বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত পঠিত ১০ টি বই

বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত পঠিত ১০ টি বই
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

০১. মহাগ্রন্থ আল কোরআন:
ভাষা আরবি, ২৩ বছর ধরে আল্লাহ তায়ালার বানী সম্বলিত এই গ্রন্থ আল্লাহ তাআলার ফেরেশতা জীবরাইল(আ) পৃথিবীতে বহন করে এনেছেন, মহান আল্লাাহ তাআলার পক্ষ থেকে শেষনবী হযরত মোহাম্মদ (স) এর উপরঅবতীর্ণ হয় এই গ্রন্থ। এটা মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ হলেও কোরআনের নিজস্ব ভাষ্যমতে এটা সমগ্রমানবজাতির জন্য একটি গাইড হিসেবে প্রেরিত। প্রথম মুদ্রিত প্রকাশ ১৭২০ সাল, হামবুর্গ।পবিত্র কোরআনের আরবি ভার্সনটাই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী বিক্রিত গ্রন্থ। কারণ পৃথিবীর সব দেশেরমুসলিমরা এই গ্রন্থ আরবি ভাষায় পাঠ করে থাকে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ হাজার পেশাদার ও অপেশাদারপ্রকাশক এটি প্রকাশ করে থাকে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের প্রকাশনা থেকে প্রায় ২ কোটি এবংবিক্রয় ১ কোটি ৫ লাখ ছেড়ে যায়। বাকী কপি বিভিন্ন দেশে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। অনুবাদিতকোরআনসহ হিসেব করলে এই সংখ্যা ২ কোটি ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। ১৭৮৭ সালে রাশিয়ার সেন্টপিটাসবার্গ শহরে মাওলানা ওসমানের এই কোরআন মুদ্রণ ছাপার পর থেকে হিসেব করলে গত আড়াইশ বছরবা সাত প্রজন্মে এর একটা আনুমানিক সংখ্যা দাড়াবে ১৫শ কোটি এর মতো। এই হিসাবঅনুবাদিত কোরআন এবং হাতে লেখা কোরআন ছাড়া। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা বিচ্চিন্ন ভাবেবিক্রি করার কারণে ইউকিপিডিয়া বা অন্য কোথাও এর কোনো সঠিক হিসেব নেই।

০২. বাইবেল: ইংরেজী:
ইতিহাস থেকে জানা যায় খোদাইকৃত বাইবেল প্রথম মুদ্রিত প্রকাশ ১৪৫০ সালে । যদিও তা পুরোঅংশ ছিলো না। মুদ্রণ যন্ত্র আবিস্কারের আগে ছাপ দেয়া বইবেল ২০,৩০,৪০ এরকম আংশিক পৃষ্ঠা আকারেছাপা হয়। বর্তমান বিশ্বে বিক্রয় সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থবাইবেল এর ইংরেজী অনুবাদ। ইসলাম ধর্মে একে বলা হয় ইনজিল কিতাব। কোরআন অনুসারে এটিআল্লাহর নবী ঈসা মাসীহ (আ) এর উপর নাযিল হয়। যদিও ছাপা ও বিতরনের দিক থেকে এটি কোরআনেরচেয়ে অন্তত ১০ গুণ বেশী হবে। কিন্তু সারা বিশ্বে এটি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় বিধায় বিক্রিরসংখ্যা কোরআন এর চেয়ে কম। এটিও উইকিপিডিয়া বা গিনেজবুকের হিসেবে নেই। তবে সাধারণতবিভিন্নভাবে বিভিন্ন পাবলিশারদের বাইবেল বিক্রির সংখ্যা বছরে কোটি এর মতো এবং সর্বমোটছাপা ৪কোটি ৫০ লাখ থেকে ৫ কোটি বা তারও বেশী হতে পারে। এ যাবত প্রকাশিত বাইবেলের সংখ্যাদাড়াবে ৫০ হাজার মিলিয়ন কপি।


০৩. শ্রীমৎভগবত গীতা:

সর্বাধিক বিক্রিত গ্রন্থ তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে শ্রীমৎভগবত গীতা, হিন্দু ধর্মে বেদ ওমহাভারত নামে আরো ধর্মগ্রন্থ থাকলেও সবচেয়ে বেশী পঠিত গ্রন্থ গীতা। গীতার ক্ষেত্রেও একই কথাপ্রযোজ্য। তবে সংখ্যার বিষয়ে গীতার বেলায় মহানবী (স) এর জীবনীগ্রন্থের মতো বিভিন্ন ভাষায়মুদ্রিত হিসেবকে অর্ন্তভ’ক্ত করে বলা যায় বছরে বিশ্বজুড়ে ৩০ লাখ গীতা বিক্রয় হয়। ভারতের কয়েকশ ভাষায়এটি ১৮০ কোটির বেশী গীতা প্রকাশিত হয়েছে বলে একটা খসড়া হিসেব করা যেতে পারে। এই হিসেবঅবশ্যই গত ৩শ বছরের অর্থাৎ মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার পরের।

০৪. বোখারী শরীফ:
ইমাম বোখারীর এই অনন্য সংকলন মুসলমানদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। হাদীসগ্রন্থের মধ্যে ৬টিবিখ্যাত গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোকে বিভিন্ন বিচারে সঠিক ও নির্ভুল বলে গন্য করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়েবেশী বিক্রি হয় প্রথম হাদীস গ্রন্থ সহীহুল বোখারী। কোনো মুসলিম যদি হাদীসের একটি বইকিনেন বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় সেটা হয় বোখারী শরীফ। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ইসলামিকবুকশপে টপচার্ট দেখলে এই কথার সত্যতা পাওয়া যাবে। এই সময়ে আনুমানিক বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায়মিলিয়ে এই বইয়ে বছরপ্রতি বিক্রির সংখ্যা ২০ লাখের মতো এবং এ যাবত বিক্রির সংখ্যা ৫০ কোটি এরবেশী হবে।

( প্রথম চারটি বইয়ের হিসেব ইসলামী প্রকাশনা ও বুখশপের হিসেব থেকে বিশ্লেষণপূর্বক নির্নয় করা হয়েছে। যে কেউ এ ব্যাপারে একমত হবেন এমনটা আশা করার কারণ নেই, আমার নির্নীত সংখ্যার একটা খসড়া হিসেবে এবং ব্যাখ্যা আমার কাছে রয়েছে- লেখক।)

০৫. এ টেল অব টু সিটিজ: (A Tale of Two Cities)
লেখক চার্লস ডিকেন্স: প্রথম প্রকাশ : ১৮৫৯, এ যাবত মোট বিক্রি ২০০ মিলিয়নের বেশী। ডিকেন্সের লেখা ফরাসি বিপ্লবের পটভূমিকায় রচিত এতে লন্ডন ও প্যারিস শহরকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। ফরাসি বিপ্লব শুরু সময়ে ফ্রান্সের চাষীদের দুর্দশার কথা, বিপ্লবের প্রথম বছরগুলোয় বিপ্লবীদের নিষ্ঠুরতা এবং একই সময়ে লন্ডনের জীবনকে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি ১৯৫৭ সালে মঞ্চনাটক হিসেবেও উপন্যাসটির কাহিনী পরিবেশিত হয়েছিল। এ পর্যন্ত ‘এ টেল অব টু সিটিজ’ বিক্রি হয়েছে দুইশ’ মিলিয়নেরও বেশি কপি। সারা পৃথিবীতে অনুবাদ হয়েছে পঞ্চাশেরও বেশী ভাষায়। ৪৫ অধ্যায়ের এ উপন্যাসটি ১৮৫৯ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩১ সপ্তাহ ধরে প্রকাশিত। পরে অবশ্য এটি থেকে তৈরি হয়েছে সিনেমা। অসংখ্যবার ইউরোপ এমেরকায় এটি রেডিওতে এবং টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। বানানো হয়েছে অনেক নাটকও। মূলত উইকিপিঢিয়ার তথ্যমতে এটাই বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত বই। ২০০ মিলিয়ন এর বেশী এই বই সারাবিশ্বে বিক্রি হয়েছে।

০৫. দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস : (The Lord of the rings)
ইংরেজ ভাষাবিজ্ঞানী জে. আর. আর. টলকিন রচিত একটি মহাকাব্যিক হাই ফ্যান্টাসি উপন্যাস। এই উপন্যাসকে বিংশ শতাব্দীর সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রচনা বলে ধরা হয়। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে, মুখ্যত দ্বিতীয বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ধাপে ধাপে এই উপন্যাসটি রচিত এটি তিন খন্ডে প্রকাশিত হয়। যুদ্ধোত্তর বাজারে কাগজের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ১৯৫৪-৫৫ সালের আগে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে একাধিকবার এই উপন্যাস পুনর্মুদ্রিত হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়। আন্তজাতিক দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এই বইয়ের মোট বিক্রি ১৫০ মিলিয়ন কপি।

০৬. দ্য হবিট: (The Hobbit)
,জে. আর. আর. টলকিন এর শিশু সাহিত্য। এটি ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। শিশু সাহিত্যে একটি ক্লাসিক বই হিসাবে জনপ্রিয়। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় বইটি অনুবাদ করা হয়েছে। কল্পকাহিনীর ভিত্তিক উপন্যাস হলেও যা সমালোচকদের প্রশংসা পায়। বিখ্যাত কার্নেগী পদক জন্য মনোনীত হয় এবং শ্রেষ্ঠ কিশোরী কথাসাহিত্য হিসেবে নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউন পুরস্কার লাভ করে। বইটি এখনও জনপ্রিয় এবং শিশু সাহিত্যে হিসেবে এই বইয়ের এ যাবত কালের বিক্রি ১৪১ মিলিয়ন কপি।

০৭. দি লিটল প্রিন্স : (The Little Prince)
ফ্রেঞ্ছ ভাষার লেখা। ফরাসী লেখক আন্তোনিও ডি সেইন্ট এক্সুপেরী এই বইটি প্রথম লেখেন ১৯৪৩ সালে। ফ্রান্সে ভোটের মাধ্যমে বিংশ শতাব্দির সবচেয়ে সেরা বই নির্বাচিত হয়েছিল এটি। এ পর্যন্ত ২৫০ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং মোট বিক্রির পরিমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন কপি! পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা বিক্রি এবং ফরাসী ভাষার সর্বাধিক বিক্রিত বই।
ডিসেম্বর ৩০, ১৯৩৫ সালে অর্থাৎ এই বইয়ের লেখক তার বিমান নিয়ে সাহারা মরুভূমিতে দূর্ঘটনায় পড়েন। জনশূন্য মরুভূমিতে খাদ্য এবং পানিবিহীন। প্রচন্ড সূর্যতাপে পানিশুন্যতা দেখা দিল। তাদের বিভিন্ন ধরনের হ্যালোসিনেশন শুরু হল সেখান থেকেই তিনি কাহিনী চিন্তা করেন। মূল কাহিনী একজন বৈমানিককে নিয়ে যিনি প্লে ক্র্যাশ করে সাহারা মরুভূমিতে গিয়ে পড়েন। তা মূলত এক্সুপেরীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। এখানে এক রাজার গল্প আছে। সর্ব ‘ক্ষমতাময়’ এই রাজা আকাশের তারকাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে তবে সে শুধু এমন আদেশ দেয় যেটা তারকারা এমনিতেই করতো। এই কথাটা সে তার প্রজাদের ব্যাপারে এই ভাবে বলে -“সাধারণ প্রজাদের কর্তব্য হচ্ছে রাজার আদেশ মানা, শুধু যদি সেই আদেশ ন্যায্য হয়।

০৮. হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন: ((Harry potter and the Philosfers Stone)
ব্রিটিশ লেখিকা জে. কে. রাউলিং রচিত হ্যারি পটার নামক কাল্পনিক উপন্যাস সিরিজের প্রথম উপন্যাস। এখানে হ্যারি পটার নামে একজন কিশোর জাদুকরের গল্প যে এগার বছর বয়সে সর্বপ্রথম আবিষ্কার করে যে সে একজন জাদুকর পরে সে কালো জাদুকর লর্ড ভলডেমর্টকে পরাজিত করে এবং পরশপাথরটিকে উদ্ধার করে। সারা পৃথিবীতে হ্যারিপটার সিরিজের বই প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে বিক্রির ধুম পড়ে যায়। পৃথিবীর বিভন্ন ভাষায়ি এই সিরিজের বই বেশ জনপ্রিয়। হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন বইয়ের কাহিনী শুরু হয়, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াাবহ কালো জাদুকর লর্ড ভলডেমর্ট এর পতনের মাধ্যমে। ১১০ মিলিয়ন কপি পর্যন্ত এই বইয়ের বিক্রির রেকর্ড হয়েছে।
রাউলিং এর জাদুকরি লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে এই উপন্যাসের মাধ্যমে ২৬ জুন জুন ১৯৯৭ সালে। .১৯৯৮ সালে , স্কলাস্টিক কর্পোরেশন এর অধীনে যুক্তরাস্ট্রে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন প্রকাশিত হয়। এই বই শিথ সাহিত্যে ইউরোপ ও আমেরকিার সব বড় বড় পুরষ্কার বাগিয়ে নিয়েছে। এই বই ১৯৯৯ সালে সর্বোচ্চ বিক্রিত বইে হিসেবে ইয়র্ক টাইমস তালিকার শীর্ষে পৌঁছে । এর থেকেি তৈরীকৃত সিনেমাও সারাবিশ্বে বেশ জনপ্রিয়।

৯. অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ার নান: (And Then there were none)
বিশ্ববিখ্যাত গোয়েন্দা গল্পের লেখক আগাথা ক্রিস্টির একটি সেরা রহস্য উপন্যাস, তিনি এ ধরনের উপন্যাস লেখার জন্য সারাবিশ্বে জনপ্রিয়। এই বইটি প্রথম ১৯৩৯ সালের ৬ নভেম্বর কলিন্স ক্রাইম থেকে যুক্তরাজ্যে সালে প্রকাশিত হয়।
‘‘ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’’ তিনদিনের যাত্রায় ইস্তাম্বুল থেকে লন্ডন যাওয়ার মাঝপথে তুষারপাতে আটকা পড়ে। যদিও বছরের এটা মন্দা সিজন, কিন্তু অদ্ভূতভাবে ট্রেন পুরো ভর্তি, নানা দেশের নানা জাতের বিচিত্র সব মানুষে, যাদের মাঝে আছেন বেলজিয়ান গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোও। এর মাঝেই ঘটে যায় এক নৃশংস হত্যাকান্ড, পোয়ারোর ঠিক পাশের বার্থেই, আর চারদিক তুষারে ঢাকা জনমানবহীন এলাকায় বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় এক-ট্রেন রহস্যময় সাসপেক্টদের মাঝে পোয়ারো শুরু করেন তদন্ত এটাই হচ্চে এই কাহিনীর শুরু এবং মূল সূত্র। ইতোমধ্যে এই বইয়ের বিক্রি ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

১০. ‘শী’ : ( She)
হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।’শী’ প্রথমে গ্রাফিক ম্যাগাজিনে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। এটি আয়েশা সিরিজের প্রথম বই। ‘আয়েশা’ সিরিজের প্রচুর জনপ্রিয়তা রয়েছে। কেউ বলেছেন বইটি অত্যন্ত ভিক্টোরিয়ান। বইটি সর্বোচ্চ বিক্রিত বইয়ের তালিকায় অষ্টম। বিক্রি হয়েছে ১০ কোটি কপিরও বেশি। ৪৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ‘শী’ দ্বারা রাইডার হ্যাগার্ড ‘লস্ট ওয়ার্ল্ড’ সাব জনরার প্রবর্তন করেছেন।পরবর্তী যুগে ফ্যান্টাসি,এডভেঞ্চারের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। অনেকে সমালোচনা করলেও, বইটি অধিকাংশ পাঠকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই বই তার লেখক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডকে অমর করে দিয়েছে।

‘শী’ মূলত এডভেঞ্চার ঘরানার রচনা। হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড তার কর্মস্থল আফ্রিকার অভিজ্ঞাতকে বইটি লেখায় কাজে লাগিয়েছেন। তিনি ছয় সপ্তাহের মধ্যেই বইটি লেখা সম্পূর্ণ করেন। তিনি তার লিটারেরি এজেন্টের অফিসে বসে ‘শী’ এর শেষটুক লিখেছিলেন। লেখা শেষে ম্যানুস্ক্রিপ্ট এজেন্টের টেবিলে ছুড়ে ফেলে বলেন, এটাই সেটা, যার জন্য আমি বিখ্যাত হয়ে থাকব। প্রাচীন বর্বরদের বর্ণনাও খুবই সুন্দরভাবে দেওয়া হয়েছে এই বইতে। বইটির মূল চরিত্র আয়েশা। খুবই রহস্যময় চরিত্র। আয়েশার জন্ম দুই হাজার বছর পূর্বে আরবে। অসম্ভব রূপধর, কোনো মানুষের পক্ষে তার রুপকে সহ্য করা দুষ্কর। আয়েশা চরিত্র অস্বাভাবিক ক্ষমতা সম্পন্ন। তাকে ঘিরেই রহস্য আর কাহিনী এগোতে থাকে। বাংলা ভাষা সহ পৃথিবীর অনেক ভাষায় বইটির অনুবাদ বেরিয়েছে। এই বই শত সমালোচনাকে জয় করে বিক্রির ঘরে ১০০ মিলিয়ন ছুয়ে ফেলেছে।
এছাড়া সেরা দশের মধ্যে আরেকটি বই রয়েছে। সেটাও ১০০ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। চাইনিজ ভাষায় লেখা বইটির ইংরেজী নাম দ্যা রেড চেম্বার। ঐতিহ্যবাহী চিনকে নিয়ে লেখা ১৮ শতকের পটুভমির এই বইয়ের লেখক ঈধড় ঢঁবয়রহ। এছাড়া বিশ্বের সেরা দশের মধ্যে থাকা আরো সিএসলেওস এর লেখা ইংরেজী উপন্যাস দি লায়ন দি উইচ এর দ্যা ওয়ার্ডরোব মোট বিক্রি ৮৫ মিলিয়ন প্রকাশকাল ১৯০২। রিচার্ড ব্যাচ এর লেখা জোনাথন লিভিংস্টোন সীগাল এটি ১৯৭০ সালে ইংরেজীতে প্রকাশিত মোট বিক্রি ৪৪ মিলিয়ন। ই এল জেমস এর লেখা ফিফটি শেডস অব গ্রে মোট বিক্রি ৪০ মিলিয়ন, প্রকাশ ২০১১ ভাষা ইংরেজী।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, ক্যাডেট কলেজ ব্লগ, সামহোয়ার ইনব্লগ, রকমারী, রিডার্স ডাইজেস্ট, জুমাবার

যেভাবে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবেন

October 26, 2017

গুজরাটেই পতন হবে মোদির?

October 26, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *