নানান রঙের মানুষ

লেখক রেহনুমা বিনত আনিস

প্রকাশক সমকালীন প্রকাশন

আইএসবিএন 9789843439604

পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৩৬

মুদ্রিত মুল্য ৳ ১৮৫.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ১৪৮.০০(-20% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামে নারী , ইসলামি বই , নারী

রেহনুমা বিনত আনিস। আধুনিক যুগের আধুনিক মানুষ। যিনি বসবাস করেন বর্তমানে কানাডায়, সর্বাধুনিক এক উন্নত শহরে। কিন্তু তার জন্ম পাহাড় ঘেরা চট্টগ্রামে। বেড়ে উঠা বাংলায়, কৈশোরের অবাক লাগা সময় পার হয়েছে মরুর দেশ আবুধাবিতে, যৌবন ভারতে। আহা-রে, এমন নানান দেশ ঘোরা একজন মানুষের পক্ষেই লেখা সম্ভব হয় নানান রঙের মানুষ। যে বিভিন্ন শহরে নানান বর্ণের, স্বভাবের, কর্মের, ধর্মের অসংখ্য মানুষ দেখেছেন, চিনেছেন, জেনেছেন; কম বা বেশি, এক ঝলক কিংবা এক পলক।

জীবন পথে যখন যার সাথে দেখা হয় তার রঙ আমাদের মনেও প্রতিফলিত হয় বিচিত্র রঙধনুতে। কোন মানুষ ভালোবাসার লাল রঙে রাঙায়, কেউ বেদনায় নীল করে, কারো মনের কালো রঙ নিজের সাদা মনের ক্যানভাসে অন্ধকার নিয়ে হাজির হয়। আশারা ডুব মারে হতাশার সাগরে। আবার কখনো দেখা হয় সাদা রঙের কিছু মানুষের সাথে যারা মন পবিত্র করে, আশা জাগায়।

কোন মানুষই আদর্শ নয়, হওয়া সম্ভব নয়, কারণ আমরা কেউ মানবীয় দুর্বলতার উর্ধ্বে নই। তাই লেখিকা এই বইয়ে কোন আদর্শ মানুষের বর্ণনা দেননি, কেবলমাত্র যার কাছে যতটুকু আদর্শ আছে ততটুকু ছেঁকে নেয়ার চেষ্ঠা করেছেন। এবং তাতে সফল হয়েছেন তা বলাই যায়।
আহা! কত রঙের মানুষের কথাই লেখিকা বলেছেন।

আহসান নামের ছেলেটা যে কিনা ক্লাস ফাইভের পরীক্ষার খাতায় নিজের নামের বানান লিখেছে অহসন। এত কাঁচা গোবর ভর্তি মাথা! অথচ এই ছেলেই একটা খেলনার এক পার্টের সাথে অন্য খেলনার এক পার্ট জোড়া দিয়ে ঐ বয়সেই কি দুর্দান্ত মেধার সাক্ষরই না দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সব মানুষকেই বিশেষ করে তৈরি করেছেন। আমরা তা যাচাই করে দেখিনা শুধু। আমার নিজেরই মধ্যে হয়তো কোন বিশেষ গুণ আছে যাচাই করা হয়নি বলে হয়তো নিজেই টের পেলাম না এত বড় হয়েও। আফসোস! বড়ই আফসোসের বিষয়।

অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী ও ফারহানার গল্প- পড়ে চোখ কপালে স্যরি, চোখ কপাল ছেড়ে মাথায় উঠেছে। যে যুগে মানুষ চাঁদে জমি কেনার কথা ভাবছে, বিজ্ঞানীরা সেই স্বপ্ন বুনতে সাহায্য করছেন সেই যুগে আধুনিক এক শহরের কলিগের বাসায় যেতে হয় রাস্তাহীন ধানক্ষেতের হাঁটু সমান কাঁদা পেরিয়ে। না পড়লে বিশ্বাস করতামনা। বিশ্বাস করতাম না এক মেয়ের বুকে লেখাপড়ার প্রতি কতটা মমতা থাকলে এত কষ্ট করে লেখাপড়া শিখতে বাড়ির বাইরে যাবার সাহস রাখে। সালাম এমন সাহসী মেয়েকে।

ওরা পাকিস্থানী- লেখাটায় লেখিকা অসম্ভব ভালো মনের কিছু প্রবাসী পাকিস্তানী ভাই-বোনের কথা লিখেছেন। যাদের কথা জেনে লেখিকার মতো আমারও মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়, আল্লাহ! তোমাকে ধন্যবাদ এইসব পাকিস্তানী ভাই-বোনদের জন্য।

যশোরের মেয়ে রোজিনার জীবনে যৌতুকের অভিশাপ, শ্বেতাঙ্গ এক কানাডিয়ানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের অশ্রুমাখা কাহিনী। রঙধনুর কত রঙ। এরকম নানান রঙের মানুষের কাহিনী নিয়ে এই বই।

বিশেষ করে বাতিঘর নামক গল্পটা এই সময়ের বোনদের অবশ্যই বার বার পড়তে বলব। বোনেরা পড়বেন বাতিঘর গল্পের মত কারো অন্ধকার জীবনের বাতিঘর হওয়ার জন্য! ভাইয়েরা পড়বেন বাতিঘর খোঁজার জন্য, পাওয়ার জন্য। এই গল্পের শেষের কিছু অংশ তুলে দিয়েই আমি আমার লেখা শেষ করছি…
…এখনো রিক্সা পেতে দেরী হয়, বাসে ভিড় ঠেলে উঠতে কষ্ট হয়, অফিসে ঝামেলা হয়, দোকানে দরদাম নিয়ে মন কষাকষি হয়, দু’কামরার ঘরটাতে চাপাচাপি হয়, কোন কোনদিন ভাল তরকারীও থাকেনা। তবু কেন যেন পৃথিবীটাকে আর আগের মত জটিল মনে হয়না। দিনের শেষে ওর জীবনে আছে এমন এক সাথী যে ওর সুখদুঃখ সব সমানভাবে ভাগাভাগি করে নেয়, যে ওর কষ্টগুলোকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিতে পারে, যে ওর বিশ্বাসকে এক আলোর তৈরী মিনারের মত উচ্চকিত করে তোলে। হাসি পায় এই ভেবে যে এই দুই শ্রেষ্ঠ বন্ধুর প্রথম বাক্যালাপ ছিল, ‘আপনি কিন্তু কিছুতেই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবেননা’!

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই