এরদোগানকে হত্যা করতে গিয়েছেলেন ৩০ জন

আরটিএনএন : অভ্যুত্থান চেষ্টার রাতে প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মারমারিসের গ্রান্ড ইয়াজিসি হোটেলে ছিলেন। স্ত্রী, মেয়ের জামাই ও নাতি-নাতনীদের সঙ্গে পাঁচ দিনের ছুটিতে অবকাশ যাপনে ছিলেন।ব্যর্থ অভ্যুত্থানের রাতে সেখানে তাকে স্ব-পরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল একদল অভ্যুত্থানচেষ্টাকারী সেনাকে।

তবে খুনিরা গ্রান্ড ইয়াজিসির ঠিকানা জানত না। তারা স্থানীয়দের কাছে হোটেলের ঠিকানা খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। ততক্ষণে অবশ্য এরদোগান নিরাপদে সরে যান। এভাবেই সেদিন বেঁচে যান তিনি।অবশ্য ব্যর্থ অভ্যুথানের পর সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজেই বলেন, ১৫ জুলাই আমি পরিবারের সাথে ছিলাম। আমরা পাঁচ দিনের ছুটিতে মারমারিসে ছিলাম।

ওই দিন রাত ১০টার দিকে কিছু খবর পাই। আমাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা এবং আরো কয়েকটি জায়গায় কিছু কিছু মুভমেন্ট চলছে। আমরা তখনই মারমারিস থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমার সাথে স্ত্রী, আমার মেয়ের জামাই, আমার নাতি-নাতনীরা ছিল। ফলে বিষয়টা আরো গুরুতর ছিল বলে মনে করতে পারেন।

অন্যদিকে মারমারিসের গ্রান্ড ইয়াজিসির হোটেল মালিক সেরকান ইয়াজিকিও পরে মিডিয়াকে জানান, অভ্যুত্থানকারীরা হোটেলে তার কক্ষে ঢোকার মাত্র ১৫ মিনিট আগে প্রেসিডেন্ট এরদোগান সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। সেরকান ইয়াজিকি আরো বলেন, ওইদিন হেলিকপ্টার থেকে প্রায় ৩০ জন ষড়যন্ত্রকারী নেমেছিল। ডেইলি সাবাহ, সিএনএন তুর্ক এবং ডেইলি হুররিয়াত নিউজ অবলম্বনে

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান মঙ্গলবার সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার জন্য ইউরোপ ও আমেরিকাকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, পিকেকে ও ওয়াইপিজি’র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আমেরিকা ও ইউরোপের পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। তারা এই সত্যকে আর ঢেকে রাখতে পারবে না।

এরদোগান বলেন, আমেরিকা সাড়ে তিন হাজার ট্রাক অস্ত্র সিরিয়ায় তৎপর কুর্দিদের হাতে তুলে দিয়েছে। এছাড়া জার্মানি ও ফ্রান্স সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশের মতো ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছে।

এরদোগান আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি পাশ্চাত্যকে অনুসরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। এ কারণে ভবিষ্যতে যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের অবসান ঘটবে তখন এই এলাকার মানুষেরাই পরস্পরের পাশে দাঁড়াবে।

সূত্র : পার্সটুডে

জাতীয় ঐক্যের কারণে শত্রুদের পরাজয় হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের ফাঁদেই পড়েছে। আমরা আল্লাহ ছাড়া কারো দাসত্ব করি না। এখন সামনে তাকানোর পালা। আমাদের দেশ নিয়ে খেলা আমরা নস্যাৎ করে দিয়েছি। সিরিয়া, লিবিয়া, ইরানসহ পৃথিবীর সকল প্রান্তের মজলুম ও ক্ষতিগ্রস্তদের কষ্ট-কান্না ও সম্পদ লুটের খেলাও নস্যাৎ করে দেব।

আমাদের সাথে আছে মজলুমের দোয়া।গত ২৯ জুলাই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান ১৫ জুলাই রাতের ব্যর্থ সেনা বিদ্রোহের সময় নিহতদের আত্মীয় ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দানকালে এসব কথা বলেন। ভাষণের দু’একটি পয়েন্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় হই চই পড়লেও বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিষয়ই রয়ে গেছে অনুল্লেখিত।

এখানে সে পয়েন্টগুলোই বাংলায় অনুবাদ করে দেয়া হলো-নিহতদের পরিসংখ্যান ও কবিতা আবৃত্তি : ১৫ জুলাই রাতে ১৭০ সাধারণ নাগরিক, ৬২ জন পুলিশ ও ৫ জন সেনা সদস্যসহ ২৩৭ জন শাহাদাত বরণ করেছেন। আজ (২৯ জুলাই) রাত সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ২১৯১ জন। আমি শহীদদের জন্য আল্লাহর কাছে রাহমাত, তাদের পরিবার ও জাতির জন্য সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি। আমাদের ধর্মে শাহাদাত নবুওয়াতের পরে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। কবি আরিফ নিহাত আসিয়া বলছেন, “শহীদদের চূড়া শূন্য হয় না কখনো।

সেখানে কেউ অপেক্ষা করে সর্বদা। আর একটি বক্ষ নি:শ্বাস নেয়ার জন্য বায়ু ঝড়ের অপেক্ষা করছে। তার সমাধি দারুণ মানিয়ে নিয়েছে এই পবিত্র চূড়ার সাথে। তার শুবার মাটি নির্দিষ্ট। তার ধারণকৃত পতাকাও নির্দিষ্ট। কে বলে সে সৈনিকটি হারিয়ে গেছে? সেতো এক উপাখ্যান তৈরি করেছে। মহাকাব্য রচনা করেছে।

একটি হাত কেবল অনন্তকালের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। হে অবিনশ্বর ! শ্রদ্ধার সাথে এসে একে একে তার হাতে চুমু দিয়ে যাও। এসো চুমু দিয়ে আসি ঠোটগুলো যদি পবিত্র থাকে আমাদের। তবে সাবধান ! আমাদের পাগুলো যদি অপবিত্র থাকে সে মাটিতে কদম ফেলোনা। এটা এখন বলেছে, এমন বলোনা। এসো বেয়োনেট দিয়ে বীরের বেশে তালি বাজাও। এখন তুমিই বলো।

কারণ এখন তোমার বলার পালা। শহীদদের চূড়া কখনো শূন্য হয় না। সে মাটি বীরদের জন্যই অপেক্ষা করছে। আর একটি পতাকা প্রতীক্ষা করছে বায়ু ঝড়ের, তরঙ্গ সৃষ্টির জন্য।” এই দেশে শহীদদের চূড়া কখনো খালি ছিলনা, এখনো নেই। আমাদের শহীদদের শোবার মাটি নির্দিষ্ট। তাদের ধারণাকৃত পতাকাও নির্দিষ্ট। তাদের অন্তরে থাকা ঈমানও নির্দিষ্ট। আর মুখের কালেমায়ে শাহাদাত ও কালেমায়ে তাওহীদও নির্দিষ্ট। কিন্তু তাদের যারা শহীদ করে দিল তাদের জন্য কি নির্দিষ্ট? শুধুই অপমান ও লাঞ্ছনা। আমাদের শহীদদের কেউই আমাদের কাছ থেকে মুছে যায়নি।

শহীদদের প্রত্যেকেই আমাদের মাঝেই বিরাজ করছে। চিরকাল আমাদের মাঝে স্থায়ী থাকবে। এই ২৩৭ জন শহীদদের প্রত্যেকের নাম ঠিক চানাক্কালের শহীদদের মতো স্মরণীয় করে রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাজ শুরু করে দেবে ইনশাআল্লাহ।পশ্চিমারা একটি শোকবাণী দিয়ে ৯টি উপদেশ দেয় : যারা বিদ্রোহ করেছে তাদের সাথে এ জাতির কোন সম্পর্ক নেই। এরা কিভাবে আমাদের সেনা, পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে প্রবেশ করল সেটাই দেখার বিষয়। এখন পশ্চিমাদের কেউ কেউ আমাদের বুদ্ধি প্রদান করছে।

পাশাপাশি এটাও বলছে যে, আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ ও বরখাস্তকরণের কারণে তারা উদ্বিগ্ন। আরে ভাই, তোমরা নিজেদের চরকায় তেল দাও (ইশিনিজে বাকিন)। আমার দেশে একটা বিরাট বিদ্রোহ হয়ে যাবে, ২৩৭ জন মারা যাবে, ২১৯১ জন আহত হবে আর তোমরা তার প্রেক্ষিতে একটি শোকবাণী দিয়ে ৯টি উপদেশ প্রদান করবে? এমন বুদ্ধি নিজেদের মধ্যেই লুকিয়ে রাখ। তোমাদের দেশ কোনো সন্ত্রাসী ঘটনায় ৫-১০ জন মারা গেলে গোটা পৃথিবী তোলপাড় করে ফেল। এখানে তুরস্কে একটি গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রে, সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত একটি দেশে শতকরা ৫২ ভাগ ভোটে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপতি ও শতকরা ৫০ ভাগ ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত আছে।

যার বিরুদ্ধে একটি বড় ক্যু করা হয়েছে। তোমরা এমন একটি সরকার ও রাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়িয়ে বিদ্রোহকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছ। এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় কাউন্সিল অথবা পশ্চিমা বিশ্বের কেউ এখানে শোক প্রকাশ করতে আসেনি ! বরং নির্লজ্জভাবে বিরক্ত না হয়ে এ ধরনের নাকাল কথাবার্তা বলে যাচ্ছে। আরও বলছে এরদোগান নাকি খুব মাথাগরম ও রক্তগরম এক মানুষ…।

আমরা আল্লাহ ছাড়া কারো দাসত্ব করিনা : আমরা কেবল আল্লাহর কাছে মাথা নত করি। আমরা কারও দাসত্ব গ্রহণ করিনি, কারো দাস হবো না। এটা গুলেনপন্থীদের মানায়। ওরা অন্যের দাস হয়েছে। ওরা আমাদেরকে শ্বাসনালীর খুব কাছে বলছে। হে মূর্খের দল! আমাদের শ্বাসনালীর অতি নিকটে হলেন একমাত্র এবং শুধু আল্লাহ ।

অন্য কেউ নয়। আর আমরা একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব গ্রহণ করেছি। এ সময় উপস্থিত একজন নিহত ব্যক্তির আত্মীয় ওদের প্রতি কোন রকম করুণা না দেখানোর অনুরোধ করলে তার জবাবে এরদোগান বলে, কোন করুণা করা হবে না।একটি উপাখ্যান একটি নবযুগের সামনে তুরস্ক : আমার দৃষ্টিতে, সেই রাতে যারা দেশ, জাতি, স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমেছিলেন তারা সবাই গাজী। আমি সেই রাত্রে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সংসদ দেখতে যখন গেলাম তখন জড়ো হওয়া লোকজন আমাকে বলছিল, আমরা নতুন এক স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছি, আমরা নতুন করে আবার ভবিষ্যৎ গড়ার সাধনায় রয়েছি।

সত্যিই আমরা কি মহান কি সুখী একটি জাতি ! পৃথিবীতে তোমাদের মতো কিংবা তোমাদের সমতুল্য কোন জাতি নেই। আমাদের শহীদেরা আমাদের গাজীরা ট্যাংক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার বিপরীতে জীবন বাজী রেখে দাঁড়িয়ে যাওয়া নাগরিকেরা একটি নতুন উপাখ্যান রচনা করেছে। তুরস্কের সামনে এক নব যুগের উন্মোচন করেছে। আমি আমাদের বোনদের বিশেষ করে ‘নেনে হাতুন’কে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

তিনি ট্যাংকের সামনে দৃপ্তভাবে দাঁড়িয়ে সেখানেই শহীদ হয়েছেন। এভাবে শঙ্কাহীন দৃঢ় অবস্থানের জন্য আমি আবারো আমাদের নারীদের সম্মানের সাথে স্মরণ করছি। শহীদ হননি কিন্তু শহীদ হবার দৃঢ় মনোবাসনা নিয়ে ট্যাংকের নিচে যারা শুয়ে গিয়েছিল সে সব দুঃসাহসিক তরুণদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি কি শহীদদের অভিনন্দন জানাবার যোগ্যতা রাখি? তাদেরকে তো মহান আল্লাহ ও নবীরা অভিনন্দন জানায়। তারাতো নবীদের প্রতিবেশী। অনেক আগেই তারা সুসংবাদ পেয়েছে। শহীদদের ব্যাপারে আমার প্রচণ্ড ঈর্ষা হচ্ছে।

আল্লাহ আমাদেরকেও শাহাদাতের সৌভাগ্য প্রদান করুন। জাতীয় ঐক্যেই শত্রুদের পরাজয় হয়েছে : ১৫ জুলাই রাতে তুরস্কের প্রতিটি অঞ্চলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা, প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষ, পৃথিবীর বিভিন্ন আদর্শের অনুসারী তুর্কিরা সবাই নেমে এসেছিলেন রাজপথে। সেই রাত্রে দোস্ত-দুশমন সবাই প্রয়োজনের তাগিদেই সব ধরনের ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে তুরস্কের স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ রক্ষার চেষ্টায় ব্রত হয়েছিলেন। যার ফলে আমাদের দেশ সম্পর্কে চলমান নেতিবাচক সকল ধারণা আমরা সে রাত্রেই বিনষ্ট করে দিয়েছি। ঐ রাত্রে প্রতিফলিত এবং কিছু ক্যামেরার লেন্সে ধারণকৃত দৃশ্যের প্রতিটিই যেন অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাস চালাতে হাঁটু গেড়ে বসা শক্তির মাথাগুলো হাতুড়িপেঠা করে নিচু করে দিয়েছে।ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের ফাঁদে পড়েছে :

কিছু দিন থেকে তুরস্কের মধ্যে বিরাজমান কিছু সামাজিক বিরোধ ও সমস্যাগুলো এই ঘটনায় আরও গভীর ও প্রকট হবে বলে যারা মনে করেছিল তাদের আশা পূরণ হয়নি। তারা মনে করেছিল পিকেকে এবং দায়েশের মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি রক্তখেকো বন্য সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোকে আমাদের উপর লেলিয়ে দিয়ে দেশটিকে নিঃশেষ করে দেবে। তারা মনে করেছিল, গুলেন গ্যাং এর পোশাকধারী সন্ত্রাসীরা ট্যাংক, বিমান ও বল নিয়ে মাঠে ছড়িয়ে পড়লে এ জাতি তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে। অথচ দেখুন, এ ব্যাপারে আমার রব কি বলছেন, ‘ওরা ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছে। আর আল্লাহও তাদের জন্য ফাঁদ তৈরি করেছেন। আর আল্লাহ উত্তম ফাঁদ বা প্ল্যান তৈরিকারী’।

১৫ জুলাই রাতে জাতি হিসেবে আমাদের জন্য ফাঁদ তৈরিকারীদের ফাঁদ তাদের মাথার উপর ঢেলে দিয়েছি আমরা। ৮১টি জেলার ৭ কোটি ৯০ লাখ নাগরিক এক হয়ে সংঘবদ্ধভাবে ৪০ বছরের প্রস্তুতি, ৪০ বছরের সঞ্চয় ও ৪০ বছরের কূটচাল ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস করে দিয়েছি। এখন হিসাব উল্টে গেছে। কিন্তু আমাদের কাজ শেষ হয়নি। এরা ক্যান্সার ভাইরাসের মতো সমাজের শরীরে ঢুকে পড়েছে। এখন সেই ভাইরাস থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। পুরোপুরি সেখান থেকে মুক্তি এবং শরীরকে ভাইরাস মুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়ছে।ষড়যন্ত্রকারীদের নির্মূল করা হবে :

এই প্রেক্ষিতে এখন অনেকেই বলছেন, ‘তোমরা দশ হাজার লোক আটক করেছ, বিশ হাজার লোক আটক করেছ। যত হাজারই হোক আমরা সবাইকে সাফ করব। কেন? কেন আবার কি? আচ্ছা, এরা যদি এই দেশে এভাবে বিচরণ করে তাহলে কি করবে দেশের জন্য? আমার পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ মনের অধিকারী নাগরিকদের প্রদত্ত ট্যাক্স দিয়ে কেনা বিমানগুলো দিয়ে তদের উপরই বোমা বর্ষণ করবে? কাজেই এদের এই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাজ করতে দেয়া সম্ভব নয়। সকল প্রতিষ্ঠান তাদের থেকে মুক্ত করা অপরিহার্য।ক্যু সফল হলে জাতি অন্যরকম তুরস্কের মুখোমুখি হত : ১৫ জুলাইয়ের সেনা বিদ্রোহ অন্যসব সেনাক্যু থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

কেবল সরকারকে ফেলে দেয়া কিংবা সরকার পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিবর্গকে আটক করা এর উদ্দেশ্য ছিলনা। বরং আমাদের গোটা সমাজব্যবস্থাকে পাল্টে দেয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। ষড়যন্ত্রকারীরা তখন সফল হলে ১৬ জুলাই থেকে এ জাতি এক অন্যরকম তুরস্কের মুখোমুখি হতো। এই বিশ্বাসঘাতক গ্যাং এর সাথে যারা জড়িত এবং আমেরিকার পেনিসেলভিনিয়ায় আস্তানা গাড়া গ্যাং সরদারের প্রতি যারা অনুগত, তারা এই দেশে বসবাসের ও এখানে তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ পাবার অধিকার রাখে না।

চানাক্কালের বিজয়ের চেতনায় উজ্জীবিত জাতিজাতির এমন ক্রান্তিকাল ও হুমকির সময় একে পার্টি, সিএইচপি ও এমএইচপি’র সমর্থকরা যেভাবে রাজপথে নেমে প্রতিরোধ করেছে তা আমাদের রাজনীতির সচরাচর শত্রুতা, প্রতিযোগিতা ও বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে একতা, সংহতি ও সামষ্টিকতার স্বাক্ষর বহন করছে। আমি প্রশংসা করছি এ জাতির যারা ‘শেষ কথা দেশ হলে’ অর্থাৎ দেশের প্রশ্নে সব কিছু পেছনে ফেলে অন্য রকম এক চেতনায় জেগে উঠে। এই দৃশ্য অবলোকন করে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে দেয়া মেসেজ খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।

২৫ জুলাই একে পার্টি, সিএইচপি ও এমএইচপি’র প্রধানরা রাষ্ট্রপতির ভবনে একত্রে এসেছিলেন। এসময় তারা একদিকে ক্যু বিরোধী শক্ত অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন অন্যদিকে আগামী দিনগুলোর পথ চলার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন। এই দায়িত্বশীলতা ও বিচক্ষণ মনোভাব ধারণের জন্য আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার পক্ষ থেকে একইসাথে জাতির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের আবারও অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

১৫ জুলাই রাতে আমাদের একক অবস্থান ‘চানাক্কালে’র স্বাধীনতা যুদ্ধের একতা ও সংঘবদ্ধতাকে যেন আবারও উদ্ভাসিত করে তুলেছে। এই দৃশ্য দেখার পরও ২০২৩ টার্গেট অর্জন ও আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে কারো মনে যদি সন্দেহের অবকাশ থাকে তাহলে বিশ্বাস করুন, আমি তার বুদ্ধি ও মানসিক অবস্থা নিয়ে আশঙ্কা করছি।এখন সামনে তাকানোর পালা১৫ জুলাই রাত পেরিয়ে আসা তুরস্কের ভোর আগের চেয়ে অনেক উজ্জ্বল, অনেক আলোকিত এবং মসৃণ হয়েছে। বিশেষ করে গত তিন বছর ধরে পরপর সংগঠিত অনেকগুলো ঘটনার কোন রহস্য যখন উদঘাটন করতে পারছিলাম না, তখন ১৫ জুলাই রাতে খুব ভালভাবে আমরা তা বুঝতে পেরেছি।

এ ঘটনার পর আমরা এখন যে পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছি এখান থেকে ‘ইতঃপূর্বে আমরা এরকম এরকম বলেছিলাম’ এমন কথা বলার কোন অর্থ ও প্রয়োজনীয়তা আর নেই। এখন থেকে কেবল সামনে তাকানোর পালা। ১৫ জুলাই রাষ্ট্র ও জাতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট না হলে সেটা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় লজ্জার বিষয়। কাজেই এটাকে উপলক্ষ করে এখন পর্যন্ত আমার প্রতি যত অপমান ও লাঞ্ছনা ছুড়ে দেয়া হয়েছে আমি সব অভিযোগ (মামলা) তুলে নিচ্ছি এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দিচ্ছি।

কারণ এই সুযোগকে যদি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারি তাহলে এই জাতি একদিন আমাদের কলার চেপে ধরার অধিকার পাবে। দেশের উপর প্রতিফলিত এই বাস্তবতা এবং স্পর্শকাতর পরিস্থিতির প্রতি সমাজের প্রতিটি সেক্টরের মানুষেরা বাস্তবসম্মত ও যথাযথ আচরণ করবেন বলে বিশ্বাস করছি। বিদ্রোহীদের দেশীয় ও বিদেশী সাহায্যকারীদের থেকে আমরা যখন হিসাব নিচ্ছি, তখন তারা বলে আমরা নাকি প্রতিশোধ নিচ্ছি। না, আমরা ন্যায় বিচার করছি। তাদের সাথে একত্রে পিকেকে, দায়েশ, ডিএইচকেপি-সি অর্থাৎ দেশ ও জাতির নিরাপত্তার জন্য হুমকি সকল অপশক্তির শিকড় উপড়ে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবনা আমরা। তুরস্ক একটি আইনি রাষ্ট্র (স্টেট অব ল)।

লক্ষ করলেই দেখবেন, বিদ্রোহ চেষ্টার পর থেকে এখনো আমরা আইন থেকে এতটুকু পরিমাণ সরে আসিনি। আমাদের গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়িত প্রতিটি কাজ ছিল যথাযথ আইন সম্মত।রাষ্ট্র চাইলেই মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে নাবিদ্রোহীদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে সমাবেশে উপস্থিত জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে এরদোগান বলেন, তুরস্ক সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত একটি রাষ্ট্র যেখানে আইনের শাসন রয়েছে। কাজেই রাষ্ট্র চাইলেই তা করতে পারবেনা। বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। এরপর এভাবে সংসদ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটা আমরা সবাই মেনে নেব। আমরা এটা এ জন্য করব যাতে কেউ বলতে না পারে কেন আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিলাম।

তবে এটা সত্য যে, পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেশেই মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। আমরাও আলাপ আলোচনা করে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে এ ব্যাপারে অগ্রসর হব। ১৫ জুলাই রাতে আমাদের জাতি যে ঐক্য, একতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের প্রদর্শন করেছে সেটা আরো মজবুত করে, টার্গেটগুলো ধারাবাহিকভাবে আরও প্রসন্ন করে আরও দৃঢ় পদক্ষেপে পথা চলা অব্যাহত রাখব।

মুসলিম দেশ নিয়ে এবার খেলা বন্ধ হবে : আমরা কেবল ফেতুল্লাহ গুলেনের সন্ত্রাসীদের সাথেই নয়, অন্য সন্ত্রাসী সংগঠন ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত আমাদের অভিযান আরও শক্তিশালী ও আরও কার্যকরভাবে অব্যাহত রাখব। আমার দেশ নিয়ে খেলোয়াড়দের খেলা আরেকবার আমরা নস্যাত করে দিয়েছি। এখন থেকে সিরিয়া নিয়ে চলতে থাকা খেলাও নস্যাত করে দেব। ইরাক নিয়ে খেলাও বন্ধ করে দেব। লিবিয়া নিয়ে খেলাও বানচাল করে দেব। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এমনকি পৃথিবীর সব প্রান্তের মজলুম ও ক্ষতিগ্রস্তদের কষ্ট-কান্না এবং সম্পদ লুটপাটের খেলাও নস্যাত করে দেব।

বন্ধুরা, আমাদের দেশে যা হচ্ছে এগুলো ঐ দেশগুলো থেকে বিচ্ছন্ন কোন ঘটনা নয়। সিনারী এক, কিন্তু মঞ্চগুলো শুধু আলাদা। তুরস্কের সাথে আছে বিশ্বের মজলুমদের দোয়া১৫ জুলাইয়ের রাত শুধু আঙ্কারা কিংবা ইস্তাম্বুলের জন্য নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরের লাখ লাখ মানুষের অন্তর তুরস্কের সাথে ছিল। আমাদের জন্য তাদের হাতগুলো ছিল আকাশমুখী। আমান ইয়া রাব্বি! (অহ মাই গড) এ এক অপরূপ দৃশ্য !

এই ভূমি পৃথিবীর ছোট্ট এক প্রান্তে অবিস্থত। অথচ প্রতিটি প্রান্ত থেকে তোমাদের জন্য সালাম ও দোয়া রয়েছে। পৃথিবীর অন্য প্রান্তের এই মানুষগুলো তুরস্কের এই সংগ্রামকে আমাদের স্বাধীনতা ও ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য মনে করছে। ওরা আমাদের জন্য শত্রু পালে আমাদের উপর ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমাদের পেছনে রয়েছে অনেক বড় শক্তি আর পাশে আছে অনেক বেশি সমর্থন। সেটা হলো গোটা বিশ্বের মজলুমদের দোয়া।

বিদ্রোহীদের সাথে সম্পর্ক রাখলে বন্ধুত্ব থাকবে নাপশ্চিমা বিশ্বের বন্ধুদের সম্পর্ককে একপাশে রেখে বলতে চাই, অনেক রাষ্ট্র এবং অনেক রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আমাদের দেশের সেনা বিদ্রোহের ব্যাপারে যে মনোভাব দেখিয়েছেন, তা গণতন্ত্রের নামে একধরণের লজ্জাকর দলিল। আমাদের নাগরিকদের সেনা পোশাক পরিহিত সন্ত্রাসীদের ট্যাংকের নিচে জীবন দেয়া, অস্ত্রধারীদের আঘাতে জর্জরিত হওয়া, হেলিকপ্টার দিয়ে নাগরিকদের উপর হামলা, বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ, দু:খজনকভাবে এগুলো তাদের নজরে আসে না। উল্টো বিদ্রোহীদের সাথে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ট করছে। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জারি করা জরুরি অবস্থা নিয়ে তাদের যত চিন্তা। আচ্ছা, এ ধরনের ব্যবস্থা কি আমেরিকা নেয়নি, ফ্রান্স নেয়নি? জার্মানিতে নেই কি?

অনেক দেশেই আছে। এ ধরনের ব্যবস্থাই আছে। কিন্তু আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া এত বড় ঘটনা তাদের দেশে ঘটেনি। নিহত ২৩৭ জনের জন্য শোক প্রকাশ ও ২১৯১ জন আহতের জন্য সুস্থতা কামনা না করে, তারা বিদ্রোহীদের সাথে খারাপ আচরণ করার আশঙ্কা নিয়ে চিন্তিত। খোলাখোলি বলছি, যারা বিদ্রোহী সন্ত্রাসীদের ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন কিন্তু তুরস্কের গণতন্ত্র নস্যাতের ব্যাপারে, এ জাতির জীবন ও ভবিষ্যতের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা করেন না এমন নেতা ও দেশের সাথে আমাদের কোন বন্ধুত্ব নেই। এটা এভাবে তারা জেনে নিক। তাদের সাথে আমাদের ডিপ্লোমেটিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু আমাদের অন্তরে তাদের জন্য কোন স্থান নেই।আমরা কাফনের কাপড় পরেই রাজপথে নামি সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে যারা কথা বলেন তাদের বলেছিলাম যে, তোমরা আসো, আমাদের গণতন্ত্র ও সংসদীয় সিস্টেম দেখে যাও। তারা আসেনি। সামান্যতম গণতন্ত্র বিশ্বাস করে থাকলে এসে দেখে যাও। এদেরমধ্যে এমনও আছে যারা ব্যর্থ বিদ্রোহীদের সমালোচনা করে বলছে, তোমরা কেন আগে এরদোয়াকে হত্যা করতে পারলে না। বুদ্ধিদাতারা এভাবে খোলাখোলি তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করছে। বলছে যে তোমরা ভুল করেছ। তোমাদের উচিত ছিল আগেই এরদোগানকে হত্যা করা। আহা ! এ ধরনের চিন্তাকে আমরা পাত্তাই দেই না।

আমরাতো কাফনের কাপড় পরেই রাজপথে নেমেছি। আমি এর আগেও বলেছি, আমি ঐ রাতের শহীদদের ব্যাপারে আমার ঈর্ষা আছে। শাহাদাতের মর্যাদার সবাই উপযুক্ত নয়। সবাই সে ভাগ্য লাভ করতে পারে না। তুরস্কের ভিশন ২০৭১ : আমরা এখন হয়তো সবদিক থেকে একটি আদর্শ অবস্থানে নেই। কিস্তু যে কোন ক্রাইসিসে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে যাবার শক্তি রাখি আমরা। সুযোগ পেলেই আমরা ২০২৩ এর টার্গেটের কথা বলি। আমরা এই ভিশনে পৌঁছাবই। কেন ঐ দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ঐ সময়ে এ জাতির ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে মনে করছি। ওরা যা পারে করুক। যে ধরনের ষঢ়যন্ত্র করতে চায় করুন। যে ধরনের খেলা খেলতে চায় খেলুক।

আল্লাহর ইচ্ছা ও সাহায্যে আমরা ২০২৩ ভিশনে পৌঁছাবই। আমরা হয়ত দেখবনা। কিন্তু আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ও আমাদের নাতি-নাতনিরা দেখতে পাবে। এভাবে ২০৫৩ ও ২০৭১ সালের ভিশন বাস্তবায়নের জন্য এই মাটিকে আমরা প্রস্তুত করে যাব।

সূত্র :http://www.tccb.gov.tr/haberler/410/49828/237-sehidimizin-her-birinin-adini-anitlastiracagiz.html
http://www.haberler.com/cumhurbaskanligi-kulliyesi-nde-sehitleri-anma-8659640-haberi/
অনুবাদক : আবু সালেহ ইয়াহইয়া, পিএইচডি গবেষক।

সুচির পদত্যাগ করা উচিত

October 25, 2017

কাশ্মির ইস্যুতে সংলাপে বসবে ভারত

October 25, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *