এক সকালেই বিল গেটসকে হারিয়ে শীর্ষ ধনী তিনি

এক রাতেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বাড়ল প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার! সাত বিলিয়ন কত টাকা? ভালো প্রশ্ন, গুগল না করে উত্তর দেওয়া কঠিন। আর সেই গুগল জানাচ্ছে, ৫৮ হাজার ২০৫ কোটি টাকা ‘মাত্র’। আর তাতেই বিল গেটসকে টপকে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ধনী হয়ে গেলেন আমাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজস।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে এই অদলবদল হয়েছে। আজ নিউইয়র্ক সময় সকাল সোয়া ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া আটটায়) আমাজনের শেয়ার ৭ শতাংশ বেড়ে যায়। আর তাতে সাত বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি সম্পদ বেড়েছে বেজসের। আগের রাতে বেজসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৮৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। গেটসের সম্পদ ছিল ৯০ দশমিক ১ বিলিয়ন। কিন্তু শুক্রবার সকালে শেয়ারমূল্য পরিবর্তন হওয়ার পর বেজসের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৬ বিলিয়ন, গেটসের ৯০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

তাতেই দ্বিতীয়বারের মতো গেটসকে টপকে শীর্ষ ধনী হয়ে যান বেজস। গত জুলাইয়েও একবার গেটসকে টপকে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা আবার নিজের আসন ফিরে পান। আজকের এই মুকুট বদল কত সময়ের জন্য স্থায়ী হয়, সেটিই দেখার। কারণ, মাইক্রোসফটের শেয়ারেও তেজিভাব দেখা যাচ্ছে। তবে বেজসের জন্য সুখবর, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও আমাজন বেশ ভালো লাভ করেছে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেশ লক্ষণীয় গতিতে বাড়ছে।

৯০ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মানে হলো, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

ক্যাসপারস্কির সঙ্গে রুশ যোগসূত্র তদন্তে নামছে যুক্তরাষ্ট্র

সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী সফটওয়্যারের মধ্যে ক্যাসপারস্কির অবস্থান বর্তমানে শীর্ষে। মস্কোভিত্তিক ক্যাসপারস্কি ল্যাবের তৈরি এই সফটওয়্যার যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েই সেবা প্রদান করে থাকে। গত সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা বিশ্বে ৪০ কোটির বেশি গ্রাহক রয়েছে তাদের। ওই মাসেই সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাবের সঙ্গে রুশ সরকারের সম্পর্ক থাকতে পারে—এমন অভিযোগে ক্যাসপারস্কি বর্জনের আদেশ দেয় মার্কিন সরকার। তবে রাশিয়ার কোনো হ্যাকার দল বা সরকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তির বাইরে আর কোনো সম্পর্ক থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ক্যাসপারস্কি ল্যাব কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার বেশ কয়েকটি হ্যাকার দল ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) সাইবার গোপনীয়তাবিষয়ক বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয়। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল বিদেশি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সাইবার হামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের তথ্য। বেশ গোপনীয় এসব তথ্য চুরির কাজে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার অভিযোগ আনে ক্যাসপারস্কির ওপর। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোভিত্তিক ক্যাসপারস্কি ল্যাবের সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য পাচার করা হয়েছে। সেই ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (এফবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়। কয়েক মাস আগে ক্যাসপারস্কি ল্যাবের কার্যালয়ে এফবিআই তদন্ত করতে গেলে বেশ কিছু সন্দেহজনক ই-মেইল পায়। আর ওই সব ই-মেইলের পেছনে ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস অব দ্য রাশিয়ান ফেডারেশনের (এফএসবি) সঙ্গে ক্যাসপারস্কির যোগসূত্র রয়েছে বলেও ধারণা করা হয়। এ ছাড়া ১০ অক্টোবর নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল সরকার তাদের সংবেদনশীল ও গোপন তথ্যে ক্যাসপারস্কি সফটওয়্যারের মাধ্যমে রাশিয়ার হ্যাকাররা অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করে।

সেই সব অভিযোগ আর সন্দেহের ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কর্তৃক একটি বিল পাসের মাধ্যমে দেশটিতে ক্যাসপারস্কি সফটওয়্যার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে দেশটির প্রায় ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠান তাদের কম্পিউটার থেকে সফটওয়্যারটি মুছে ফেলাসহ বেস্ট বাই, অফিস ডিপো এবং স্ট্যাপলের মতো বৃহৎ ক্যাসপারস্কি সফটওয়্যার বিক্রেতারাও তাদের পণ্যের তালিকা থেকে মুছে ফেলে এর নাম।

এসব অভিযোগের বিরুদ্ধেই অবস্থান করছে দায়ী প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাব। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউজিন এক টুইটে বলেন, ক্যাসপারস্কি কোনো ত্রুটি বা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো গোপন সংযুক্তি রয়েছে কি না এ জন্য তদন্ত চালানো হবে। ক্যাসপারস্কি প্রথমবারের মতো সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কাউকে দিয়ে তাদের পণ্য পর্যালোচনা করতে রাজি হয়েছে। ২০১৮ সালের শুরুর দিকেই এ সফটওয়্যারের পর্যালোচনা শুরু হবে। তবে কারা এসব সফটওয়্যার পর্যালোচনা করবে, সেটি এখনো স্পষ্ট করেনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কিই যখন হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে, তখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। তবে সেটি চিন্তার বিষয় কি না সেটি নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর। এ নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রেনডিশন ইনফোসেকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক উইলিয়ামস বলেন, ‘ক্যাসপারস্কির ত্রুটি যদি সত্যিই থেকে থাকে, তবে একজন সাধারণ মানুষের এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যদি আপনার কাছে এমন কিছু না থাকে, যার জন্য রাশিয়ার হ্যাকাররা আপনার ওপর হামলা করতে পারে। তাহলে আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ক্যাসপারস্কি আপনার কম্পিউটার থেকে মুছে ফেললেও ভাইরাস রোধে কোনো না কোনো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতেই হবে। আর কিছুই ব্যবহার না করার চেয়ে ক্যাসপারস্কি ব্যবহার করাই ভালো।

সূত্র: ফোর্বস।

ঐক্যের ডাক সাবেকদের

October 28, 2017

যেকোনো মূল্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করবে ইরান

October 28, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *