হুসাইন (রাযি আল্লাহ আনহু)-এর মূল হত্যাকারী কে? ড. ইবরাহীম আলী শুউত্ব

রিভিউ লেখক : ইউসুফ আহমেদ

প্রকাশনী : জায়েদ লাইব্রেরী

আমাদের দীর্ঘ ইসলামের ইতিহাসে হুসাইন (রাঃ) এর কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়া নিঃসন্দেহে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। তবে সেই ঘটনার রয়েছে সত্য মিথ্যা মিশ্রিত বিকৃত রুপ এবং প্রান্তিক অবস্থানকারীরা এই ঘটনাকে নিয়ে নানা গল্প ফাঁদে। এই বইটার শিরোনাম দেখে তাই স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ জাগে বইটা পড়তে। বইয়ের লেখক ড. ইবরাহীম আলী শুউত্ব, মিশরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। মাত্র ৪০ পৃষ্ঠার এই বইয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে মূলত কারবালার ঐ ঘটিনার কোন উল্লেখই নেই, সেই ঘটনার কোন বর্ণনাই নেই। বরং কারা এই ঘটনার পেছনে কলকাঠি নেড়েছিলো, হুসাইন (রাঃ) এর সাথে বিশ্বাসঘতকতা করা লোকগুলো আর তাদের উত্তরসূরি আজকের মুনাফিক্ব, নিকৃষ্ট আক্বীদা বিশ্বাসের শিয়াদের গোমর বের করে আনা।

বইয়ের শুরুতে ইসলাম এবং শিয়াদের আকীদা বিশ্বাসের বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাওহিদ, রিসালত, কুরআন, তাকদীর ও গায়েব, আল্লাহর সিফাত, হালাল হারাম, কাবা ও কারবালার তুলনা, জিবরাইল (আঃ), সাহাবাবের নিয়ে শিয়াদের জঘন্য মিথ্যাচার, মুত’আ বিয়ে এই সকল বিষয়ে ইসলাম এবং মুসলিমদের আকীদা বিশ্বাস এবং শিয়াদের আক্বীদা বিশ্বাস পাশাপাশি রেখে দেখানো হয়েছে সুন্দর দলীল সহকারে। যেকোন সচেতন ব্যক্তিই একবার পড়লে আশা করি তার কাছে মুসলিমদের আকীদা এবং শিয়াদের জঘন্য আকীদার বিষয়ে ধারণা স্পষ্ট হয়ে যাবে। রাসূলের চেয়েও আলী (রাঃ) কে সম্মানের অধিক জায়গায় বসানো, খুলাফায়ে রাশেদীনের তিনক খলিফা নিয়ে বিষাদাগার, আল্লাহর একত্ববাদ, গায়েবের ক্ষমতা, হালাল হালাল নির্ধারণে তাদের বারো ইমামকেই আল্লাহর আসনে বসানো, কাবার চেয়ে কারবালালে অথিক মর্যাদার মনে করা, মুত’আর মত একটা জঘন্য ব্যভিচারকে ফযীলতপূর্ণ মনে করা আরো বমি আসার মত সব আকীদা। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে হেফাজত করুন।

বইয়ের বাকী অংশটা মূলত হুসাইন (রাঃ) এর কারবালা এবং একইভাবে উসমান (রাঃ) এর নিহত হওয়ার ঘটনা। লেখকের মতে দুইজনের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতটা একই ছিলো। যেমন উসমান (রাঃ) এবং হুসাইন (রাঃ) দুইজনকেই সিনিয়র সাহাবীরা নানানভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলো এই ঘটনা এড়ানোর, কিন্তু তারা দুইজনই কদরের উপর নিজেদের জীবনকে ছেড়ে দিয়েছেন, কারো উপদেশ আমলে নেননি। এক্ষেত্রে উসমান (রাঃ) এর একটা স্বপ্নের কথা প্রসিদ্ধ যেখানে রাসূল (স্:) বলছেন, তুমি আমাদের সাথে এসে ইফতার করো। ঠিক একইভাবে হুসাইন (রাঃ) ও একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন, অবশ্য সেই স্বপ্নটা তিনি কাউকে বলেননি। এই কারণেই তারা দুইজনই মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সবার আপত্তি সত্ত্বেও নিজেদের মতের উপর অটল ছিলেন। এছাড়া কুফাবাসীর বিশ্বাসঘাতকতাই মূলত হুসাইন (রাঃ) এর এই পরণতির মূল কারণ ছিলো।

হুসাইন (রাঃ) এর হত্যার পেছনে ইয়াজিদের মূলত কোন হাত ছিলো না। হুসাইন (রাঃ) এর কাটা মস্তক তার সামনে আনা হলে সে বেশ রাগান্বিত হয় এবং বর্ণনাকারীর মতে তিনি কাঁদতে থাকেন। এর কারণ ছিলো তার পিতা মুয়াইয়াহ (রা:) বিশেষভাবে বলে গিয়েছিলেন, হুসাইন যদি তার বিরুদ্ধে অবস্থানও নেয় তাকে যেন ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তাকে যেন হত্যা করা না হয়।

বইটির বড় দিক মনে হয়েছে শিয়াদের আকীদার স্পষ্ট দলীলভিত্তিক আলোচনা। আমাদের দেশে অনেকেরই বিশেষ করে জামাতে ইসলামীর সমর্থক শ্রেণীর লোকেদের শীয়া ইরান, খোমেনীর বিপ্লব এসবের প্রতি দুর্বলতা আছে, তাদের জন্য এসব শয়তান শিয়াদের আকীদা নিয়ে পড়াশোনা করাটা খুবই। জরুরী।

তবে একটা জায়গা মিসিং মনে হয়েছে যেহেতু শিয়াদের অনেক দল, তাই কোন দলের কোন বিশেষ আকীদা আর বর্তনামে তারা কোন দেশে এসব স্পষ্ট করে দিলে আরো ভালো হতো। যদিও বর্তমান সিরিয়ার বাসার আল আসাদ আর তার অনুসারিরা যে রাফেজী শিয়া, ইরানের খোমেনীর অনুসারী শিয়াদের জঘন্য আকীদা এসব বিষয় স্পষ্ট করা আছে।

বইটা বের করেছে জায়েদ লাইব্রেরী। ৫৯, সিক্কাটুলী লেন, নাজির বাজার, ঢাকা।

তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে– আবু তাহের মিছবাহ্

November 4, 2017

প্রথম বিসিএসেই দেশসেরা হয়ে ওঠার গল্প কামালের

November 4, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *