হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ

বইয়ের নাম- হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ
সাক্ষাৎকার- সাদিকা সুলতানা সাকি
প্রকাশনা- মাকতাবাতুল আযহার
মুদ্রিত মূল্য- 160 টাকা

#হ্যাপী_থেকে_আমাতুল্লাহ
আমাদের সাক্ষাৎকারটি শুরু হয়েছে এভাবে…

#সাকী : আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
#আমাতুল্লাহ : ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

#সাকী :আল্লাহ আপনাকে কেমন রেখেছেন?
#আমাতুল্লাহ : আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে অনেক অনেক ভালো রেখেছেন।

#সাকী : প্রথমে আমরা আপনার পারিবারিক পরিচয় জানতে চাচ্ছি।
#আমাতুল্লাহ : আমার পরিচয় হচ্ছে, আমার নাম নাজনীন আক্তার হ্যাপি। জীবনের একটা সময় আমি এ নামেই পরিচিত ছিলাম। আমার পরিবারে আমার আব্বু, আম্মু, ভাই-বোন সবাই আছেন। ভাই-বোনদের মাঝে আমিই সবার বড়। আমার আব্বু একজন সরকারি চাকুরিজীবি ছিলেন। আর্মিতে ছিলেন। মিশন থেকে আসার পর এখন বিজনেস করছেন। আর আমার আম্মু হাউজ ওয়াইফ [গৃহিণী]।

#সাকী : শৈশবে আপনি আপনার পরিবারে দ্বীনের চর্চা কতোটুকু দেখেছেন?
#আমাতুল্লাহ : শৈশবে আমি আমার পরিবারে যতোটুকু দেখেছি তাহলো আমার পরিবার ছিলো একটি সাধারণ মুসলিম পরিবার। এ দেশের অন্য আট-দশটা সাধারণ পরিবারের মতোই ছিলো আমাদের পরিবার। আমার আব্বু শুক্রবারে জুমার নামায পড়তে যেতেন। বিশেষ দিনগুলোতে আমার আম্মু নামায পড়তেন। মাঝে-মধ্যে নামায পড়তেন। ব্যস, এতোটুকুই ছিলো। পর্দা করা বা পরিপূর্ণ ইসলামের ওপর চলা- এমনটা আমি কখনই দেখিনি। শৈশবে আমার ইসলাম সম্পর্কে ধারণা ছিলো খুবই অল্প। আমরা মনে করতাম, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া, ভালো কাজ করা- এতোটুকুর মাঝেই ইসলাম সীমাবদ্ধ। আমার কাছে সবসময় এটাই মনে হতো। আমি আমার পরিবারে এর অধিক ইসলাম পালন করতে দেখিনি। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া যে ফরয, পর্দা করা যে ইসলামের আবশ্যিক বিধান- এমনটি আমি আমার পরিবারে কখনই দেখিনি। তারা এ বিষয়ে খুব উদাসীন ছিলেন।
এটাও আমার দুর্ভাগ্য যে, আমার আশপাশের পরিবারগুলোও ছিলো আমাদের মতো সাধারণ মুসলিম পরিবার। ইসলামের সামগ্রিক বিধান জানার সুযোগ আমি আমার শৈশবে কখনই পাইনি। ইসলাম সম্পর্কে আমার জ্ঞান ছিলো অতি সামান্য। খুবই সাধারণ। এর বাইরে বেশি কিছু জানার সুযোগ আমি পাইনি। ইসলাম সম্পর্কে আমি অতি সাধারণ জ্ঞান নিয়েই বড় হয়েছি। এর বাইরে কখনই কিছু দেখিনি।
আসলে একজন মানুষের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে তার পরিবারের ভূমিকা অনেক বড়। প্রতিটি মানুষ তার পরিবারে যে পরিবেশ পায়, সে কিন্তু সেভাবেই গড়ে ওঠে। সে তার পরিবারের লোকজনকে যেভাবে দেখে, ঠিক সেভাবে, সে আদর্শে সে বড় হয়ে ওঠে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছোট থেকেই আমি সংস্কৃতিমনা ছিলাম। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আমার খুব আগ্রহ ছিলো। আমার পরিবারে আমাকে এ সব বিষয়ে শতভাগ সহযোগিতা করেছে। তারা আমাকে গানের স্কুলে ভর্তি করেছে। নাচের স্কুলে ভর্তি করেছে। গান শিখেছি। নাচ শিখেছি। খেলাধুলা করেছি। এ কাজগুলো শুধু অন্যের উৎসাহে করেছি- এমন নয়। আমার নিজের ভেতর এগুলোর প্রতি যেমন উৎসাহ ছিলো, তেমনই আমার আম্মু-আব্বু সহ পরিবারের সদস্যরাও আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। আমার এ চাওয়াগুলো পূরণ করতে তারা পূর্ণ চেষ্টা করেছেন।
আমি কখনই পরিবারের কাউকে এ কথা বলতে শুনিনি যে, তুমি গান গেয়ো না। নেচো না। এগুলো গুনাহ। এমন কথা আমি আমার কানে কখনই শুনিনি। অর্থাৎ আমার শৈশব থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে কারো কাছ থেকে এ বিষয়ে অমত পাইনি। কেউ আমাকে বারণ করেনি। হ্যাঁ, আমি বড় হওয়ার পর শুনেছি যে, এগুলো গুনাহ। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আমি এমন সংস্কৃতিমনা হয়েই বড় হয়েছি।

এ কথাগুলোর অর্থ এ নয় যে, আমি একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হয়েছি। আমার পরিবারের লোকজন খুব বেশি সংস্কৃতিঘেষাও ছিলেন না। বরং এক্ষেত্রে আমার মনের ইচ্ছেটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ছোটকাল থেকেই আমার স্বপ্ন ছিলো, আমি নায়িকা হবো। আমি সবসময় নিজেকে নায়িকা ভাবতাম। আসতাগফিরুল্লাহ, ছোটকালেই কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করতো যে, তুমি বড় হয়ে কী হবে? তখন আমি বলতাম, আমি নায়িকা হবো। এটাই ছিলো আমার একমাত্র স্বপ্ন। আমার জীবনের একক লক্ষ্য। বড়দের কাছ থেকে শুনেছি যে, আমার যখন তিন বছর বয়স তখন টিভিতে গান বাজলেই আমি নাচা শুরু করতাম। এমনকি ঘুমের ভেতরও আমি গান গাইতাম।
………….

এভাবে আমরা একের পর এক প্রশ্ন করেছি। তাঁর পরিবার, ক্যারিয়ার, আগের জীবন, বর্তমান জীবন, সংসার, স্বামী, তাঁর স্বপ্ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন করেছি।
আর আল্লাহর এই বান্দি আমাদের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অবলীলায়, অকপটে। কোনো কৃত্রিমতা বা ভণিতার আশ্রয় নেননি।

সাক্ষাৎকারটি নেওয়ার মাধ্যমে আমরা বুঝেছি, আমাদের সমাজব্যবস্থা এমন যে, এখানে একটি মেয়ে চাইলে খুব সহজে ‘হ্যাপী’ হয়ে উঠতে পারবে। গোটা সমাজ তাকে তরতর করে এগিয়ে দেবে।
কিন্তু একটা মেয়ে যদি ‘আমাতুল্লাহ’ হতে চায়, বা ‘হ্যাপী’ থেকে ‘আমাতুল্লাহ’ হতে চায় তাহলে আমাদের সমাজ তাকে পদে পদে আটকে রাখবে। তার পথ আগলে দাঁড়াবে। তার চলার পথ সংকুচিত করে দেবে। তার পথের ওপর কাঁটা বিছিয়ে রাখবে।

হয়তো সেই পথ এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি; কিন্তু ও পথ বড্ড বিপদসংকুল। বড় বেশি কাঁটাভরা।

সাক্ষাৎকারটি আমরা এজন্যে প্রকাশ করছি যে, এর কথাগুলো কিছু বিষয়ের দিকে আঙ্গুল তুলে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আমাদের বিরাজমান সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদেরকে আরেকটু ভাবতে শেখাবে।

আল্লাহর কোনো একজন বান্দি যদি এ বইটির উসিলায় হিদায়াতের পথ খুঁজে পান, অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আসার পাথেয় খুঁজে পান, আমরা আমাদের শ্রম সার্থক মনে করবো।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিন

November 8, 2017

মাযহাব বিরোধিতার খণ্ডন

November 8, 2017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *