মাকে খুশি করার ১৫০টি উপায়

লেখক ড. সুলাইমান সাকির

প্রকাশক হুদহুদ প্রকাশন

আইএসবিএন 987984811121

পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১২

মুদ্রিত মুল্য ৳ ২০০.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ১৩০.০০(-35% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামি বই , ইসলামি বিবিধ বই

লেখক ডঃসুলাইমান সাকিরের লেখা এক অনবদ্য লেখনশৈলী বই "মাকে খুশি করার ১৫০উপায়"। তার রচিত
" মাকে খুশি করার ১৫০ উপায় " বইটি খুব ই সহায়ক একটা বই হিসেবে পাঠকের মনে স্থান করে নিবে ইনশাআল্লাহ.....
🍃🍃🍃

আমরা অনেকেই আছি যারা কিনা অনেক সময়ই আমাদের বাবা মায়েদের সাথে খুব ই কঠোর হয়ে কথা বলি, আবার তাদের সাথে একটু সময় নিয়ে ঠিকমত কথা ও বলিনা, তাদের মনেও যে এগুলি নিয়ে কষ্ট হয় তা উপলব্ধি করতে চাইনা আমরা।
আর বিশেষ করে মায়েদের সাথে এই জিনিশ গুলি হয়তো বেশি ই করে থাকি আমরা।
.

আর তাই সেইসব কিছু থেকে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে উচিত আমাদের মায়েদের সাথে কোমলতার সহিত ব্যবহার করা,যাতে করে তার মনে কষ্ট না লাগে। আর তার জন্যই এই বইটি খুব ই সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকবে।লেখক সেই হিসেবেই বই টিকে রচনা করেছেন।

.

আমাদের কাছে মহান আল্লাহতালা র দেয়া অনেক বড় একটা নিয়ামাত হলো 'মা'। মা আমাদের যেমন অভিভাবক ঠিক তেমন ই বন্ধু ও বটে। কারন একমাত্র মায়েদের কাছেই হয়ত আমরা আমাদের মনের সকল কথা,সকল বিষয় সহজেই বলতে পারি। আর মায়েরাও ঠিক তেমন ই ভাবে আমাদেরকে বুঝেন,আমাদেরকে সহি টা বুঝান সব কিছুর।

.
একজন মা তার সর্বস্বতা দিয়ে তার সন্তানদেরকে আগলে রাখেন,তার মায়ার আচলে আষ্টেপৃষ্ঠে রাখেন, যাতে করে কোনোরকম ক্ষতিসাধন না হয় তার সন্তানদের।

সেই আমরাই আবার সেই মা কে নানাভাবে কষ্ট দিয়ে থাকি।হোক সেটা কথায়, আচরনে,মানসিক ভাবে,শারীরিক ভাবে।কিন্তু দিয়ে থাকি ই আমরা। পরক্ষনেই ভুলে যাই মা ছাড়া সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে প্রিয় নিজেদের কেউই নেই একমাত্র আল্লাহতালা ব্যতীত। এই দুনিয়াতে আল্লাহতালা র পরেই যদি কেউ আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে তারা হলেন আমাদের বাবা মা, আর মা সবসময় বেশি ই থাকেন এইক্ষেত্রে এগিয়ে। যাদের মা নেই তারাই জানে এর কষ্ট, কতটা নিঃস্ব লাগে তখন মা ছাড়া।

. আর তাই অনেকেই আছি যাঁদের মা থেকেও তার সাথে আমরা খুব ই কঠোর হয়ে ব্যবহার করি যেটা খুব ই নিন্দনীয়। আল্লাহতালা র দেয়া নিয়ামতের এই একটি অমুল্য জিনিষ কেও আমরা কতটা অগ্রহণীয় ভাবে তা অগ্রাহ্য করে থাকি,তার কদর করিনা আমাদের সামনে থেকেও।

আল্লাহ্‌ সুবাহানাতায়ালা তার ইবাদাতের পরই পিতামাতার প্রতি ভালো ব্যবহারের আদেশ দিয়েছেন!

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কোরআনে বলেছেন,

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا

তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারোর ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদের সাথে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা বলো।
(সূরা - বনি ইসরাইল : ২৩)

⭐এছাড়া ও মা কে কিছু হাদিস ও উল্লেখ্য।

🌟মা সম্পর্কিত কতিপয় হাদিস গুলি হচ্ছেঃ

১) রাসূলে খোদা (সা) বলেছেনঃ বেহেশ্‌ত হচ্ছে মায়েদের পায়ের নিচে। ( কানযুল উম্মালঃ ৪৫৪৩৯, মুনতাখাবে মিযানুল হিকমাহঃ ৬১৪ )
২) ইমাম সাদেক (আ) বলেছেনঃ এক লোক রাসূলের খেদমাতে এসে আরজ করলো-হে রাসুল! খেদমত করবো কার? রাসূল বললেনঃ তোমার মায়ের। লোকটি বললো-তারপর কার? রাসূল বললেনঃ তোমার মায়ের। লোকটি বললো-তারপর? রাসূল বললেন-তোমার মায়ের। লোকটি আবারো জিজ্ঞেস করলো তারপর কার? নবীজী বললেন-তোমার বাবার। ( আল-কাফিঃ ৯/১৫৯/২,মুনতাখাবে মিযানুল হিকমাহঃ ৬১৪ )

মাকে খুশি করার জন্য সর্বপ্রথম যে কাজটি করা উচিৎ তা হলো মায়ের সাথে ভালো আচরন করা, উত্তম ব্যবহর্তা প্রকাশ করা,তার সাথে কোমল স্বরে কথা বলা।

রাসূল ﷺ এর সময়ে আলকামা নামে খুব ই পরহেজগার এক লোক ছিলো যার মৃত্যুর সময় কালিমা বের হচ্ছিলো না মুখ দিয়ে, মাকে কষ্ট দেয়ার কারণে!! মা ক্ষমা করার পর তার মুখ দিয়ে কালিমা বের হয়েছিলো, আলহামদুলিল্লাহ্‌!!!

রাসূল ﷺ বলেছেন,
পিতামাতার বদদুয়া ধংসাত্মক, যদি তা অবাধ্যতার কারণে হয়!
তাই সতর্ক হোন,তাকে কষ্ট দিয়ে বদদুয়া কামাই করবেন না! মাকে অসন্তুষ্ট করে আমরা যতোই আমলদার হই না কেন তাতে কোনো ফায়দা হবেনা।

⭐🌟তাছাড়া বিখ্যাত অনেকেই মা নিয়ে কে অনেক উক্তি ও দিয়েছেন।
তাদের প্রথমেই আছেন আমাদের প্রিয় রাসূল (সাঃ) এর প্রিয় উক্তি মা কে নিয়ে তা নিম্নক্ত দেয়া হলঃ

১. হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন তোমাদের জন্য মায়ের পায়ের নিচেই রয়েছে তোমাদের জান্নাত।

২. আব্রাহাম লিংকন- যার মা আছে সে কখনই গরীব নয়।
৩. জর্জ ওয়াশিংটন- আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা হলেন আমার মা। মায়ের
কাছে আমি চিরঋণী। আমার জীবনের সমস্ত অর্জন তারই কাছ থেকে পাওয়া নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আর শারিরীক শিক্ষার ফল।

৪. জোয়ান হেরিস- সন্তানেরা ধারালো চাকুর মত। তারা না চাইলেও মায়েদের কষ্ট দেয়।আর মায়েরা তাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত সন্তানদের সাথে লেগে থাকে।

৫. এলেন ডে জেনেরিস- -আমার বসার ঘরের দেয়ালে আমার মায়ের ছবি টাঙানো আছে, কারণ তিনিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

৬. সোফিয়া লরেন– কোন একটা বিষয় মায়েদেরকে দুইবার ভাবতে হয়-একবার তার সন্তানের জন্য আরেকবার নিজের জন্য।

,
৭. মিশেল ওবামা–আমাদের পরিবারে মায়ের ভালোবাসা সবসময় সবচেয়ে টেকসই শক্তি। আর তার একাগ্রতা, মমতা আর বুদ্ধিমত্তা আমাদের মধ্যে দেখে আনন্দিত হই।

,
৮. নোরা এফ্রন–মা আমাদের সবসময় এটা বুঝাতে চাইতেন যে জীবনের চরম কষ্টের মূহুর্তগুলো তোমাদের হাসির কোন গল্পের অংশ হয়ে যাবে এক সময়।

,
৯. শিয়া লাবেউফ– সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে আবেদনময়ী আমার মা।

,
১০. দিয়াগো ম্যারাডোনা– আমার মা মনে করেন আমিই সেরা আর মা মনে করেন বলেই আমি সেরা হয়ে গড়ে উঠেছি।……

🍃তাই বলা যায় পবিত্র কোরআন এর আলোকেই হোক আর ব্যক্তিজীবন এই হোক সকল ক্ষেত্রেই মায়ের মর্যাদাকে বেশি করে তুলে ধরা হয়েছে।

,
⭐🌟আর তাই মাকে খুশি করার কয়েকটি উপায় নিম্নে তুলে ধরা হলঃ⭐🌟

⭐মায়ের সাথে হাসিমুখে সুন্দর করে কথা বলুন,তার ভালো লাগা গুলি জানার চেষ্টা করুন।

🌟মায়ের সকল কাজে সাহায্য করুন,করার চেষ্টা অন্তত করুন।

⭐মায়ের কোনো কথায় কখনো ' উহ ' শব্দটি বা এমন কোনো কথা উচ্চারণ করবেন না। যাতে তার কষ্ট লাগে।

🌟তার সেবা করার চেষ্টা করুন,তার সুস্থতার জন্য সবসময় দুয়া করুন

⭐অবসরে তার সাথে কিছুক্ষন কথা বলুন, তার ভালো লাগা খারাপ লাগা সম্বন্ধে জানার চেষ্টা করুন, গল্পগুজব করুন।

⭐মায়ের অসুস্থতার সময় তার সেবা করুন, তার জন্য দুয়া করুন,তার সুস্থতার জন্য বেশি বেশি দুয়া করুন।

🌟মাকে মাঝে মাঝে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যান, তার জন্য পছন্দের কিছু করুন। তাকে ঘুরাতে নিয়ে যান।

⭐মায়ের জন্য মাঝেমধ্যে কিছু তার পছন্দের কিছু করুন।

🌟প্রতিদিন মা কত কিছুই করেন আমাদের জন্য, তাই ১টা দিন যদি পারেন তার সেই কাজ গুলি করুন, তাকে অবসর এর কিছুক্ষন হলেই সময় দিন।

⭐তার সাথে আলাপনচারিতা করুন, তার কথা গুলি শুনুন

🌟তার সাথে সবসময় সুন্দর মার্জিতরুচি সহকার এ কথা বলুন

⭐কখনো ই কর্কশভাবে কথা বলবেন্না, এবং বলা টাও পরিহার করুন।

⭐মাকে তার পছন্দের সুন্দর কিছু হাদিয়া দিন যেটায় তিনি খুশি হবেন।

🌟অতীতের কিংবা বর্তমানের ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চান।

যদিও এই ক্ষেত্রে বাবার সাথেও উত্তম ব্যবহার করা যায়, উপরিউক্ত কথা গুলি পিতামাতা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বিদ্যমান।

কারন আমাদের মধ্যেই অনেকেই আছি যারা কিনা পিতামাতার সাথে খুব ই বাজে ব্যবহার করে থাকে মাঝেমধ্যে যাকিনা তাদের মনে কষ্ট অনুভূত হয়ে থাকে, তাই এই বই টি অনেকাংশ এই সেইসব পাঠকদেরকে জাগ্রতচিত্ত করে তুলতে সহায়তা করবে, বাবামার সাথে,বিশেষত মা এর সাথে ভালো আচরন এর জন্য, ভালোবাসা, সম্মান প্রদানের জন্য.

.

⭐🌟#মন্তব্যঃ⭐🌟

.
ব্যক্তিগত মন্তব্যসূত্র হিসেবে বলবো , এই বই টি অনেককিছুতেই পাঠকারী কে সহায়ত্ব করবে আশা করি। কেননা বাবা মা কে আমরা অনেকেই আছি সেইভাবে সময় দিতে পারিনা,চাইনা বা হয়েও উঠেনা হয়ত তেমন।

.
কিন্তু কিছু সময়ের জন্যেও যদি আমরা তাদের সাথে একটু ভালোবাসা নিয়ে, সম্মান নিয়ে,কোমলতা নিয়ে কথা বলি,সময় কাটাই,সেটাই হয়ত তাদের কাছে অনেক বড় কিছুই হতে পারে। কারন তারা এই সামান্য কিছু আশাই রাখেন তার সন্তানদের কাছে, আর সেইভাবেই উচিত তাদের সাথে উত্তম আচরন করা সকলের ই। বিশেষ করে আমাদের মায়েদের সাথে বেশি।কারন আমাদের বলাই হয়েছে, "মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত "
তাহলে কেনোই বা সেই সুযোগ টা কে আমরা হেলাফেলা করবো। আমাদের উচিত সেই ভাবেই মায়েদের সাথে কথা বলা, আচরন করা। আর তাই এই বই টি খুব ই উপকারী হিসেবে কাজ করবে পাঠক কে।

.
আল্লাহতালা আমাদের সকল কেই সেই সহিহ বুঝ দান করুন, বেশি বেশি বাবা মায়ের জন্য দুয়া তার সেবা ও তাদের সুস্থতার জন্যেও দুয়া করার তৌফিক দান করুন

جزاك اللهُ خيرًا

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই