যেভাবে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবেন

যেভাবে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবেন
— ড. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
——————————————-

বইঃ যেভাবে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবেন
মূলঃ ড. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
অনুবাদকঃ মুফতি মুহাম্মাদ মামুনুর রশীদ
প্রকাশনায়ঃ হুদহুদ প্রকাশন।
মূল্যঃ ২৪০ টাকা। পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১২।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-
ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নেক আমল করে এবং ঘোষণা দেয় আমি মুসলিম। [হা-মীম আস-সাজদাহঃ৩৩]
.
এ থেকে সহজে প্রতিয়মান হয় দাঈ ইলাল্লাহর মর্যাদা। একজন মানুষ, যে বেঁচে আছে ইসলামের ওপর এবং ঈমানের সহিত মৃত্যুবরণ করার ওপর নির্ভর করছে তার কাঙ্খিত গন্তব্যস্থলের ঠিকানা। যে জীবন পার করেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা মেনে তার নিশ্চয়ই রাসূলদের পাঠানো সম্পর্কে অনবহত থাকার কথা নয়।
.
পৃথিবীতে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম আগমনের মূল কারণ আল্লাহর দিকে আহ্বান করা ছিলো। একত্ববাদে বিশ্বাসী আকীদা যেন সবাই লালন করে এবং চিরস্থায়ী শাস্তি থেকে বেঁচে যায় সেজন্য প্রতিটি সময় প্রয়োজন অনুসারে মহান রাব্বুল আলামীন রাসূল প্রেরণ করেছেন। আমাদের সৌভাগ্য, আমরা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত হতে পেরেছি। এই দীন যার পূর্ণতা আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন এবং নবুওয়াতের ধারা চিরতরে বন্ধ এ ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি পবিত্র কুরআনে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন এই উম্মাহর দায়িত্ব। এক জায়গায় বলা হয়েছে –
.
তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির
(কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভাব
হয়েছে। তোমরা ন্যায়কার্যে আদেশ এবং
অন্যায় কার্যে নিষেধ কর এবং আল্লাহতে বিশ্বাস কর। [সূরা আলে ইমরান: ১১০]
.
এটা যখন নিশ্চিত হয়ে গেল যে, নতুন করে নবুওয়াতের আর কোনো সম্ভাবনা নেই এবং আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকা আবশ্যক একটা দায়িত্ব তখন একজন দাঈ ইলাল্লাহর জন্যে কীভাবে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকতে হবে এটা জানাও আবশ্যক হয়ে যায়। সৌদি আরবের শাইখ আরিফী বক্ষ্যমাণ এই পুস্তকে সেই পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। কীভাবে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবেন তা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের নমুনা সামনে রেখে দ্বীনি দাওয়াতের মূল উপাদান, উপদেশ দানের পদ্ধতি, দাওয়াতের মাধ্যম, উপযুক্ত পন্থা অবলম্বন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
.
বইটি শাইখের অন্যান্য বইগুলোর মতোই সহজ সাবলীলভাবে লিখা। দাওয়াত ও তাবলীগ বোঝাতে গিয়ে জটিল তত্ত্বের অনুপ্রবেশের বাহুল্য যেমন নেই তেমনি আবেগতাড়িত বর্ণনাও নেই। বরং কুরআন থেকে নির্বাচিত আয়াত এবং হাদীসের চয়নকৃত কিছু কাহিনি থেকে আলোচনা করা হয়েছে। মূলত এ পুস্তক রচিত হয়েছে লেখকের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে যা তিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে এবং সংশোধনের পথে আহ্বান করতে গিয়ে আহরিত করেছেন এবং পাঠককে প্রচীন পদ্ধতি অবলম্বনের মেসেজ দিয়েছেন যা পূর্ববর্তী সবাই বলে গেছেন। অর্থাৎ সীরাত সামনে রেখে এ দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়া। তবে বইটির বিশেষ একটি দিক হচ্ছে, লেখক এ পুস্তকে আধুনিক কিছু উপাদান যা আজকাল অপাত্রে ব্যবহূত হচ্ছে, তা কীভাবে দাওয়াতের পথে কাজে লাগতে পারে তা বলে দিয়েছেন।
.
সর্বোপরি আল্লাহর দিকে কীভাবে মানুষকে ডাকতে হবে তা বোঝাতে ভালো একটি বই। যদিও এই বিষয়টার ওপর বিস্তৃত অধ্যয়ন দাবি রাখে আবার নিজের জানা একটি আয়াতও পৌঁছে দেওয়ার জন্যে বলা হয়। তা কীভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে অধিক কল্যাণকর তা সংক্ষিপ্ত এই পুস্তকে আলোচিত হয়েছে। বইটি যাঁরা ‘দাঈ’ তাঁদের জন্যে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া বাংলায় আল্লাহর পথে আহবানের ওপর কিছু বই আছে সেগুলোও সংগ্রহ করা যেতে পারে। মহান এই দায়িত্ব উম্মাহর সেরা লোকেরা বিভিন্ন মাধ্যমে করে যাচ্ছেন। আমাদেরও উচিত সেই যাত্রায় অংশগ্রহণ করা কারণ এটা একজন মুমিনের জন্যে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং অধিক সওয়াব পাওয়ার সঙ্গে তার ওপর যে দায়িত্ব তাও পালিত হচ্ছে। বইটির অনুবাদ ভালোই। বইটি আল্লাহ আমাদের জন্যে উপকারী বানিয়ে দিন ; আমীন।

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে বোল্ট!

October 26, 2017

বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত পঠিত ১০ টি বই

October 26, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *