মা, মা, মা এবং বাবা

লেখক সংকলন ও সম্পাদনা

সম্পাদক আরিফ আজাদ

প্রকাশক সমকালীন প্রকাশন

আইএসবিএন 9789843439574

পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৭৬

মুদ্রিত মুল্য ৳ ২৩৫.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ১৭৬.০০(-25% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলাম প্রসঙ্গ , বেস্ট সেলার বুকস , পারিবারিক জীবনবিধান , ইসলামি বই , গল্প

ভারতীয় উপমহাদেশের কালচার এর সাথে গ্লোবাল প্রেসারের মুখে পড়ে আমাদের দেশে ইসলাম একটু বেঁকে গেছে। চারিদিকে সবার প্রবল প্রেসার: যে ইসলাম নাকি নারীকে খুব মর্যাদাহীন করেছে, আর নির্যাতনের পথ খুলেছে।

এর প্রতিউত্তর করতে গিয়ে, ইসলামী ব্যক্তিগণ অনেক সময়ই অতিমাত্রায় মা=৩, বাবা=১ এই হাদীস দিয়ে ডিফেন্ড করেছেন। অতিরিক্ত এক্সাজেরেট করতে গিয়ে মাকে দেবীর আসনে বসানো হয়েছে এবং বাবাকে প্রায় উপেক্ষা করা হয়েছে। যদিও অরিজিনাল ইসলামের বাবার ভূমিকা এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব উপেক্ষিত নয়।

=====

কাজেই আজকের প্রসঙ্গ: বাবা। সবাই তো মা নিয়ে লিখছে, কাজেই আমি বাবাকে নিয়ে লিখতে বসলাম। তার মানে আবার মা কে উপেক্ষা করতেছি, তা নয়।

=====

হাদীসে বাবা অথবা মা যে কোন একজনকেই বৃদ্ধ অবস্থায় পেয়ে তাঁর খেদমত করে জান্নাত হাসিল করা যাবে, একথা বলা হয়েছে, কাজেই বাবার মূল্য কোন অর্থেই কম নয়।

=====

মা আপনার জন্য অনেক কষ্ট করেছে। পেটে ধরেছে, দুগ্ধপান করিয়েছে। আরো অনেক কিছু। অস্বীকার করার জো নেই।

কিন্তু বাবা কিছু করেনি?

মা কে টেইক কেয়ার করেছে কে যখন আপনি গর্ভে ছিলেন? মাকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়িয়েছে কে? মায়ের চিকিৎসা খরচ সামলেছে কে? আপনি আমি যখন দিনে ২ বার অসুস্থ হতাম, তখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে কে? মাসে মাসে বাচ্চার খরচ , বাচ্চার মায়ের খরচ সামলেছে কে?

আপনাকে বড় হবার সময় আপনার ফাইনানসিয়াল যাবতীয় টেইক কেয়ার কি আপনার বাবা করেনি? স্কুলে ভর্তি করা, স্কুলের বই খাতা কিনে দেয়া, বায়না পুরন করা, হাসপাতাল সার্ভিস থেকে শুরু করে, অ-আ-ক-খ-এ-বি-সি-ডি এগুলো আপনাকে কে শিখিয়েছে কে?

এই যে ২০-৩০-৪০ বছর বাপের হোটেলে খাচ্ছেন, ওই হোটেলে বিল কত আসছে এখন? কোন দিন চিন্তা করেছেন? আর কারো হোটেলে ইভেন ২০-৩০ দিন ফ্রী খেয়ে দেখেন তো, আপনাকে কি করে? অথচ বাবার হোটেলে খেয়েই যাচ্ছি আমরা, কোন হুঁশ ছাড়া। কোন শুকরিয়া নাই। 
=====

নিজের চাকরি-বাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে আপনাকে ছোটবেলায় এসব কাজের যোগান দিতে যে সময় আর অর্থ ব্যয় করেছে, আপনার বাবা, তা যদি তিনি না করতেন, আপনার মা একা এত কিছু সামলাতে পারতো?

ওই অর্থ এবং সময় তিনি যদি অন্য কাজে বিনিয়োগ করতেন, তার হাতে এখন কত কিছু থাকতো, চিন্তা করেন? যাদের ভাই বোন বেশী, চিন্তা করেন, আপনার বাবাকে কত প্রেসারে থাকতে হয়েছে, একসাথে এতগুলো বাচ্চার টেইক কেয়ার করা।

======

কিন্তু আপনার বাবা এসব কথা কখনও তুলেন না। মিডিয়াতেও বলা হয়না। সব জায়গায় খালী মা আর মা, বাবা যেন অপাংক্তেয়। পারলে মাকে পূজো করাচ্ছে, কিন্তু বাবা যে আছে, তার কোন খবরই নাই।

মায়েদের সাথে সন্তানদের একটু ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকে। মার কোন প্রবলেম হলে মা তা বলে। কানে আসে। কারণ মানসিক প্রেসারে থাকলে নারী অনেক কথা বলে।

কিন্তু পুরুষ কোন কথা বলেনা, প্রেসারে থাকলে চুপ হয়ে যায়। কেউ খোঁজও রাখেনা, যে মানুষটার মন কেন খারাপ।

----

রিটায়ারমেন্টের পর প্রতিটা বাবাই বেশ খারাপ সময় কাটান। ঘরের মধ্যে যেন তিনি বিদেশী, প্যালেস্টাইনী। সবার সাথে দূরত্ব। চারিদিকে খালী মা , মা , মা আর মা। টিভি, সিনেমা, পত্রিকা, ফেবুক, ইউটিউব, ভারতীয় নটা-নটীদের অভিনয় সব জায়গায় মাকে ব্যাপক হাইলাইট। সবার কনসেন্ট্রেশন হল মা। কিন্তু বাবা যে ছেলেমেয়েগুলো মানুষ করতে গিয়েই তাঁদের সময় দিতে পারেন নি, দূরত্ব হয়ে গেছে, সেটা কারো খেয়াল নেই। এখন বুড়ো মানুষ অসুস্থ হলেও কেউ খোঁজ নেয়না। কেউ ইভেন জানেই না যে সে অসুস্থ।

পকেটে টাকা নেই, কোন একটা জিনিস দরকার, বা কিনতে ইচছে করছে আপনার বাবার। কিন্তু পুরুষ মানুষ, ব্যক্তিত্বে বাধে, লজ্জা লাগে, সন্তানদের কাছে চাইতে। উনি চানও না, কেউ দেয়ও না। মার খবর সবাই রাখতেছে, কিন্তু বাপের খবর কেউ রাখেনা। এক হার্ট এটাক বা ব্রেন স্ট্রোক হলে মানুষ খবর নেয়।

---------

এই হল মুসলিম বাবাদের অবস্থা, ভারতবর্ষে।

----

কারণ হাদীস কোরআন চষে, জাতি ইন্ডিয়ান কালচারকেই এমফ্যাসিস করছে। সারাদিন নারীকে পূজা দেয়, মা কালী, মা দুর্গা, মা স্বরস্বতীয়। এরপর নারীকে ধ_ণ তারাই সবচে বেশী করে, বউ তারাই সবচে বেশী পিটায়, কন্যা সন্তান তারাই সবচে বেশী হত্যা করে, নারী নির্যাতনে তাদের জুড়ি নাই!!! আবার ইসলাম নিয়ে কথা বলতে আসে। কি বলতাম বলার কিছু নাই। আবেগী জাতি।

-------

=======

কাজেই , আপনার বাবার খোঁজ নিন, যদি তিনি বয়স্ক হয়ে থাকেন। তাঁকে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করুন, তার কি দরকার। তাঁর কি সমস্যা তাকে বার বার জিজ্ঞেস করুন, জিজ্ঞেস করে করে বের করুন। যা দরকার, তা পুরা করে দিন। তিনি না চাইলেও তাকে খরচ প্রদান করুন, যদি তিনি বৃদ্ধ হয়ে থাকেন। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয়। 
হতে পারে, তিনি রূক্ষ, তিনি কর্কশ। 
কিন্তু তিনি আপনার বাবা। উপরোল্লিখিত কাজগুলো একসময় করেছেন, যার বদলা দেবার সময় এখন।

মনে রাখবেন, আপনার বাবা আপনাকে মুখ ফুটে কখনও বলবেন না, যে তার কি প্রয়োজন। এটা তার জন্য সম্মানজনক নয়। তিনি অন্যকাউকেও বলবেন না। আপনাকেও জিজ্ঞেস করে বের করতে হবে। নিজে করতে না পারলে, যার সাথে বাবার সম্পর্ক ভাল, তাকে দিয়ে জিজ্ঞেস করান, নরম হয়ে।

======
হাদীসে কুরআনে অনেক কিছুই আছে। কিন্তু সাধারণত: মানুষ নিজস্ব কালচারের পক্ষের হাদীসকে এমফ্যাসিস করে। এ হল প্রবলেম। যে হাদীস বললে মানুষ খুশী হবে, তা বলতে চায়, তার বিপরীতটা বলতে চায়না। 
এ হল প্রবলেম। 
======

বিয়ে শাদী: 
নরমালী বিয়ে শাদীতে বাবারা ঝামেলা করে কম। ইন জেনারেল। বউ-শাশুড়ী দ্বন্দ্ব এর মধ্য শ্বশুর-বউ দ্বন্দ্ব হয়না। কাজেই লিখলাম না।

-----

শুধু মা কে নিয়ে পড়ে থাকবেন না। মা এবং বাবা অথবা জীবিত যে কোন একজন থাকলেই তাকে সেবা করুন। 
আর এটাও মনে রাখতে হবে, যে মা কে তুলনামূলক বেশী টেইক কেয়ার করলেও, তাজীম বা সম্মান বাবাকে বেশী করতে হবে। বাবার অনার বেশী। আপনার মা আপনার বাবার ইচ্ছের বিপরীত কোন কাজ করলে ( যদি আপনার বাবার পজিশন শরীয়তে হারাম কিছু না হয়) মাকে ইন্ডিয়ানদের মতন অতি সম্মান দিতে দিতে বাবার বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেন না। আপনার বাবার ইচ্ছাকে অনার করা আপনার মার উপর ফরজ দায়িত্ব, তা তাকে মনে করিয়ে দিন।

-----
জাযাকাল্লাহ।

পুনশ্চ: ইউ এস এর জেল এর ডকুমেন্টারী/লেখা পড়ছিলাম। জেলে তারা হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ক্রিমিনালকে বন্দী করে রেখেছে, অধিকাংশই পুরুষ।

ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, এই ক্রিমিনালদের অধিকাংশরই বাবা নেই। মানে হয় বাবা মারা গেছে, না সিংগেল মাদার এর সন্তান। মানে বাবা খোজ খবর রাখেনি, তাই ছেলে পরে সন্ত্রাসী হয়ে গেছে।

ইনডিরেক্টলী এর মানে হল, বাবা যদি আপনাকে ছোটকালে, কৈশোরে ডিসিপ্লীনড না করে, গাইড না করে, কনফিডেন্স না দেয়, আপনি অমানুষে পরিণত হবার ব্যাপক সম্ভাবনা। কাজেই আপনার মা আপনাকে মানুষ করেছে, বাবা কিছুই করেনি, এটা ঠিক কনসেপ্ট না। বাবা যদিও কনটাক্ট কম করে, কিন্তু যখন করে, তখন ব্যাপক ইমপ্যাক্ট পড়ে।

বাবা ছাড়া ছেলেপেলে আসলে মানুষ হয় না। হলেও কষ্ট।

=======

আমার এই লিখাটা মায়ের বিরুদ্ধে নয়। মিডিয়ায় মাকে হাইলাইট করা হয়, বাবাকে করা হয়না। তাই বাবা নিয়ে লিখলাম।

আসলে মা - বাবা দুজনেই তাদের অবস্থান থেকে যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ। যার যার হক্ব তাকে তাকে বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করতে হবে।
--------

অফটপিক: অনেক পরিবারে মায়েরা কিছুটা ফাইনানসিয়াল অবলিগেশন নেন। তবে সেটা জেনারেল ট্রেন্ড নয়। আর বাবার কাঁধেই মূল দায়িত্ব থাকে, কাজেই সেটাকে স্কিপ করে লিখেছি।

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন