ইসলাম ও ফ্যাশনের সংঘাত

লেখক প্রফেসর হাসান সাঈদ

প্রকাশক বইঘর

আইএসবিএন 9847016800726

পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১২

মুদ্রিত মুল্য ৳ ১৫০.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ১০৫.০০(-30% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামি বই , ইসলামি গবেষণা, সমালোচনা ও প্রবন্ধ

সমকালীন জীবন ধারার যে কয়েকটি বিষয়ের সাথে ইসলামের অবস্থানটা সংঘাতের মুখোমুখি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফ্যাশন। ফ্যাশনকে অনেকে আধুনিকতার প্রতীক বলে ইসলামকে সেকেলে ও আধুনিকতা বিরোধী প্রমাণ করতে চান। কিন্তু ব্যাপারটি মোটেই সেরকম নয়। বরং ইসলাম সবসময়ই আধুনিক ও ফ্যাশনদুরস্ত একটি ধর্ম। তাহলে সংঘাতটা কেন? কারণ হল, ফ্যাশনের যে রূপটা আমরা হাল আমলে গ্রহণ করছি সেটা কেবলই ফ্যাশন নয় বরং সেটি 'পশ্চিমা ও বিজাতীয় ফ্যাশন'। আর এর সাথে ইসলামের সংঘাতটা থাকবে সেটা নতুন করে বলার দরকার নাই। এই বিরোধ আর সংঘাতের রূপ ও ক্ষেত্রটাই আলোচ্চ গ্রন্থে লেখক মহোদয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

মূল গ্রন্থটির নাম 'ফেশন পোরস্তী আওর উনকা এলাজ'। লেখক কারি তাইয়েব রাহ. এর বিশিষ্ট খলিফা। তিনি ভারতের হায়দারাবাদের একটি কলেজের অধ্যাপক। ভাষান্তরে লব্ধ প্রতিষ্ঠিত লেখক ও অনুবাদক যাইনুল আবেদীনের নাম দেখে বইটা পড়তে আগ্রহবোধ। করলাম।

ফ্যাশনের কবলে আজকে আমাদের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সব কিছুই আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। লেখক আলাদা আলাদা অধ্যায় টেনে দেখানোর চেষ্টা করেছেন ঠিক কেন সেই অধ্যায়ে আলোচিত ফ্যাশনটা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। অত্যন্ত দরদি ভাষায় তিনি পাঠককে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন।

শুরুতেই তিনি ফ্যাশনের পরিচয় ও এর কুফল বর্ণনা করে সরাসরি চলে যান দাড়ির কাছে। যেই 'ফ্যাশন'-এ ডিস্কো প্রজন্ম তো বটেই, এমনকি অনেক দ্বীনদার যুবক ও কবরে এক পা চলে যাওয়া প্রবীণ ব্যক্তিও আক্রান্ত। এই অধ্যায়ে তিনি দাড়ির ক্ষেত্রে রাসুল সা. এর আদর্শ-আদেশ ও তার সাহাবা এবং পরবর্তী ফকিহদের ফতোয়ার আলোকে দেখিয়েছেন, কতোটুকু দাড়ি রাখতে হবে। ফ্রেঞ্চকাট, সাইডলকসহ দাড়ির কিছু পশ্চিমা সংস্করণের পরিচয়ও তিনি দিয়েছেন। তারপর বিভিন্ন ঘটনার আলোকে প্রমাণ করেছেন এই আদেশ পালনে একজন মুসলিম কেন বাধ্য।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে চুলের নানারকম ফ্যাশনের উপর আলোকপাত করেছেন। লম্বা চুল রেখে বিড়ম্বনায় পড়া দুই যুবকের কাহিনী ক্ষণিকের জন্য পাঠককে কিছুটা হলেও আমোদিত করবে। তারপর তিনি চুলের ক্ষেত্রে আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ ও প্রিয়নবির সুন্নত তুলে ধরেছেন। সাহাবারা এই ক্ষেত্রে যে অনুপম স্বাক্ষর রেখে গেছেন তার বর্ণনা দিতেও লেখক মহোদয় ভুল করেন নি।

তৃতীয় অধ্যায়টা বেশ কিছু লম্বা করেছেন লেখক। কারণ এটি ছিল পোশাক-পরিচ্ছদ সম্বন্ধীয়। এই বিষয়ে অনেক দ্বীনদার ভাইদেরকেও দেখা যায় ভ্রান্তিপূর্ণ কথাবার্তা বলে থাকেন যে, সুন্নতি পেষাক বলে কিছু নাই। সুতরাং যার যা ইচ্ছা সে তা পরবে। এই ধরণের ভ্রান্তির নিরসনমূলক জবাবি আলোচনার অবতারণা করেছেন তিনি। দেখিয়েছেন, পোশাক-আশাকের প্রশ্নে ইসলাম কোন কোন শর্ত বেঁধে দিয়েছে। যা না থাকলে সেই পোষাককে ইসলামী পোষাক বলা যায় না।

এতোক্ষণ যাবৎ তিনি পুরুষ কেন্দ্রিক ও নারী-পুরুষ উভয় কেন্দ্রিক আলোচনা করার পর সরাসরি চলে যান শুধু নারী সংক্রান্ত ফ্যাশন বিষয়ে। নারীর শাড়ি-ব্লাউজ থেকে শুরু করে মেকাপ-লিপিস্টিক, ভ্রুপ্লাক-কপালতিলক, কৃত্রিমচুল-নেলপালিশ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারপরে বিবিধ ফ্যাশন নিয়েও বলেছেন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা।

একটা বিষয় আমার কাছে ভালো লাগে নি। তা হল, 'মোটর সাইকেলের পেছনে ম্যাডাম' শিরোনামে তিনি হাতাকাটা ব্লাউজ পরিহিতা একজন নারীর দেহ আর সাজ-সজ্জার বর্ণনা দিয়ে তাকে স্বামীর মোটরসাইকেলের পেছনে এমনভাবে বসিয়ে রাস্তায় নামিয়ে এনেছেন যে, জোরালো বর্ণনাভঙ্গি পাঠকের কল্পনা চিত্রে সেই নারীর রূপ-যৌবন চিত্রিত করে দেয়। তার দৃষ্টির সামনে ফুটিয়ে তোলে একজন উদ্দীপক নারীর অবয়ব। এই সামান্য সময়ের কল্পচিত্রটা শয়তানের চোরাগলি হয়ে যাওয়াটা মোটেই অসম্ভব নয়। তাই ধর্মীয় গ্রন্থের ক্ষেত্রে এটি কাম্য নয়। এমন জায়গাগুলো সাধারণভাবে বলাই উত্তম।

সর্বোপরি বইটা আমার ভালো লেগেছে। অনুবাদকের দক্ষতার কারণে অনূদিত গ্রন্থ বলে মনেই হয় না। সুখপাঠ্য আর সাবলীল বলা যায়। তাত্ত্বিক আর গুরুগম্ভীর কথাবার্তা পরিহার করে সহজসরল ভাষায় ধর্মের কথা শুনতে চান যারা তাদের জন্য বইটা অধিক উপযোগী হবে মনে হয়।

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন