের চেয়ে বড় কোনো নেয়ামত নেই। ঈমানবিধ্বংসী পরিবেশে মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের বলে বলীয়ান করতে বইটি সকলের পড়া উচিত। আলহামদুলিল্লাহ্‌ রিভিউটি সমাপ্ত হলো।

যে কারণে সমালোচিত অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়!

October 25, 2017

নারীরা যেভাবে পাবেন টেলিটকের ফ্রি সিম

October 25, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *