খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলায় প্রতিবাদের ঝড়

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য কক্সবাজার যাওয়ার পথে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে হামলার প্রতিবাদে নিন্দার ঝড় বইছে। রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো যেমন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ করছেন; তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনা নিয়ে নানা জন নানা ধরণের মন্তব্যের পাশাপাশি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহবান জানাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মন্তব্য-বক্তব্যকে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা হিসেবে অবিহিত করছেন। ২৮ অক্টোবর ফেনিতে বেগম জিয়ার গাড়ী বহরের পিছনের মিডিয়ার কয়েকটি গাড়ীতে হামলা হলে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ীর বহরে হামলায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ও মিডিয়ার পাঠক মতামতে। প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, ড. কামাল হোসেনের নের্তৃত্বাধীন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, জাগপার সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপের সভাপতি জেবেল গণি এনডিপির সভাপতি, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পদক সাদেক আহমেদ খান প্রমূখ। এছাড়াও বিভিন্ন সমাজিক সংগঠন ও সংবাদিক সংগঠন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেফতারের আহবান জানান। রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ বেগম জিয়ার গাড়ী বহরে হামলার ঘটনাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে অবিহিত করে জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মিডিয়াকর্মীদের ওপর আক্রমনের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

বি চৌধুরী, আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুব্রত চৌধুরী বলেন, এটা অপরাজনীতি। গণতান্ত্রিক আচরণ বিরোধী এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের বিরুদ্ধে এক ধরণের অশনিসংকেত। সরকারি দলের এ ধরণের আচরণ অগ্রহণযোগ্য। একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট নির্ণয়ে এ ধরণের আক্রমণ ও হামলা ভবিষ্যতে বাঁধার সৃষ্টি করবে। কাদের সিদ্দিকী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কমরেড সাইফুল হক বলেন, এ ধরণের ঘটনা সরকারের স্বৈরাতান্ত্রিক চরিত্রের বহিপ্রকাশ। এসব সহিংস তৎপরতা সরকারের আক্রমন বিদ্যমান বিরোধ বৈরীতার রাজনৈতিক সংকট আরো বাড়িয়ে তুলবে। সাইফুদ্দিন আহমদ মনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে এই ঘটনা সরকারের জন্য অশনি সংকেত হয়ে যাবে।

কারণ আন্তর্জাতিক মহল দেখছে এই সরকার কত বেপরোয়া। জনগণের ভোটের ভোটের অধিকার শুধু কেড়ে নেয়নি; শীর্ষ নেতানেত্রীদের কাছেও মানুষের যেতে বাধার সৃষ্টি করছে। জাগপা সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান বলেন, শেখ হাসিনা নোবেল না পাওয়ার ক্ষোভ খালেদা জিয়ার ওপর কেন? নোবেল পাওয়ার জন্য দেশের অর্থ সুইচ ব্যাংকে ঢেলেছেন। ক্ষমতা স্থায়ী করতে মানুষের রক্তে বাংলার মাটি লাল করেছেন। নোবেল না পাওয়ার ক্ষোভ দেশবাসীর ওপর ঝেড়ে লাভ হবে না। রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যু ব্যর্থতা সরকারের। দিল্লীর মতলব ভাল নয়।

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, বেগম জিয়ার ওপর আক্রমন দেশের ১৬ কোটি মানুষের ওপর আক্রমনের নামান্তর। কারণ এই সরকারের কোনো জনসমর্থন নেই। জনগণ বেগম জিয়ার পিছনে। তাই বিএনপিকে ঠেকাতে এই সরকারের পোষ্য বাহিনী আক্রমন করেছে। জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তার গাড়িবহর ও সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা চরম নিন্দনীয় একটা কাজ। এই হামলার মধ্যদিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, তারা বিরোধীদলকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনেও অধিকার দিতে চায় না। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, আমি মনে করি সবদলের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা নিন্দনীয়। এটা কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।

নির্বচনের ঘোষণা দিয়ে এ ধরণের আচরণে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষুন্ন করবে। যারা এ ধরণের ন্যাক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত আমি তাদের বিচার দাবি করি। বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পরমতের সহিষ্ণুতা ছাড়া গণতান্ত্রিক চর্চা হয় না। এর আগেও ক্ষমতাসীন দলসমূহ বিরোধীদলের উপর হামলা ও হয়রানীর যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করেছিল। এবার খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা তা-ই একটা নতুন সংযোজন মাত্র। ক্ষমতায় থাকলে বিরোধীদলের উপর দমন-পীড়ন, এটা অসুস্থ রাজনৈতিক মানসিকতার প্রতিফলন মাত্র।

চট্টগ্রামে জনতার বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে অভিভূত খালেদা জিয়া

October 30, 2017

মুখোমুখি অবস্থানে যাচ্ছে পাকিস্তান-আমেরিকা

October 30, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *