পর্দার মত অতি জরুরী ফরজিয়াত পালনে যেভাবে আমাদের মুসলিম মেয়েরা উদাসীন

রিভিউ লেখক : ইউসুফ আহমেদ

প্রকাশনী : বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার

এটি ইবনে তাইমিয়াহর (রহঃ) ‘হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাসুহা ফিস-সালাহ’ কিতাবের বাংলা অনুবাদ। বইটি কলেবরে মাত্র ৫৫ পৃষ্ঠা হলেও জরুরতের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কয়েকটা টপিকের উপর আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু আলোচিত হয়েছে নানান এঙ্গেল, ইখতিলাফ, নানান মতের মধ্য থেকে মণি মুক্তা কুড়িয়ে আনার মত করে। পর্দার মত অতি জরুরী ফরজিয়াত পালনে যেভাবে আমাদের মুসলিম মেয়েরা উদাসীন এবং বিবেক বিবেচনাহীন সেখানে এরকম কিতাবের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। যদিও কিতাবের শিরোনামে মুসলিম নারীদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে কিন্তু শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ পুরুষের ক্ষেত্রেও এই সংশ্লিষ্ট ফিকাহ নিয়ে জরুরী বক্তব্য পেশ করেছেন।

আলোচনার প্রথম টপিক সালাতে পোশাক। এমনিতে সতর ঢাকা আর সালাতে সতর ঢাকা একই কিনা এই বিষয়ক আলোচনার শুরুতে শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতে নারীদের ‘প্রকাশমান সৌন্দর্য’ নিয়ে সাহাবীদের দুইটি ভিন্ন মতকে নিয়ে এসেছেন। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এবং উনার সমর্থকদের মতে ‘প্রকাশমান সৌন্দর্য’ বলতে পরিধেয় বস্ত্র ও পোশাক বোঝানো হয়েছে। আর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং উনার সমর্থকদের মতে প্রকাশমান সৌন্দর্য বলতে নারীর মুখমন্ডল, দু হাতে যা সৌন্দর্য বহন করে তা বোঝানো হয়েছে। যেমনঃ সুরমা, আংটি। এই দুইটি মতের উপর ভিত্তি করে ফুকাহগণ গায়রে মাহরাম মহিলার দিকে তাকানোর ব্যাপারে মতভেদ করেছেন।

একটি মত হলো, যৌন বাসনা ছাড়া নারীর মুখমন্ডল এবং হাতের দিকে তাকানো জায়েজ। ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এবং ইমাম শাফি’ঈ (রহঃ) এই মতের পক্ষে। ইমাম আহমদের মতে তাকানো জায়েজ নয়। ইবনে তাইমিয়াও এই মতের পক্ষে। এই দলে আছেন ইমাম মালিকও। এছাড়াও শাইখ রাহিমাহুল্লাহ দলীল সহকারে এই মতের পক্ষে যুক্তি পেশ করেছেন।

একজন মহিলা তার দাসের সামনে সৌন্দর্যকে প্রকাশ করতে পারবে সূরা নূরের আয়াত অনুযায়ী। আবার এখানেও মতবিরোধ আছে। তবে সারকথা হলো, দাসের জন্য তার মনীব মহিলাকে দেখা জায়েজ। তবে তার মানে এই না যে তারা একসাথে সফর করতে পারবে কিংবা একাকী অবস্থান করতে পারবে। এমনিতে মুসলিম নারী অন্য মুসলিম নারীর সামনে নিজের সৌন্দর্য প্রকাষ করতে পারলেও মুশরিক কাফের নারীর সামনে এর অনুমতি নেই।

এরপর আলোচনা হয়েছে পুরুষ ও মহিলার সতরের বিষয়ে। মহিলাদের সালাতে পোশাক কেমন হবে এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা আছে। হাত এবিং পা দেখা যাওয়া যাবে কিনা এই নিয়ে ইখতিলাফ নিয়েও সুন্দর আলোচনা আছে। মাহরামের সামনে পোশাক কেমন হবে, নন মাহরামের সামনে পোশাক কেমন হবে এসব নিয়ে আলোচনা আছে। দাসীদের জন্য স্বাধীন মেয়ের মত অত বিধিনিষেধ না থাকলেও তারা ইচ্ছা মত যেখানে সেখানে যেভাবে সেভাবে ঘুরে বেড়াবে এটাও করা যাবে না। সালাতে সতর আর সাধারণ সতরের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। এমন কিছু অংশ সাদারণভাবে মানুষের সামনে খোলা রাখা বৈধ যা সালাতে খোলা রাখা বৈধ নয়, যেমন দুই কাঁধ। এছাড়া মুখ ঢাকা, হাতে পায়ে মৌজা পড়ার মত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা আছে।
ইহরাম অবস্থায় কিছু বিশেষ ব্যতিক্রমের বিষয়েও মাসালা বলা আছে। তবে পুরো আলোচনাটা পড়ার সময় খুব সতর্ক এবং মনোযোগ থাকতে হবে। কারণ এতগুলো মত একটার পর একটা এসেছে যে ঘুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা আছে।

এরপর সূরা আন নূরের আয়াতের কিছু অর্থ নিয়ে আলোচনা আছে। এই আয়াতে মেয়েদের দৃষ্টি, লজ্জাস্থান এবং কণ্ঠস্বর নিচু করার যে নির্দেশনা আছে তার বিশদ আলোচনা হয়েছে। যৌনচাহিদা মুক্ত মহিলারা পর্দার বিধান থেকে কিছু ক্ষেত্রে স্বাধীন। দাসীদের ক্ষেত্রেও কিছু ছাড় আছে। গায়রে মাহরাম নারীদের দিকে তাকানো, সুন্দর বালক বালিকাদের দিকে তাকানো, হিজরাদের ক্ষেত্রে বিধান, হিজরারা কীভাবে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ফিতনার কারণ হতে পারে তার জরুরী আলোচনা বিদ্যমান। শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ দৃষ্টিপাতের উপর খুবই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন। দৃষ্টি সংযত করার তিনতি উপকারিতা বলেছেন যা নিয়ে আলাদা লেখা লেখার নিয়্যত আছে ইনশাআল্লাহ্‌ তাই এখানে বিস্তারিত আলোচনা করছি না।

কোন বিষয়ে দ্বিমত করার দুঃসাহস থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। সেই সুযোগও অবশ্য নেই।

শুধু মেয়েদের জন্য নয় ছেলেদের জন্য বইটি সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং পড়ার জন্য হাইলি রিকমেন্ডেড।
.

বিয়ের আগে কত স্বপ্ন কত প্রত্যাশা!

November 3, 2017

এ দেশের বাঙালি মুসলমানের জাতীয় ভাষা কী হবে

November 3, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *