একের পর এক মিথ্যা বলে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

একের পর এক মিথ্যা বলে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবার নিজের দাবির পক্ষে বলেন সব তথ্য-প্রমাণ সব তাঁর হাতে আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায় কিছুই নেই। কখনোই তিনি প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

শোক প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক

আফ্রিকার দেশ নাইজারে চলতি মাসে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান মার্কিন সেনাসদস্য ডেভিড জনসন। শোক জানাতে তাঁর পরিবারকে টেলিফোন করে ট্রাম্প বলেছিলেন যে সেনাবাহিনীতে যোগদানের সময়ই ডেভিড জানতেন তাঁর জন্য কী বিপদ অপেক্ষা করছে। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ট্রাম্প দাবি করেন, এ ধরনের মন্তব্য তিনি করেননি এবং ওই টেলিফোন আলাপের রেকর্ড আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ট্রাম্পের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি হোয়াইট হাউসও পরে প্রমাণ না থাকার কথা স্বীকার করে নেয়।

হিলারির পক্ষে ভোট

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, জনগণের ভোট ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে বেশি পড়েছিল। সে সময় ট্রাম্প দাবি করে বসেন, অনিবন্ধিত অভিবাসীরা হিলারিকে ভোট দিয়েছেন বলে এমনটা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

ওবামার জন্মস্থান বিতর্ক

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থানের তদন্ত নিয়েও ভুয়া দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। ২০১১ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার লোকেরা এই বিষয়টি আসলেই খতিয়ে দেখছে এবং তারা যা পাচ্ছে, তা তারা বিশ্বাসই করতে পারছে না।’ তিনি সে সময় দাবি করেন, বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি হাওয়াইয়ে তদন্ত দল পাঠিয়েছেন।

কোমির আনুগত্য প্রকাশ
গত মে মাসে ট্রাম্প দাবি করেন, এফবিআইয়ের তৎকালীন পরিচালক জেমস কোমি তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, কোমির সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে তাঁর কাছে। পরে ট্রাম্প স্বীকার করেন, এমন কোনো রেকর্ড আসলে তাঁর কাছে নেই।

নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ

নির্বাচিত হওয়ার পর গত ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কাছে গোপন তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কিছু জানি, যা অন্যরা জানে না। কাজেই তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না। আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার আপনারা এ বিষয়ে জানতে পারবেন।’ এরপর অনেকগুলো মঙ্গলবার ও বুধবার চলে গেছে।

যৌন হয়রানির অভিযোগ

অন্তত ১২ জন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার তো করেনই, সেই সঙ্গে ওই নারীদের অপমানও করেছেন। গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি যে নির্দোষ, তার সপক্ষে তিনি প্রমাণ হাজির করবেন। কিন্তু কখনোই তিনি প্রমাণ হাজির করেননি।

ইরাক যুদ্ধ

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা যদি ২০০৩ ও ২০০৪ সালের খবরগুলো অনুসন্ধান করেন, তাহলে ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর দেওয়া বিবৃতি তাঁরা খুঁজে পাবেন। সাংবাদিকেরা আজও এমন কোনো বিবৃতির হদিস পাননি।

খালেদা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন: কাদের

October 30, 2017

‘ভাইরাস’ দেখছেন সাকিব

October 30, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *