অবৈধ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার জন্য গর্ব করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অবৈধ রাষ্ট্র ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রতিষ্ঠায় ব্রিটেনের ভূমিকা থাকার কারণে গৌরব প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা যে ভূমিকা পালন করেছি সেজন্য আমরা গর্ববোধ করি, এবং আমরা গর্বভরে সে ঘটনার শতবর্ষ উদযাপন করব।’

থেরেসা মে কুখ্যাত বেলফোর ঘোষণার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এ বক্তব্য দিয়েছেন।

১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস আর্থার বেলফোর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য কথিত আবাসভূমি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ব্রিটেনের অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। কলঙ্কজনক ওই ঘোষণা ‘বেলফোর ঘোষণা’ নামে পরিচিত।

ওই ঘোষণা অনুযায়ী ব্রিটেন ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টার অঙ্গীকার করে। ফিলিস্তিন তখন ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। বেলফোর ঘোষণার ৩১ বছর পর ১৯৪৮ সালে আমেরিকা ও ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় জবরদস্তিমূলকভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আত্মপ্রকাশ করে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল।

ব্রিটেন ও তার সহযোগীদের পৃষ্ঠপোষকতায় ৫৩১টি ফিলিস্তিনি গ্রাম ও শহর উচ্ছেদ করে ইহুদিদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে আমেরিকা ও ব্রিটেনের সহযোগিতায় অব্যাহতভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড অধিগ্রহণ করে যাচ্ছে ইসরাইল।

১৯৪৮ সালে বেলফোর ঘোষণা বাস্তবায়িত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর ২ নভেম্বরকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন ফিলিস্তিনি জনগণসহ বিশ্বের মুসলমানরা।

এ সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে আরো বলেন, “বেলফোর ঘোষণার ব্যাপারে কিছু মানুষ যে স্পর্শকাতরতা দেখায় সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আমরা জানি, এ ব্যাপারে আমাদের আরো অনেক কর্তব্য রয়ে গেছে।”

আবার পশ্চিমতীর দখল করে নেবে ইসরাইল!
ইসরাইল কর্তৃক পশ্চিম তীরের কয়েকটি ফিলিস্তিনি মিডিয়া হাউজ বন্ধের পর অঞ্চলটিতে পুনরায় ইসরাইলি দখলদারিত্ব ফিরে আশার আশঙ্কা করছেন ফিলিস্তিনিরা। গত সপ্তাহের শেষ দিকে রামাল্লাহ, নাবলুস, বেথলেহেম ও হেবরনে কয়েকটি মিডিয়া হাউজের কার্যালয় বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি সেনারা।

১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তির পর ইসরাইল পশ্চিম তীরের বেসামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। ২০০০ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার পর তারা নিরাপত্তা দায়িত্ব প্রত্যাহার করে নেয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, পশ্চিম তীরে একটি ছায়া সরকার গঠন করছে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনা সদর দফতরের সরকারি কর্মকাণ্ডের সমন্বয় দফতরের (সিওজিএটি) তত্ত্বাবধানে এই ছায়া সরকার গঠিত হচ্ছে। রামাল্লায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের দফতরের মাত্র এক মাইলেরও কম দূরত্বে এই বিভাগটির কার্যালয় অবস্থিত। পশ্চিম তীরের মিডিয়া হাউজগুলো বন্ধ করেছে এই সিওজিএটি। এই বিভাগটির ক্ষমতা রয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেয়া যেকোনো অনুমোদন বাতিল করার। সিওজিএটির সমন্বয়কারী ইয়োভ মরদেশাই এই মিডিয়া হাউজগুলোকে ইসরাইলি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনেছেন।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে এমন একটি কর্তৃপক্ষতে পরিণত করেছে, যাদের কোনো ক্ষমতা নেই। ফিলিস্তিনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে জেরুসালেমের একটি মিলিটারি সেন্সরশিপ অফিস থেকে ইসরাইল পশ্চিম তীরের মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করত। প্রতিদিন সংবাদপত্র প্রকাশের আগে সেন্সর কর্মকর্তাদের অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। তবে অসলো চুক্তির পর এই বিষয়টি ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে চলে যায়। কিন্তু গত সপ্তাহে এই তিনটি মিডিয়া হাউজ বন্ধ করে দেয়ার পর ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমে নতুন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পশ্চিম তীরের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে নতুন করে ও নতুন আঙ্গিকে ইসরাইলি সামরিক সেন্সরশিপ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিমতীরে ইসরাইলের বসতি নির্মাণের নিন্দা জার্মানি ও ফ্রান্সের

এদিকে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ইসরাইলের নতুন তিন হাজার বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। ২০০২ সালের পর থেকে বসতি নির্মাণ শুরুর পর এই প্রথম ফ্রান্স নিন্দা জানাল।

ফ্রান্স ইসরাইলের সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। তারা জানায় জাতিসঙ্ঘের কাউন্সিল রেজ্যুলেশন ২২৩৪ অনুযায়ী উপনিবেশকতা অবৈধ। তারা বলেন, চলতি বছরের শুরুতে এই বসতির মাত্রা অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। এটা নেতিবাচক বার্তা দেয়।তেমনি পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি নির্মাণ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে জার্মান সরকার।

বৃহস্পতিবার জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণ পরিকল্পনার নিন্দা জানানো হয়। ২০১৬ সালে ফ্রান্সই সর্বপ্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে জানায় যে ইসরাইলের বসতি নিষিদ্ধ করতে হবে। সে সময় তাদের সাথে কূটনৈতিক টানাপড়েনও শুরু হয় তাদের। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিতীর ও জেরুসালেমসহ ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বসতি সম্পূর্ণ অবৈধ। ১৯৬৭ সালের পর থেকে নির্মিত এই ইহুদি বসতিগুলোতে এখন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করেন।

নয়াদিগন্ত

আইনস্টাইনের 'সুখী হওয়ার মন্ত্র' বিক্রি হলো ১০ লাখ ডলারে

October 26, 2017

মেসির চেয়েও কোহলির ব্র্যান্ড–মূল্য বেশি!

October 26, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *