সালাহউদ্দিন আইয়ুবী (রাহিমাহুল্লাহ)

লেখক শায়খ নাসিহ আল উলওয়ান (রা.)

প্রকাশক সমর্পণ প্রকাশন

পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৪

মুদ্রিত মুল্য ৳ ২৭৫.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ২২০.০০(-20% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি জীবনী সংকলন , মুসলিম ব্যক্তিত্ব

নিঃসন্দেহে মুসলিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দ্বীনদারি, ইবাদাত, তাকওয়া, ঈমান, তাওয়াক্কুল ইত্যাদি। আল্লাহর নিকটই সবকিছু চাওয়া এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমেই একজন মুসলিম সাহসী বীরের জন্ম হয়। সালাহউদ্দীন ছিলেন এমনই গুণে গুণান্বিত। তাঁর ঘনিষ্ট সহচর আল-কাযী বাহাউদ্দীন ইবনু শাদ্দাদ তাঁর সীরাত সালাহউদ্দীন গ্রন্থে বলেন:
“তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) ঈমান ছিলো উত্তম এবং তিনি আল্লাহর অনেক যিকির করতেন। বড় বড় আলিম ও কাযিদের সাহচর্যে থেকে তিনি এসব গুণাবলি অর্জন করেন। যেমন, শেইখ কুতুবুদ্দীন আন-নাইসাবুরি তাঁর জন্য ঈমান-আকাঈদ সংক্রান্ত অনেক বিষয় একত্র করে দেন। তিনি তাঁর সন্তানদেরকে শিশুকালেই পরম যত্ন নিয়ে এসব শিক্ষা দান করতেন ও মুখস্থ করাতেন। আমি তাঁকে তা শেখাতে দেখেছি এবং তাঁর সন্তানদেরকে দেখেছি তাঁর কাছে পড়া দিতে।
.
তিনি সঠিক ওয়াক্তে জামা’তের সাথে সালাত আদায় করতেন। তিনি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ও সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা সালাতগুলোও নিয়মিত পড়তেন। কিয়ামুল লাইল করার জন্য শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠতেন, আর উঠতে না পারলে ফজরের আগে পড়ে নিতেন। মৃত্যুপূর্ব অসুস্থতার সময়ও তাঁকে আমি দাঁড়িয়ে সালাত পড়তে দেখেছি। জীবনের শেষ তিন দিনে অবচেতন হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সালাত ছাড়েননি। সফরের সময় সালাতের ওয়াক্ত হলে তিনি নেমে সালাত পড়ে নিতেন। 
.
মৃত্যুর সময় তাঁর যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদও অবশিষ্ট ছিলো না। গরীব-দুখীদের জন্য তিনি দু হাত খুলে দান করেছেন। তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ সাতচল্লিশ দিরহাম ও এক জুর্ম (খেজুরের বিচি সমান ওজনের মুদ্রা)। তিনি ঘরবাড়ি, বাগান, গ্রাম, খামার বা অন্য আর কোনো ধরনের সম্পত্তি রেখে যাননি।
রামাদ্বানের কিছু সওম তাঁর অসুস্থতার কারণে ছুটে গিয়েছিলো। মৃত্যুর বছরে জেরুজালেমে থাকা অবস্থায় তিনি সেগুলোর কাযা শুরু করেন। ডাক্তার তাঁকে এর কারণে তিরস্কার করেছিলেন। তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি তো আমার তাকদির জানি না।’ মনে হয় তিনি মৃত্যুর আগমন টের পাচ্ছিলেন।
.
তিনি হাজ্জ করার জন্য নিয়্যাত রেখেছিলেন এবং খুব করে তা চাইছিলেন। বিশেষ করে যে বছর তিনি মারা যান, সে বছর। কিন্তু সময় অনুকূলে ছিলো না। তাঁর হাতে যথেষ্ট অর্থ ও সময় ছিলো না। সকলে একমত যে, তিনি পরের বছর হাজ্জ করার সংকল্প করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ সে বছরই তাঁর তাকদিরে মৃত্যু রেখেছিলেন।
তিনি নিজে কুর’আন তিলাওয়াত করতেন এবং শ্রেষ্ঠ ক্বারিদের বেছে নিয়ে তাঁদের তিলাওয়াত শুনতেন। তাঁর অন্তর ছিলো নরম এবং প্রায়ই তিনি তিলাওয়াত করে বা শুনে কেঁদে দিতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ স.-এর হাদীসও শুনতেন। একজন উচ্চশিক্ষিত শাইখের কথা শুনে তিনি তাঁকে নিমন্ত্রণ করিয়ে আনেন এবং তাঁর কাছ থেকে দ্বীন শিক্ষা করেন। অন্যদেরকেও তিনি এই দারসে আসার অনুমতি দেন।
.
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলোকে তিনি অনেক সম্মান করতেন। তিনি দার্শনিক ও বাতিল ফির্কাগুলোকে ঘৃণা করতেন। রাজ্যে কোনো যিন্দিক-মুলহিদের খবর পেলে তিনি তাকে হত্যার আদেশ দিতেন।
তিনি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারী বা তাওবাহকারী ছিলেন। মুসলিমদের পরাজয়ের খবর পেলে তিনি সিজদায় পড়ে দু’আ করতে শুরু করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমার দুনিয়াবি আসবাব শেষ হয়ে গেছে। তাই আমি আপনার দ্বীনকে বিজয়ী করতে ব্যর্থ হয়েছি। আপনার সাহায্য, আপনার রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, আর আপনার রহমতের উপর ভরসা করা ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আপনিই আমার জন্য যথেষ্ট, আর আপনি হলেন শ্রেষ্ঠ কর্মবিধায়ক।’
আল-কাযী বাহাউদ্দীন আরো বলেন,
“আমি তাঁর অশ্রু গড়িয়ে তাঁর দাড়িতে, তারপর মাদুরে পড়তে দেখেছি। এমনকি তাঁর কথাও আর বোঝা যাচ্ছিলো না।” একই দিনেই তাঁকে বলা হয়েছিল যে মুসলিম সৈনিকেরা জয়লাভ করেছে। এছাড়া তিনি জিহাদকে এত ভালোবাসতেন যে, এটি তাঁর পুরো হৃদয়-মন-প্রাণ জুড়ে থাকতো। তিনি জুমু’আর দিনে যুদ্ধ করতেন যাতে হাদীসে বর্ণিত দু’আ কবুলের সেই স্বল্পস্থায়ী বিশেষ মুহূর্তে করা দু’আর সুযোগ নিয়ে তিনি জয়লাভ করতে পারেন।”
 

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই