হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল

লেখক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশক নবপ্রকাশ

আইএসবিএন 9789849347149

পৃষ্ঠা সংখ্যা ৯৬

মুদ্রিত মুল্য ৳ ১৪০.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ৮৪.০০(-40% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামি বই , আত্ম-উন্নয়ন ও মেডিটেশন

আমি বরাবর কারিগর-প্রেমী।

জাহিলি সময়ে গানের শিল্পীর চে সুরকার, সিনেমার অভিনেতাদের চে পরিচালকের বেশি গুণমুগ্ধ ছিলাম। ইসলামে আসার পর বইয়ের বিষয়বস্তুর চে কিছু কিছু লেখকের ‘ন্যাওটা’ হয়েছি। পছন্দের কিছু লেখক যা-ই লিখেন, তা-ই পড়ি। বিষয়বস্তু অভিনব হোক কি অর্বাচীন—কিছু আসে যায় না আমার। আমি জানি এদের লেখা পড়লে আমি কিছু নতুন নতুন শব্দের খোঁজ পাবো। নতুন কিছু বাক্যেবিন্যাসের সাথে পরিচিত হবো। শব্দের গৎবাঁধা ব্যবহারের বদলে পাবো নতুন প্রয়োগের উদাহরণ। সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর আমার গুটিকয় সেসব পছন্দের লেখকদের একজন।

বইটা উনার ওয়ালে দেখামাত্রই পরেরদিন একটি জনপ্রিয় অনলাইন বইবিপণীতে ফরমাশ করে দেই। হাতে আসার পর আজ একটু, কাল একটু, কদিন লম্বা বিরতির পর আবার একটু একটু করে শেষ করলাম অবশেষে। এক শব্দে যদি বলতে হয় বইটি কী নয়ে তা হলে বলব এটি বাংলা ভাষায় বর্তমান সময়ে লিখিত নিখাদ ‘উদ্দীপনামূলক’ বই।

সকালে ঘুম থেকে উঠে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ-পর্যন্ত এদেশের কোটি কোটি কিশোর-তরুণ-যুবা যে-হতাশা, হীনমন্যতা আর ‘ভাল্লাগেনা’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এ বইটি তাদের জন্য টনিকের মতো কাজ করবে বলে আমার মনে হয়। পরিণত বয়সের মানুষদের গৎবাঁধা সমাজ-চিন্তায় খানিকটা দোলা দেবে, ভাবাবে, পরিশীলিত করবে। প্রতি মুহূর্তে শত ‘না’-এর জাল, শত বাধার নালা ডিঙিয়ে পার হওয়ার সাহস জোগাবে। আর সেগুলো আসবে লেখকের নিজস্ব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ফলঝুড়ি থেকে। আর এটাই সবচে মজার দিক এ বইয়ের।

বইটা পড়ে আমার যদ্দুর মনে হয়েছে, সালাহউদ্দীন ভাই তাত্ত্বিক কথাবার্তা খুব একটা বলেননি। মানে ওই স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ড. লুৎফর রহমানের ‘উন্নত জীবন’, ‘মহৎ জীবন’ ধরনের নয়। যা কিছু বলেছেন তা পুরোই তার স্বল্প জীবনের হাতেকলমে শেখা জীবন-অভিজ্ঞতা ও দর্শন। যদিও আমি আসলে উনার লেখার স্বাদ চাখার জন্যই পড়েছি, তবে আমপাঠকের কাছে এগুলো ভালো লাগতে পারে। নতুন করে চিনিয়ে দিতে পারে জীবনের রং।

নিজে একজন লেখক হিসেবে এ বইয়ের শেষ আর্টিকেলটি আমার সবচে ভালো লেগেছে। আসলে ওটাই সবার আগে পড়েছি। নতুন বা লেখালেখিতে আসতে চান যারা, তাদের ভালোই কাজে লাগবে লেখাটি।

মানব-মস্তিষ্কের অসামান্য ক্ষমতার উদাহরণ দিতে গিয়ে ওলি-বুজুর্গুদের কারামাতের এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বইটিতে। এই একটা জায়গায় আমার কাছে বইয়ের আলোচনা খুবই লেজগোবরে মনে হয়েছে। আমাদের দীনে বিশুদ্ধভাবেই অনেক কারামাত প্রমাণিত। কিন্তু আমার মনে হয় এ জিনিসগুলো ব্যাখ্যাতীত। এগুলোর ব্যাখ্যাতে না গেলেই ভালো। আর আমরা জানি অনেক ভণ্ডসাধু শয়তান জিনকে বশ করে নানা অসাধ্য করে দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভেলকি লাগিয়ে দেয়। সত্যি বলতে এসব কারামাতের কোনো বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য নেই। কোনো বিশেষ ধর্মীয় ব্যক্তি করে থাকলে ভালো কথা। তাতে সাধারণের কিছু যায় আসে না। বরং কারামাতের অতি আগ্রহ গ্রামের মানুষদের তো বটেই, শহরের মানুষদেরকেও ধোঁকা দেয়। এ বিষয়টা তাই এড়িয়ে গেলেই বোধ হয় ভালো হতো।

যাহোক, বইটি প্রাথমিকভাবে পড়ার উদ্দেশ্য ছিল নিখাদ সাহিত্যস্বাদ। সেটা আমি মোটামোটি পেয়েছি। আসলে ‘উদ্দীপনামূলক’ বইতে সাহিত্যের কারুকাজ তেমন করা যায় না বলেই আমার মনে হয়। তারপরও সূক্ষ্ম কিছু বুননশিল্প জহুরি পাঠকের চোখ এড়াবে না।

বইটাকে ঠিক লেখকের আত্মজীবনী বলা না গেলেও তার জীবনের খণ্ডিত-চিত্র বলা যায়। তিনি সে-জীবন অভিজ্ঞতা থেকে হতাশায় ডুবে যাওয়া, আত্মভোলা, দীন নিয়ে হীনমন্যতা আর জটিলতায় ভোগা কিশোর-তরুণদের উদ্দেশ্যে হৃদয় নিংড়ানো কিছু কথা বলেছেন।

বইটা আমার কাছে নতুন নতুন শেখা নানা শব্দ, পুরোনো শব্দের নতুন ব্যবহার, নানা অচিন্তনীয় বাক্য-অলংকারের কারণে পুনর্পাঠে জায়গা করে নেবে।

পাঠকদের মধ্যে যদি কারও এ জীবন আর ভালো না লাগে, বিষময় মনে হয়; এ জীবন রেখে আর কী হবে, তাকেই যদি না পেলাম তা হলে ‘কী পেলাম গেবনে’—এমন মনোভাব থাকে; যদি জানতে ইচ্ছে করে এ জীবনের সুখপাখি কোন খাঁচায়, যদি পুরো পৃথিবী চেপে আসে পাথরের মতো, তা হলে এ বইটি পড়ে দেখতে পারেন। সাথে সাহিত্যের কিছু লবণ ফ্রি।

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই