সন্তান : স্বপ্নের পরিচর্যা

লেখক মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ

প্রকাশক সিয়ান পাবলিকেশন

আইএসবিএন 9789843368812

পৃষ্ঠা সংখ্যা ৯৬

মুদ্রিত মুল্য ৳ ১৯৫.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ১৫৬.০০(-20% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি পরিবার ও শিশু বিষয়ক , ইসলামি বই

মানুষ সামাজিক জীব। তাই তাদের সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করতে হয়। তারা একে অন্যকে ছাড়া চলতে পারেনা। তাই অন্যের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য, বংশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এবং জৈবিক চাহিদা পূরণ করার জন্য বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়।

প্রত্যেক বাবা-মা স্বপ্ন দেখে সুন্দর এক সংসারের, ভালো প্রিয় সন্তানের। তাদের ভালোবাসা ভালোলাগা সব তাদের ঘিরে। তারা চায় তাদের সন্তান ভালো হোক, বড় হোক, ভালো থাকুক। তারা যেন সন্তানের কারণে গর্ববোধ করতে পারে। সেই জন্য তাদের পিছনে অঢেল সম্পদ ব্যয় করে।

অধিকাংশ বাবা-মা সন্তান লালন-পালন বলতে বুঝেন- সন্তান'কে খাওয়ানো,তার পড়ালেখার খরচ বহন করা, তার ভরণপোষণ দেওয়া।

তবে সন্তানের জন্য এটা যথেষ্ট নয়।পোষা প্রাণীর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

একটি শিশুকে আদর_যত্ন_ভালোবাসা দিয়ে লালন_পালন করতে হয়।সমাজে তার স্থান সম্পর্কে ধারণা দিতে হয়। সাফল্য লাভের উপায় গুলো শিখাতে হয়। এই শিক্ষা প্রতিটা সন্তান'কে দিতে হয়। চাই সে যে ধর্মের হোক না কেন।

এই ব্যবস্থাটা ইসরাইলে খুব করে পালন করা হয়। সন্তান যেন বুদ্ধিমান হয় সেজন্য মা গর্ভবতী থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ধা-ধা ও অংক কষতে হয়, নিয়মিত সুস্বাদু খাবার খেতে হয়, নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলতে হয়। এবং সন্তান যাতে সমাজে নিজের অবস্থান বুঝতে পারে, সাফল্যর চূড়ান্ত সীমায় উন্নিত হতে পারে সেই জন্য তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ইসরাইলি প্রতিটা সন্তান'কে আরবি,ইংরেজি ও তাদের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়। যার কারণে দেখা যায় ইসরাইল ১০০% শিক্ষিত। এবং পৃথিবীর প্রতিটা প্রধান বস্তুই তাদের। পত্রিকা,টিভি,ব্যাংক সহ সব কিছুই তাদের হাতে। তারা এমন কিছু করে না যা তাদের বুদ্ধি বা নিজেদের ক্ষতি হয়।

আর মুসলামানের সন্তানের জন্য তো এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি। তাদের'কে দুনিয়াতে পথচলা,সাফল্য অর্জন করা ও ইহকালের কল্যাণ অর্জন শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি পরকালিন জগতে যেন উন্নিত হতে পারে সেই শিক্ষা দিতে হয়। সন্তান'কে ইসলামের ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচয় করাতে হয়, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক: তাওহীদ ও উবুদিয়্যাহ শিক্ষা দিতে হয়, নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সাথে তার সম্পর্ক কি তা বুঝিয়ে দিতে হয়, আল্লাহর অফুরন্ত ভাণ্ডারের সন্ধান দিতে হয়, দান ও দা'ওয়াহ: মানবতার প্রতি অবদান রাখা ইত্যাদি শিক্ষা দিতে হয়।

আর সন্তান'কে বুঝাতে হয়, এই জগতের স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ। সবকিছু তার অধিনেই চলে। এজগতের কিছুই চিরস্থায়ী ভাবে নিজের নয়। এমনকি এই গাড়ি-বাড়িও তার নিজের স্থায়ী ভাবে নয় বরং এসব ছেড়ে তাকে চলে যেতে হবে কবরের ও পরকালিন জগতে।

সেদিন ফেসবুকেই পড়লাম 'এক বাবা তার সন্তানদের জীবনে মূল লক্ষ্য এবং এই ক্ষণস্থায়ী জীবন ছেড়ে চলে যেতে হবে তা বুঝাতে প্রতি মাসে একবার করে আজিমপুর গোরস্তানে নিয়ে যান।'

অন্যত্র পড়লাম 'মানবতার কষ্ট বুঝাতে এবং অন্য মানুষের তুলনায় তারা কত সুখে আছে তা বুঝাতে বাবা প্রতি মাসে একবার করে সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যান।'এমনটা করা যায় বরং উচিত।

ইসলামের হাকিকত ও মনুষ্যত্ব বুঝাতে হলে এবং তার উপর আমল করাতে হলে সন্তানদের উপর অনেক বাধা-বিপত্তি আসবে। এগুলো দূর করার জন্য সবসময় বাবা-মা'কে পাশে থাকতে হবে।

এই ব্যাপারে আবু তাহের মিছবাহ সাহেব দাঃবাঃ বলেন:- 'সন্তান কোন বিপদে পড়লে পরামর্শের জন্য কেন অবুঝ বন্ধুদের কাছে যাবে? কেন তারা বাবা-মার পরিবর্তে বন্ধুদের আপন ভাববে? তাই বাবা-মার উচিত সন্তানের সাথে বন্ধুসূলভ আচরণ করা। তার সাথে বন্ধুর মতো করে পাশে থাকা। তবে এমনটা নয়, যাতে বাবা-মা বলতে যা বুঝায় তা বাদ দিয়ে সন্তান শুধু বন্ধু ভাবতে থাকে। বরং বাবা-মা হিসেবে থেকে পাশাপাশি বন্ধু হয়ে থাকা।'

সন্তান'কে গড়ে তোলার ব্যাপারে বইটিতে আরো অনেক আলোচনা চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছেন।

পাঠ পর্যালোচনা
--------+++-----------
বইটি পড়ে নিজের সন্তান লালন-পালনের বিভিন্ন ভুল গুলো চোখে পড়বে পাশাপাশি শুধরে নেওয়ার মওকা পাওয়া যাবে। এবং অনাগত সন্তানদের লালন-পালনের বিষয়গুলো খুব সহজেই বুঝে আসবে। বিবাহিত অবিবাহিত প্রতি পাঠকের জন্য বইটি খুব উপকারী।

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই