রিয়ালকে হারিয়েই ‘স্বাধীনতা’র প্রথম স্বাদ কাতালানদের!

এভাবেই স্বাধীনতার প্রথম স্বাদ নেবে কাতালানরা কে জানত? শুক্রবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কাতালোনিয়া, স্পেন থেকে আলাদা হতে চায় তারা। স্প্যানিশ ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে বেশি অন্য কোনো ক্লাব স্পেনকে ধারণ করে না। সে রিয়ালের পরের ম্যাচই কিনা এক কাতালান ক্লাবের মাঠে! জিরোনাও এমন উপলক্ষকে বেছে নিল ক্লাব ইতিহাসের সেরা ম্যাচটি খেলতে। এই প্রথম লা লিগা খেলতে আসা জিরোনার কাছে ২-১ হেরে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ!

জিরোনার মাঠে ১২ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। ম্যাচে রিয়ালের সেরা খেলোয়াড় ইসকোর গোলের পর আরেকটি নিয়ম রক্ষার ম্যাচ বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু জাত্যভিমান জেগে উঠল কাতালানদের। সদ্য স্বাধীনতা ঘোষণা করা অঞ্চলটি বার্সেলোনার মাধ্যমেই পরিচিত হলেও কাতালান তো আর শুধুই বার্সেলোনার নয়! মাঠের ১৩ হাজার দর্শক এক সঙ্গে কণ্ঠ মেলালেন। দর্শক নাকি দ্বাদশ খেলোয়াড় হয়ে খেলেন, সে ক্ষেত্রে বলতেই হচ্ছে আজ এস্তাদি মন্তিলিভির মানুষগুলো ত্রয়োদশ, চতুর্দশ খেলোয়াড় হওয়ার পণ নিয়ে এসেছিলেন মাঠে!

জিনেদিন জিদানের দল সাধারণত বল পায়ে রাখার জন্য বিখ্যাত। আজ উজ্জীবিত জিরোনার সামনে প্রথমার্ধের বাকিটা কাউন্টার এটাক নির্ভর ফুটবল খেলেই কাটাতে হলো রিয়ালকে। প্রেসিং ফুটবলে রিয়াল রক্ষণের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল জিরোনা। ইসকো-বেনজেমারা তাও যেসব সুযোগ সৃষ্টি করছিলেন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ব্যর্থতায় ব্যবধান বাড়ানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। বিরতির আগেই সমতায় ফেরার দারুণ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছে কাতালান দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর কিছুক্ষণ খেলা রিয়ালের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সেটা মিনিট পাচেকের জন্যই। ৫৪ মিনিটে স্টুয়ানির দারুণ প্লেসিংয়ে সমতায় ফেরে লা লিগায় নবগত দলটি। সে গোলের পর মাঠের গর্জন যদি একটু বাড়াবাড়ি মনে হয়ে থাকে, তবে মিনিট চারেক পরের উদ্‌যাপনের কথা বর্ণনার চেষ্টা না করাই ভালো! রিয়াল রক্ষণের কঙ্কাল বের কররা এক আক্রমণের সফল পরিণতি টানেন পর্তু। বাঁ প্রান্ততে স্টুয়ানির শট রিয়াল রক্ষণে বাধা খেয়ে পড়ে মাফেয়োর সামনে। মাফেয়োর শটও হয়তো ফিরে আসত, কিন্তু পর্তুর বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাকহিলে তা আর হয়নি (২-১)। যদিও রিপ্লে দেখে পর্তুর অবস্থান অফ সাইডে ছিল বলেই মনে হয়েছে।

এরপরও ম্যাচের ৩১ মিনিট বাকি ছিল। রিয়ালের পক্ষেও খুব সম্ভব ছিল ম্যাচে ফেরার। জিদান দুই ফুলব্যাককে উঠিয়ে নিয়ে মার্কো এসেনসিও এবং লুকাস ভাসকেজকে নামানোর পর আরও কিছু গোল দেখার সম্ভাবনাও বেড়েছিল। কিন্তু এরপরই জিদানের ট্যাকটিকসের বড় এক ভুল ধরা পড়ে। বল পায়ে দুর্দান্ত সব মিডফিল্ডার থাকার পরও মাঠের মাঝ থেকে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেনি রিয়াল। দুই উইং ব্যবহার করে একের পর এক ক্রস করে খেলার চেষ্টায় কোনো ফল আসেনি। কারণ, যার ওপর ভরসা করে ক্রস করা সেই রোনালদো যে লা লিগায় সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বাজে সময় পার করছেন। এমনকি ভাসকেজ নামার আগ পর্যন্ত রিয়ালের সবচেয়ে অকার্যকর খেলোয়াড় মনে হয়েছিল তাঁকেই!

লা লিগার এখনো প্রায় এখনো এক চতুর্থাংশ বাকি। শিরোপা কে জিতবে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা বাড়াবাড়ি। কিন্তু ১০ ম্যাচ শেষেই বার্সেলোনা থেকে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। সে জন্য কাতালান প্রতিবেশীরাই ধন্যবাদ পাবে মেসিদের!

খালেদা বললেন, হামলায় আমি থামব না

October 30, 2017

মুখোমুখি অবস্থানে যাচ্ছে পাকিস্তান-আমেরিকা

October 30, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *