রাসূলের চোখে দুনিয়া

লেখক ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ)

প্রকাশক মাকতাবাতুল বায়ান

আইএসবিএন 978984342649

পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৯

মুদ্রিত মুল্য ৳ ২৭৫.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ২২০.০০(-20% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামি বই , আধ্যাত্মিকতা ও সুফিবাদ

মাত্র তিনটা অক্ষরের সমন্বয়ে ছোট্ট একটা শব্দ।জন্মের পর থেকে এই দুনিয়াকে ঘিরে আমাদের কত শত স্বপ্ন,পরিকল্পনা,ছুটে চলা...।শুধু কি তাই?সাথে আছে স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার দুঃখ,কোনো বস্তু কিংবা ব্যক্তিকে হারানোর কষ্ট,রোগে ভুগার কষ্ট,ভবিষ্যৎ নিয়ে টেনশান।অতঃপর হতাশা বিলাশ.....

একটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যায় প্রায় সব ধরণের হতাশা আর ভাল্লাগেনা রোগের পেছনে জড়িয়ে আছে "দুনিয়া" নামের এই শব্দটা।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন তিনি আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য।আর আমরা দুনিয়াতে পরীক্ষা দিতে এসে সেই দুনিয়ার কারণেই ফেল করে বসি পরীক্ষাতে।আমরা ভুলে যাই আমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য।প্রকৃত ঠিকানা।

একটা রোগ,একটা না পাওয়া,দুনিয়াবি ব্যর্থতা কিংবা অপেক্ষার প্রহর গুণতে না পেরে কেউ কেউ ঈমান বিক্রি করতে চলে যাই মাজারে।কিংবা বেছে নেই কুফুরির মতো জঘন্য পথ।অনেকে তো সৃষ্টিকর্তাকেই দোষারোপ করে বসি! আল্লাহ যেখানে "দাঁড়ি" দিয়েছেন সেখানে আমরা "কোয়েশ্চান মার্ক" বসিয়ে দেই!

"কেনো এমন হলো?এত দোয়া করলাম,এত নামাজ পড়লাম তবুও আমার সাথে এমন হলো কেনো?আর পড়বোই না নামাজ(!)"

যাদের একটু দ্বীনের বুঝ আছে তারা কখনোই এমন প্রলাপ বকতে পারে না।বকেও না।তবুও কোনো এক নাম না জানা ভাইরাস তাদের মগজ টাকে ছেঁকে ফেলতে চায়।নিউরনে নিউরনে ঢুকিয়ে দিতে চায় হতাশার বীজ।

আচ্ছা আমাদের নবী রাসূলগণের উপর যখন পরীক্ষা আসতো কি করতেন তাঁরা?তখন তাঁদের আচরণই বা কেমন ছিল আমরা কি তা জানি?যাঁরা জানি তাঁরা নিজেদের জীবনের কঠিন মুহূর্তে কতবার মনে করি সোনালি যুগের সেই দিনগুলোর কথা?

❝কোনো মুসিবতের মুখোমুখি হলেই আইয়ূব (আলাইহিস সালাম) বলতেন,"হে আল্লাহ!তুমিই নাও,তুমিই দাও।আমার (দেহে) যতদিন প্রাণ থাকে ততদিন আমি তোমার দেওয়া মুসিবত অনুযায়ী তোমার প্রশংসা করে যাবো।"[রাসূলের চোখে দুনিয়াঃপৃ-১৪৬]❞

ইনি হচ্ছেন সেই আইয়ুব আলাইহিস সালাম যাঁকে বছরের পর বছর রোগে ভুগতে দেখে বনী ইসরাঈলের একদল লোক মন্তব্য করেছিল,"নিশ্চই বড় কোনো পাপের ফলে তাঁর এই অবস্থা হয়েছে"!আমাদের চারপাশেও আজকাল এমন কিছু মানুষ দেখা যায় যাদের ধারণা আল্লাহ কেবল শাস্তিস্বরূপ পাপীদেরকেই পরীক্ষায় ফেলেন।আর ভালো মানুষদের বিপদআপদে ফেলেন না।কিন্তু এই ধারণাটা কতটুকু সত্যি দেখে নেই কিতাবুয যুহদ এর একটা হাদিস থেকেঃ

❝মুসআব ইবনু সাদ(রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন,তিনি বলেন আমি জিজ্ঞাসা করলাম,"হে আল্লাহর রাসূল!মানুষের মধ্যে কে সবচেয়ে কঠিন বিপদ-মুসিবতের মুখোমুখি হয়?" জবাবে তিনি বললেন,"নবীগণ,তারপর ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ,তারপর তাঁদের অনুরূপ লোকজন,অতঃপর তাদের অনুরূপ লোকজন।মানুষকে তার দ্বীন অনুপাতে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়- তাঁর দ্বীন পালনে দৃঢ়তা থাকলে তাঁর বিপদ-মুসিবত বাড়িয়ে দেওয়া হয়,আর দ্বীন পালনে নমনীয়তা থাকলে তার বিপদ-মুসিবত হাল্কা করে দেওয়া হয়।বান্দা যতদিন দুনিয়ায় বিচরণ করে ততদিন তার পরীক্ষা চলতে থাকে,যতক্ষণ না সে পাপমুক্ত হচ্ছে।"[পৃ-১১৭]❞

আমাদের নবী রাসূলগণকে যখন পরীক্ষা করা হতো তখন তাঁরা আমাদের মতো অধৈর্য হয়ে যেতেন না।বরং আল্লাহর দেওয়া মুসিবত অনুযায়ীই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন।

এ তো গেলো বিপদ-মুসিবতের কথা।কিন্তু এগুলো ছাড়াও আমাদের নবী রাসূলগণের চোখে কেমন ছিল এই দুনিয়া?কিভাবে দেখতেন তাঁরা এই দুনিয়াকে?

❝ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,নাবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,এ দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক?এ দুনিয়ার সাথে আমার দৃষ্টান্ত হলো এমন এক অশ্বারোহীর ন্যায় যে প্রচন্ড গরমের একদিন একটি গাছের ছায়ায় ঈষৎ নিদ্রা গেলো,তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো।"[পৃ-৪২]❞

আরেকটা হাদিসে এসেছে - ❝আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,একটি মৃত ভেড়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবিগণকে জিজ্ঞাসা করলেন,"তোমরা কি দেখতে পাচ্ছো এটি তার মালিকের নিকট কতো তুচ্ছ?" তাঁরা বললেন,"হ্যাঁ,হে আল্লাহর রাসূল!" তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,"তাঁর শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ!(ভাগাড়ে) ফেলে দেওয়ার সময় মালিকের নিকট এ ভেড়াটি যতো তুচ্ছ মনে হয়েছে আল্লাহ তা'আলার নিকট দুনিয়া তার চেয়েও অধিক তুচ্ছ।"[পৃঃ ৭০]❞

আখিরাত যদি একটা মহাসাগর হয় তাহলে দুনিয়া হচ্ছে সেই মহাসাগরের এক ফোঁটা জল।সেজন্য আমাদের নবী রাসূলগণ দুনিয়াকে তুচ্ছ মনে করে আখিরাতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।অথচ আমরা আজ আখিরাতের চাইতে দুনিয়াকেই বেশি প্রাধান্য দেই।যেখানে দুনিয়ার দুঃখ কষ্টের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে জান্নাতকে সেখানে কিভাবে আমরা দুনিয়াতে সুখের আশা করতে পারি!

❝আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,সেই তো সফল যে [আল্লাহর নিকট] আত্মসমর্পণ করেছে,যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু জীবনোপকরণ লাভ করেছে এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতেই সে পরিতৃপ্ত হয়েছে।"[পৃ-৪৩]❞

বইটা পড়ার পর আপনি নিজেই নিজেকে একটা প্রশ্ন করবেনঃ

-"আমার পরীক্ষার প্রশ্নটা কি নবী রাসূলগণের প্রশ্নের চাইতেও কঠিন?"

-তারপর মিলিয়ে দেখবেন নবী রাসূলগণ কিভাবে কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আর আপনি কিভাবে সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছেন!

এই বইটা আমাকে শিখিয়েছে শত পরীক্ষার মাঝেও কিভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হয়।যেকোনো বিপদে কেবল ধৈর্য ধরার নামই "সবর" না।বরং ধৈর্য ধরে কঠিন মুহূর্তেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পারার নামই হচ্ছে সবর।

আর বইয়ে এমন কিছু হাদিস আছে যা আপনার ডিপ্রেশনের সময় সাইক্রিয়াটিস্ট হিসেবে কাজ করবে,ইন শা আল্লাহ।

সমালোচনাঃ আল্লাহর ইচ্ছাতে অনুবাদক বইটা বাংলাতে অনুবাদ করায় এরকম একটা বই আমার পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে,আলহামদুলিল্লাহ।তবে পড়ার সময় আমার মনে হচ্ছিল উল্লিখিত হাদিসগুলো সিহাহ সিত্তার হাদিসগ্রন্থে খোঁজে বের করে সেগুলোর রেফারেন্স বইয়ে এড করে দিলে অনেক ভালো হতো।একটা হাদিসেও কেনো ঐ রেফারেন্সগুলো নেই সেটা অবশ্য বইয়ের শুরুতে অনুবাদক বলেছেন।এর কারণ হচ্ছে ঐ হাদিস গ্রন্থগুলো সংকলিত হয়েছে ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল(রহিমাহুল্লাহ) এর পর।তবুও যতটুকু সম্ভব সাধ্যমতো খোঁজে এড করে দিলে অনেক উপকার হতো।

যাহোক,প্রচ্ছদটা খুব ভালো লেগেছে।পড়ার সময় আমার এক কাজিনের পিচ্চি মেয়ে জিজ্ঞেস করতেছিল "বইয়ে দুনিয়ার রঙ এরকম কেন?" আমি তাকে দুনিয়ার চাকচিক্যময় প্রতারণা আর প্রকৃত অবস্থার কথা বলে বুঝালাম যে দুনায়াটা আসলেই এমন।ঠিক প্রচ্ছদের ছবির মতো.....

"(এখানে) তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তা অস্থায়ী দুনিয়ার জীবনের (সামান্য) ভোগ্যবস্তু মাত্র।আল্লাহর নিকট যা আছে তা উৎকৃষ্ট এবং স্থায়ী (আর তা হল) তাদের জন্য যারা ঈমান আনে এবং তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।"[সূরা আশ্-শূরাঃ ৩৬]

 

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই