সোফিয়া দ্য হিউম্যানয়েড: বিশ্বের প্রথম নাগরিকত্ব পাওয়া রোবট

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়া যা তা কথা না, বিভিন্ন নিয়মের বেড়াজাল টপকে খুব সহজেই এক রোবটকে নাগরিকত্ব দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে সৌদি সরকার।

নাগরিকত্ব প্রাপ্ত ওই রোবটের নাম সোফিয়া দ্য হিউম্যানয়েড। বিশ্বে প্রথমবারের মতো ঘটলো এ ঘটনা।

মার্কিন অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের মত দেখতে ওই রোবট তার নাগরিকত্বের বিষয়ে লাইভ শো’তে সাক্ষাতকার দিয়েছে।

সে বলেছে, পৃথিবীর প্রথম রোবট হিসেবে নাগরিকত্ব পেয়ে সে অত্যন্ত গর্বিত। সৌদি সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছে সে।

সোফিয়া বলেছে, আমি মানুষের মধ্যে থেকে কাজকর্ম করতে চাই। মানুষকে বুঝতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে চাই। মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে আমি আমার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাতে চাই।

সোফিয়া নামের এই রোবটটির নির্মাতা হংকংয়ের সংস্থা হ্যানসন রোবোটিক্স। মানুষের মতই যাবতীয় হাবভাব তার। এমনকী রেগে তাকাতে পারে, চাইতে পারে হাসিমুখেও।

রোবটকে নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও টেক দুনিয়া আলোচন-সমালোচনা চলছে বেশ।-চ্যানেল আই

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন এখন বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমগুলোর শিরোনাম।

কিন্তু রোহিঙ্গাদের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? এখানে রোহিঙ্গা জাতির প্রায় ভুলে যাওয়া ইতিহাসের কিছু তুথ্য তুলে ধরা হলো:

রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি আরাকান ছিল স্বাধীন রাজ্য। ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোডপায়া এটি দখল করে বার্মার অধীন করদ রাজ্যে পরিণত করেন।
আরাকান রাজ্যের রাজা বৌদ্ধ হলেও তিনি মুসলমান উপাধি গ্রহণ করতেন। তার মুদ্রাতে ফার্সি ভাষায় লেখা থাকতো কালেমা।
আরাকান রাজ দরবারে কাজ করতেন অনেক বাঙালি মুসলমান। বাংলার সাথে আরাকানের ছিল গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক।

ধারণা করা হয় রোহিঙ্গা নামটি এসেছে আরাকানের রাজধানীর নাম ম্রোহং থেকে: ম্রোহং>রোয়াং>রোয়াইঙ্গিয়া>রোহিঙ্গা। তবে মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্যে আরাকানকে ডাকা হতো রোসাং নামে।
১৪০৬ সালে আরাকানের ম্রাউক-উ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নরমিখলা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড়ে পলায়ন করেন। গৌড়ের শাসক জালালুদ্দিন শাহ্ নরমিখলার সাহায্যে ৩০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে বর্মী রাজাকে উৎখাতে সহায়তা করেন। নরমিখলা মোহাম্মদ সোলায়মান শাহ্ নাম নিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসেন। ম্রাউক-উ রাজবংশ ১০০ বছর আরাকান শাসন করেছে।

মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যচর্চ্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল রোসাং রাজ দরবার। মহাকবি আলাওল রোসাং দরবারের রাজ কবি ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন মহাকাব্য পদ্মাবতী। এছাড়া সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী, সয়ফুল মুল্ক, জঙ্গনামা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ রচিত হয়েছিল রোসাং রাজদরবারের আনুকূল্যে।

ভাই আওরঙ্গজেবের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরাজিত হয়ে মোগল যুবরাজ শাহ্ সুজা ১৬৬০ সালে সড়ক পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হয়ে আরাকানে পলায়ন করেন। তৎকালীন রোসাং রাজা চন্দ্র সুধর্মা বিশ্বাসঘাতকতা করে শাহ্ সুজা এবং তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এর পর আরাকানে যে দীর্ঘমেয়াদী অরাজকতা সৃষ্টি হয় তার অবসান ঘটে বার্মার হাতে আরাকানের স্বাধীনতা হরণের মধ্য দিয়ে।

সূত্র: রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস, এন. এম. হাবিব উল্লাহ্, এপ্রিল-১৯৯৫

ইরানি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন

October 29, 2017

কানপুরে ভারতের `রান-উৎসব`

October 29, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *