সবুজ রাতের কোলাজ

লেখক আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব

প্রকাশক সমকালীন প্রকাশন

আইএসবিএন 9789843439611

পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮৭

মুদ্রিত মুল্য ৳ ১২০.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ৯৬.০০(-20% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামি বই , ছড়া, কবিতা ও আবৃত্তি

কবিতার সাথে আমার ঘরবসতি কৈশোরেই। কবিতা একটা নেশা। কবিতা একটা পৃথিবী। দ্বীনে আসার আগে প্রিয় কবি বলতেই সুনীল, জীবনানন্দ দাশ, রফিক আজাদ, হুমায়ুন আজাদ, হেলাল হাফিজ আর রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহদের বুঝতাম।

চাকসু ক্যান্টিনে বসে বসে বন্ধুদেরকে কতোশতো বার যে সুনীলের 'কেউ কথা রাখেনি' কবিতা শুনিয়েছি, তার ইয়ত্তা নেই। হেলাল হাফিজের 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থ আমার আগাগোড়া মুখস্তই ছিলো। কবি আবুল হাসানের একটা কবিতা খুব আবৃত্তি করতাম-

/ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সয়ে যাও
বুকেতে বিষের বালি
তবু মুখ বুজে মুক্তো ফলাও/

শাটলের জানালার সেই মরিচা পড়া লোহাগুলো সাক্ষী, রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লার এই কবিতা গুনগুন করে না আবৃত্তি করলে আমার দিনটাই অপূর্ণ মনে হতো-

/আকাশ থেকে ছিটকে পড়া তারার মতোন
কখন যেন অসংলগ্ন একলা আমি
ছিটকে এসে আটকে গেছি নীল শহরে/

এরপর, জীবন একটা মোড় নেয়। সুনীল, আজাদ আর শহীদুল্লাহদের ছেড়ে জীবনে এসে ভিড়ে ফররুখ আহমদ, বয়োবৃদ্ধ আল মাহমুদ আর নজরুল। আমার গলায় 'কেউ কথা রাখেনি' কবিতার বদলে 'পাঞ্জেরী' উঠে আসে। আমি আকন্ঠ পান করি ইসলামি চেতনার আল মাহমুদকে, যখন তিনি লিখেছেন-

/আমাদের এ মিছিল নিকট অতীত থেকে অনন্ত কালের দিকে
আমরা বদর থেকে ওহুদ হয়ে এখানে,
শত সংঘাতের মধ্যে এ কাফেলায় এসে দাঁড়িয়েছি।
কে প্রশ্ন করে আমরা কোথায় যাবো ?
আমরা তো বলেছি আমাদের যাত্রা অনন্ত কালের।
উদয় ও অস্তের ক্লান্তি আমাদের কোনদিনই বিহবল করতে পারেনি।
আমাদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত,
আমাদের রক্তে সবুজ হয়ে উঠেছিল মূতার প্রান্তর।
পৃথিবীতে যত গোলাপ ফুল ফোটে তার লাল বর্ণ আমাদের রক্ত,
তার সুগন্ধ আমাদের নিঃশ্বাসবায়ু।
আমাদের হাতে একটিমাত্র গ্রন্থ আল কুরআন,
এই পবিত্র গ্রন্থ কোনদিন, কোন অবস্থায়, কোন তৌহীদবাদীকে থামতে দেয়নি।/

এরপর, অনেকদিন কবিতার সাথে আমার ঘর পাতা হয় না। একান্ত নির্জনে গুনগুন করে আওড়ানো হয়না কোনো কবিতা। বুকের কোথায় যেন একটা চাওয়া লুকিয়ে ছিলো, 'আমরা কি আর কোনো ফররুখ আহমদকে পাবো না? ইসলামি চেতনার কোন নজরুল বা বয়োবৃদ্ধ আল মাহমুদকে?'

হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করি আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীবকে। তার কাব্যপ্রতিভা দেখে আমি বিস্মিত হয়ে পড়ি আর মনে মনে বলি- 'আমার এ চাওয়া ফুরালো তবে'।

নজীবের যেমন গদ্যশৈলী, তেমনই তার কবিতা লেখার হাত। পড়ছিলাম তার কাব্যগ্রন্থ 'সবুজ রাতের কোলাজ'। এবার সহ বেশ কয়েকবার পড়া হচ্ছে। আজকে আবার উল্টিয়েছি একটা বিশেষ কবিতা পড়তে। কবিতাটার নাম- ' আকসার চিরকুট'।

নজীব লিখেছে-

/কত রাসূলের পদছোঁয়া আমি, আমাকে গিয়েছো ভুলে
তেল আবিবের পদধূলি তুমি মাথায় নিয়েছো তুলে
আমিই তোমার প্রথম কিবলা, আমাকে চেনো না তুমি?
চিনবে কীভাবে? কিবলা তোমার ওয়াশিংটনের ভূমি।

আমার রোদন শ্রবণে তোমার চোখে কি শ্রাবণ ঝরে?
তোমার হৃদয়ে ঘুমানো উমার কখন গিয়েছে মরে?
আমি অনুক্ষণ তোমার আসার প্রতীক্ষাতেই রই-
তোমার বুকের পাঁজরে লুকানো সালাহুদ্দীন কই?/

কবিতাটা খুব প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে, তাইনা? ইসরাঈলি বাহিনীর বিপরীতে মুসলিমদের ভূমিকার সবটুকু যেন নজীব তার এই কবিতার ক'টি লাইনেই তুলে ধরেছে। আহা! সেই উমার, সেই সালাহুদ্দীন! কেউ নেই আজ আমাদের জন্য।

নজীবকে ধন্যবাদ এমন একটি কাব্যগ্রন্থ আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। আমরা অন্তত পরবর্তী প্রজন্মকে বলতে পারবো, আমাদের সময়েও ফররুখ আহমদদের উত্তরসূরিরা ছিলো। নজীবকে চেনো না? সে-ই তো আমাদের ফররুখ....

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই